Logo

জাতীয়

চাপে পুরোনো বিদ্যুৎ কোম্পানি

Icon

এম এম হাসান

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬, ১৭:২৩

চাপে পুরোনো বিদ্যুৎ কোম্পানি

ছবি: সংগৃহীত

দেশের বিদ্যুৎ খাতে সরকারের নীতিগত পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর ওপর। ব্যয়বহুল রেন্টাল ও ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সরে এসে সরকার এখন এলএনজি, কয়লা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর উৎপাদনের দিকে ঝুঁকছে। ফলে পুরোনো ফার্নেস অয়েলনির্ভর কোম্পানিগুলোর আয় ও মুনাফায় চাপ বাড়ছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বেশির ভাগ বিদ্যুৎ কোম্পানির আয় কমেছে। সরকারের পক্ষ থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি (পিপিএ) নবায়নে অনাগ্রহের কারণে অনেক কেন্দ্র আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে কিছু কোম্পানির ঋণব্যয়ও বেড়েছে, যা মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

তবে আয় কমলেও কয়েকটি কোম্পানি সহযোগী বা অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানের আয় দেখিয়ে নিট মুনাফা বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। আবার কিছু প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ব্যয় ও আর্থিক ব্যয় কমলেও সে বিষয়ে পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, পুরোনো ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্র পরিচালনাকারী তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো এখন সবচেয়ে বেশি চাপে রয়েছে। অন্যদিকে গ্যাস বা এলএনজিনির্ভর তুলনামূলক দক্ষ কেন্দ্র পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো পরিস্থিতি তুলনামূলক ভালোভাবে সামাল দিচ্ছে।

বিদ্যুৎ খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্টিবিউশন কোম্পানির বিদ্যুৎ বিক্রি কমে যাওয়া ও আর্থিক ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তৃতীয় প্রান্তিকে মুনাফায় বড় ধাক্কা খেয়েছে। জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে কোম্পানিটির বিদ্যুৎ বিক্রি বাবদ আয় প্রায় ৩০ শতাংশ কমে ৬৭৪ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। এতে কোম্পানিটির নিট মুনাফা ৩৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ২৭৬ কোটি টাকায়। 

কোম্পানি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাসের দাম বাড়লেও বিদ্যুতের ট্যারিফ সমন্বয় না হওয়া এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) বিল পরিশোধে বিলম্বের কারণে কোম্পানিটির নগদ প্রবাহও দুর্বল হয়েছে।

সামিট পাওয়ার লিমিটেডের কয়েকটি কেন্দ্রের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন কমেছে। ফলে তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির বিদ্যুৎ বিক্রি বাবদ আয় প্রায় ২০ শতাংশ কমে ৬৫০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। তবে উৎপাদন ব্যয় কমে যাওয়ায় কোম্পানিটি ১১ শতাংশের বেশি মুনাফা বৃদ্ধি দেখিয়েছে। যদিও উৎপাদন ব্যয় কীভাবে কমেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি প্রতিষ্ঠানটি।

সবগুলো বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় আলোচিত তিন মাসে খুলনা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের তৃতীয় প্রান্তিকে কোনো আয় করতে পারেনি। তারপরও সহযোগী প্রতিষ্ঠানের আয় থেকে মুনাফা দেখিয়েছে কোম্পানিটি। একইভাবে জিবিবি পাওয়ার লিমিটেডেরও বিদ্যুৎ বিক্রি থেকে কোনো আয় ছিল না। তবে অ-পরিচালন আয় থেকে প্রতিষ্ঠানটি সামান্য মুনাফা দেখিয়েছে, যদিও তা আগের বছরের তুলনায় কম।

এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন বর্তমানে আর সরাসরি বিদ্যুৎ উৎপাদনে নেই। প্রতিষ্ঠানটি এখন বিদ্যুৎ প্রকৌশল সেবা দিচ্ছে। তৃতীয় প্রান্তিকে ঋণব্যয় তিন গুণ বেড়ে যাওয়ায় তাদের লোকসান আরও বেড়েছে। অর্থবছরের জানুয়ারি-মার্চ সময়ে ডরিন পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড সিস্টেমস লিমিটেডের বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে আয় কমলেও উৎপাদন ও আর্থিক ব্যয় হ্রাস পাওয়ায় মুনাফা বেড়েছে।

অন্যদিকে বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার লিমিটেড ও বারাকা পাওয়ার লিমিটেডের বেশির ভাগ বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় সহযোগী প্রতিষ্ঠানে নির্ভর হয়ে সামান্য মুনাফা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। এক্ষেত্রে দুটি কোম্পানিই উৎপাদন ব্যয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে, যা তাদের মুনাফায় টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করেছে।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্যুৎ খাত নিশ্চিত ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ নির্ভর আয় থেকে এখন কর্মদক্ষতাভিত্তিক আয়ে রূপান্তর হয়েছে। সরকারের নতুন জ্বালানি নীতি এ পরিবর্তনকে আরও দ্রুত করছে। এতে ভবিষ্যতে আধুনিক ও দক্ষ বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনাকারী কোম্পানিগুলো ভালো করার সম্ভাবনা তৈরি হলেও পুরোনো ও চুক্তিনির্ভর কেন্দ্রগুলোর মুনাফা আরো কমতে পারে।

বাংলাদেশের খবর/আরইউ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন