সংবিধান সংশোধন: সংসদীয় কমিটিতে বিরোধীদলের সদস্য আহ্বান
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ২০:৪৪
জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। বুধবার (২৯ এপ্রিল) দেয়া প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে বিরোধীদল বলেছে, এই সংসদীয় কমিটিতে যোগদানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে তাদের সময় প্রয়োজন, কারণ তারা সংবিধান ‘সংস্কার’ চায়।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, তিনি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এর আগে সংবিধানে সংশোধনী আনার জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ১২ সদস্যের একটি তালিকা তৈরি করেছি, যার মধ্যে বিএনপি, গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা রয়েছেন।’
জাতীয় সংসদে বিরোধীদলের প্রতিনিধিত্বের অনুপাত তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘শতাংশের হিসাবে বিরোধীদলের ২৬ শতাংশ আসন রয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে আমরা পাঁচটি নাম চাইছি। আমরা ১২ জনের একটি তালিকা তৈরি করেছি—বিএনপি থেকে সাতজন ও অন্যান্য দল থেকে পাঁচজন। বিরোধীদল যদি পাঁচটি নাম দেয়, তাহলে আমরা আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) বিষয়টি উপস্থাপন করতে চাই এবং জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংশোধন বিষয়ক বিশেষ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।’
আইনমন্ত্রীর প্রস্তাবের পর ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বিরোধীদলীয় নেতাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে ১২ সদস্যের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে—বিএনপি থেকে সাতজন ও অন্যান্য দল থেকে পাঁচজন। আপনার বিরোধীদলের পক্ষ থেকে পাঁচটি নাম চাওয়া হয়েছে। ফলে, বিশেষ কমিটিতে ১৭ জন সদস্য থাকবেন। অনুগ্রহ করে আপনার পাঁচটি নাম দিন, যাতে গঠন প্রক্রিয়া এগিয়ে যেতে পারে।’
চিফ হুইপ সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমি তাকে বলেছি যে আমাদের নিজেদের মধ্যে আলোচনার বিষয় রয়েছে। ধারণাগত পার্থক্য আছে। আমরা এখনই কোনো মতামত দিতে পারছি না। আমরা পরে জানাবো। আজ হয়তো সেটা সম্ভব হবে না।’
তিনি বলেন, ‘আমরা (সংবিধান) সংস্কার চাই। কিন্তু এখানে সংশোধনী আনা হচ্ছে। আমাদের মধ্যে আগেও মতপার্থক্য ছিল এবং এখনও আছে। আমরা প্রস্তাবটি পেয়েছি এবং শুনেছি, কিন্তু আমরা পরে জবাব দেবো। এই মুহূর্তে আমরা কিছু বলতে চাইছি না।’
বিরোধীদলীয় নেতাকে ধন্যবাদ জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কোনো আপত্তি নেই। আমরা অপেক্ষা করব। আমরা জুলাই সনদের আলোকে সাংবিধানিক সংশোধনী নিয়ে এগিয়ে যাবো। পরবর্তী অধিবেশন পর্যন্ত অপেক্ষা করা যাবে।’
সংবিধান সংস্কার বা সংশোধনী বিরোধীদল ও শাসক দলের জন্য একটি বিতর্কিত বিষয় হয়ে রয়েছে।
বাংলাদেশের খবর/কেএইচ

