বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও জ্বালানি সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী জার্মানি
বিজনেস ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ১৭:৪৮
সংগৃহীত
বাংলাদেশে বিনিয়োগ এবং জ্বালানি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে জার্মানি। বুধবার (১০ জুন) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কক্ষে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং জার্মানির ফেডারেল ফরেন অফিসের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিষয়ক মহাপরিচালক ফ্রাংক হার্টম্যানের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ বিষয়টি উঠে আসে।
বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যমান বাণিজ্য সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি জ্বালানি রূপান্তর, সবুজ প্রযুক্তি, শিল্পায়ন এবং অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে উভয় পক্ষই আগ্রহ প্রকাশ করে।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হলো রপ্তানি খাত, বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্প। তবে দ্রুত কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উৎপাদনশীল বিনিয়োগ বৃদ্ধি এখন বাংলাদেশের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।
তিনি আরও বলেন, প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করায় নতুন শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে। এ লক্ষ্যেই সরকার বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে লাইসেন্স ও অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জ্বালানি খাত নিয়ে মন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কৌশলগত জ্বালানি মজুত সক্ষমতা বাড়াতে সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে ১০ হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতা গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং এ খাতে বিদেশি বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতাকে স্বাগত জানানো হবে।
জার্মানির ফ্রাংক হার্টম্যান বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং চলমান সংস্কার উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়ন দীর্ঘমেয়াদে টেকসই প্রবৃদ্ধির ভিত্তি তৈরি করবে। এ ক্ষেত্রে জার্মান সরকার ও দেশটির বেসরকারি খাত বাংলাদেশের পাশে থাকতে আগ্রহী।
তিনি আরও বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পরও বাণিজ্য সুবিধা অব্যাহত রাখতে জিএসপি প্লাস সুবিধা এবং সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা চলছে।
বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত রুডিগার লোটজ এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশেরখবর/আরকে

