Logo

জাতীয়

খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরানে গেলেন যারা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ১৫:৪৭

খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরানে গেলেন যারা

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা ও রাষ্ট্রীয় শোক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও প্রতিনিধিদল ত্যাগ করেছেন।

এর মধ্যে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ পাঁচ সদস্যের সফরসঙ্গীসহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-১২১ ফ্লাইটেওমানের মাসকটের উদ্দেশে রওনা হন। সেখান থেকে তারা ইরানে গিয়ে প্রয়াত নেতার রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।

স্পিকারের সফরসঙ্গীরা হলেন— স্পিকারের একান্ত সচিব ও উপসচিব এ বি এম রওশন কবির, রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান, রংপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল আমিন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কেরামত আলী এবং মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ উদ্দিন আহমদ হানজালা।

এদিকে সকাল ৭টা ৫৫ মিনিটে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক মো. নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতা ড. এস এম খালিদুজ্জামান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে টার্কিশ এয়ারলাইন্সের টিকে-৭১৩ ফ্লাইটে ইস্তাম্বুল হয়ে তেহরানের উদ্দেশে রওনা হন।

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফনকে কেন্দ্র করে ইরানজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।  ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া জানিয়েছেন, সামরিক বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশ থেকে আসা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত ইরানি বাহিনী  মোতায়েন করা হয়েছে। দেশের স্থল, নৌ ও বিমান বাহিনী সীমান্ত এলাকাজুড়ে তাদের উপস্থিতি বাড়িয়েছে, যাতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকে। ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশটির আকাশসীমায় সার্বক্ষণিক নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের যৌথ হামলায় নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।  মৃত্যুর চার মাস পর তার জানাজা ও দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান।  দেশটির ইতিহাসে এটাই সবচেয়ে বৃহত্তম রাষ্ট্রীয় জানাজা ও দাফন।

ছয় দিনব্যাপী এই জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান প্রতিবেশী দেশ ইরাকসহ পাঁচটি শহরে অনুষ্ঠিত হবে। শনিবার তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রার্থনা চত্বরে খামেনির জানাজার মাধ্যমে এই অনুষ্ঠান শুরু হবে। সোমবার তেহরানের রাস্তায় একটি মিছিল শুরু হবে। মিছিলটি ৭ জুলাই পবিত্র শহর কোমে এবং তারপর ইরাকের নজফ ও কারবালা শহরের দিকে যাবে।

আগামী ৯ জুলাই খামেনির মরদেহ তার নিজ শহর মাশহাদে দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়া হবে। ইরান এবং ইরানের বাইরে থেকে বহু মানুষ এই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় দেড় থেকে দুই কোটি শোকাহত মানুষ এতে অংশ নেবেন বলে তারা আশা করছেন এবং পুলিশ এই অনুষ্ঠানের জন্য উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে।

বাংলাদেশ, রাশিয়া, চীন, পাকিস্তান, ভারত, জর্জিয়া ও কিউবাসহ ৩০টিরও বেশি দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা এতে যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে ।  সেইসঙ্গে ৯০টি দেশের ধর্মীয় নেতারাও এতে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। 


বাংলাদেশের খবর/এইচআর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন