Logo

মতামত

ধর্ষণ থামাতে হলে কিছু নীতি মানতে হবে

Icon

মোমিন মেহেদী

প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬, ১৬:৩৭

ধর্ষণ থামাতে হলে কিছু নীতি মানতে হবে

মোমিন মেহেদী, ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ১১ বছরের মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এমন নির্মম সংবাদ ধর্ম নিয়ে চর্চাকারীদের বিরুদ্ধে পড়তে হবে তা অনেকের মতো আমিও প্রত্যাশা করি না। বরং চাই প্রতিটি মানুষ স্বচ্ছ ধারণা রাখুক ইসলাম সম্পর্কে। জানুক ইসলামে কোনো নীতিহীন-চরিত্রহীনের ঠাঁই নাই। কিন্তু তা না হয়ে উল্টো অল্প বয়সী মেয়েদেরকে বিয়ে করার নামে মেয়েদেরকে শিক্ষা বিমূখ করে বিয়ে উৎসবে মেতে উঠার চেষ্টা করছে। মেয়ের বয়সী শিশুদেরকে লাগাতার ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটাচ্ছে, ছেলের বয়সী শিশুদেরকে বলাৎকার করছে। সারাদেশে সাধারণ মানুষের মাঝে ধর্মীয় আলেমদের বিষয়ে ভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ছে। এই যখন অবস্থা, তখন কেবলই মনে পরছে আল্লাহ তা’য়ালা বলেছেন- ‘পড়, তোমার প্রভুর নামে; যিনি তোমায় সৃষ্টি করেছেন।’ এই শিক্ষাটা সুশিক্ষা না হওয়ায় একের পর এক ধর্ষণ-নিপীড়ন-বলাৎকারের পথে হাঁটছে। শুধু কি এখানেই শেষ, গৃহপরিচারিকা মায়ের ইসলামের প্রতি যে অগাধ বিশ্বাস, সেই বিশ্বাস থেকে মহিলা মাদ্রাসায় ভর্তি করানো ১১ বছর বয়সী শিশুটিকে দিনের পর দিন নির্মমভাবে ধর্ষণ করেছে ও মাদ্রাসার বড় হুজুর। অনেক কষ্ট-দুঃখ ভোগার পরে ওই ছাত্রী সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ায় মামলা দায়ের করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার। অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষকের নাম মাওলানা আমান উল্লাহ সাগর। তিনি হযরত ফাতেমা তুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদরাসার পরিচালক ও বড় হুজুর।  এখনো আটক হয়নি ধর্ষক। যদিও ভুক্তভোগীর মা আমান উল্লাহ সাগরকে প্রধান ও একমাত্র আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামের মৃত শামসুদ্দিন মিয়ার ছেলে। শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর মদন উপজেলার পাঁচহার গ্রামে ২০২২ সালে হযরত ফাতেমা তুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। একই মাদ্রাসাতে তার স্ত্রীও প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত আছেন। ভুক্তভোগীও একই এলাকার বাসিন্দা। মেয়েটির মাকে ছেড়ে গেছে তার বাবা। জীবিকার তাগিদে শিশুটির মা সিলেটে গৃহ পরিচারিকার কাজ করেন। ভুক্তভোগী শিশুটি তার নানির কাছে থেকে ওই মাদ্রাসায় লেখাপড়া করতো। এই লম্পট চরিত্রহীন নিজের স্ত্রীর জ্ঞাতসারেই এই ধর্ষণ কর্ম করেছে বলে স্থানীয়রা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন। 

চিকিৎসকের তথ্যানুযায়ী ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর ওই মেয়েটিকে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনা কাউকে জানালে প্রাণনাশের ভয় দেখান ওই মাদ্রাসা শিক্ষক। পরবর্তীতে এপ্রিল মাসের ১৮ তারিখে ওই শিক্ষক ছুটিতে যাওয়ার পর আর মাদ্রাসায় আসেননি বলে জানিয়েছেন মাদ্রাসার আরেক শিক্ষক। আর ভুক্তভোগী ছাত্রী গত পাঁচ মাস ধরে মাদ্রাসায় আসা বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন দেখে সন্দেহ হয় পরিবারের। তখন তার মা সিলেট থেকে এসে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারেন ঘটনা। শিশুটি মাদ্রাসার শিক্ষকের দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে জানায়। এরপর শিশুটিকে নিয়ে মদন উপজেলার বেসরকারি মেডিকেলে গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. সায়মা আক্তারকে দেখান। তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান, মেয়েটি পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এ বিষয়ে ডাক্তার সায়মা আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, বাচ্চাটি তার মায়ের সঙ্গে ক্লিনিকে আসে এবং জানায় যে তার পেট সবসময় ভারী লাগে এবং পেটের ভেতর কিছু একটা নড়াচড়া করছে বলে মনে হয়। চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা করে দেখতে পান যে বাচ্চাটি প্রচণ্ড রক্তশূন্যতায় ভুগছে। তার শরীরে রক্ত নেই বললেই চলে। চিকিৎসক গণমাধ্যমকে বলেছেন, ১১ বছর বয়সী এই শিশুটির আসলে একজন শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাকে গাইনোকোলজিস্টের কাছে আসতে হয়েছে এমন একটি সমস্যা নিয়ে, যা সাধারণত প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে দেখা যায়। মেয়েরা জন্মের সময় থেকেই ডিম্বাশয়ে ডিম্বাণু নিয়ে জন্মায়। সাধারণত ১১-১২ বছর বয়সে এই ডিম্বাণুগুলো পূর্ণতা পায় এবং প্রথম মাসিকের মাধ্যমে তার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। শিশুটি তার জীবনের প্রথম মাসিক হওয়ার অভিজ্ঞতা পাওয়ার আগেই গর্ভবতী হয়ে পড়েছে। এই অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির কারণে শিশুটি এবং তার পরিবার বর্তমানে এক গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

এই ধর্ষণকাণ্ড নিয়ে বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক মাওলানা সালাহউদ্দিন জাহাঙ্গীর লিখেছেন, মহিলা মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হয়ে ১২ বছরের এক মাদ্রাসা ছাত্রী গর্ভবতী হয়ে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমি ময়মনসিংহের একজন বিজ্ঞ আলেমের সঙ্গে ফোনে কথা বললাম। তিনি নিজেও ময়মনসিংহ সিটিতে বৃহৎ মহিলা মাদ্রাসা পরিচালনা করেন এবং ময়মনসিংহ জেলার আলেমদের সবচেয়ে প্রভাবশালী সংগঠন ‘ইত্তেফাকুল উলামা ময়মনসিংহ’-এর অন্যতম নেতা। আমি তাকে অনুরোধ করলাম ঘটনার সত্যতা কী সেটা জানতে এবং যদি সত্য হয়ে থাকে তাহলে এ ব্যাপারে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়, সে ব্যাপারে জানাতে! তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আসলে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে এবং কোন প্রতিষ্ঠান পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, তেমন কোনো অথরিটি আমাদের কওমি মহলে নেই। তিনি আফসোসের সঙ্গেই জানালেন, সদ্য দাওরা পাশ করে একজন আলেম একটা ফ্ল্যাট বা গুদাম ভাড়া নিয়ে মাদ্রাসা শুরু করে দিয়েছে। কারো কোনো অনুমোদন বা নিবন্ধনের প্রয়োজন পড়ে না। কোনো ধরনের ক্রাইটেরিয়া মেইনটেইনের বাধ্যবাধকতা নেই। ইচ্ছা হলো আর অমনি সাত হাজার টাকা দিয়ে একটা দুই-তিন রুমের ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে মাদ্রাসা শুরু করে দিলেন। আমরা কিছুদিন আগে এমন কিছু মাদ্রাসায় গিয়ে তাদেরকে মাদ্রাসার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেছিলাম। মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ক্ষেপে গিয়ে বললেন, আমার বাপের টাকা দিয়ে আমি মাদ্রাসা করেছি, আপনার কাছে জবাবদিহি করব কেন? এই হলো যেখানে সেখানে মহিলা মাদ্রাসা গজিয়ে ওঠার একটা কমন প্রবণতা এবং একশ্রেণির জারজ সেই প্রবণতার ফাঁক গলে কোমলমতি শিশু-কিশোরীদের ওপর নিজেদের কুপ্রবৃত্তি চরিতার্থ করছে। সেদিন এক সাংবাদিক বন্ধু বেশ কনফিডেন্সের সঙ্গে একটা দাবি উত্থাপন করলেন, তিন বছর বয়সী এমন কোনো মাদ্রাসা দেখান যেখানে এ ধরনের ধর্ষণ বা বলাৎকারজনিত কোনো ঘটনা ঘটেনি। হয়তো জনসম্মুখে প্রকাশ হয়নি, কিন্তু অভ্যন্তরে এমন ঘটনা ঘটেছে এটা নিশ্চিত। এই হারামখোরদের রুখতে হবে। কীভাবে রুখতে হবে বা কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে, সে ব্যাপারে আপনারা জানাবেন। এ বিষয়ে আমার চেয়ে আপনারা অনেক বেশি বিজ্ঞ ও ওয়াকিবহাল। তবে একটি বিষয় মনে রাখবেন। মাদ্রাসার এসব অনৈতিক-অনাচারের বিরুদ্ধে আপনি-আমি যত বেশি চুপ থাকব, হারামখোরেরা তত বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠবে। ঘটনা জেনেও আপনার নিশ্চুপ থাকা মানে আপনি আরেকজন ফাতেমা বা ফারজানার ধর্ষণের পথকে সুগম করে দিলেন। তাই আপনার চুপ থাকা কখনোই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে সুসংহত করে না, বরং আপনার নিশ্চুপ থাকার বিষয়টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে কলুষিত করা সহজ করে দেয়।’ 

আমি মনে করি এভাবে বাংলাদেশে সর্বস্তরের মানুষদের সচেতন হওয়া উচিৎ। একজন ধর্মীয় আলেম কোনোভাবেই ইসলামের মহাত্মকে ধ্বংস করার জন্য নিকৃষ্টতর কর্মকাণ্ডে মেতে উঠতে পারে না। যারা এমনটা করবে, তাদের শাস্তি যেন আর বিলম্বিত না হয়, সেই লক্ষ্যে প্রমাণিত ধর্ষকের তিন মাসের মধ্যে ফাঁসির দাবি কার্যকর করার দাবি যেমন ‘মানবাধিকার বাংলাদেশ’ জানিয়েছে; তেমনই আমি ব্যক্তিগতভাবে এই দাবিতে সোচ্চার আছি-থাকবো যতদিন না সরকার দাবি মেনে ‘প্রমাণিত ধর্ষকের’ তিন মাসের মধ্যে ফাঁসি কার্যকর করার উদ্যোগ গ্রহণ না করবে। অবশ্য মাদ্রাসা শিক্ষক হওয়া স্বত্বেও অনেকটা আমার মতো করেই ভাবছেন মুফতি আমির ইবনে আহমদ। তিনি লিখেন- সাম্প্রতিককালে কোনো কোনো মহিলা মাদ্রাসার অপ্রীতিকর ও ন্যাক্কারজনক কিছু ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, যা লজ্জাজনক ও অমার্জনীয় অপরাধ। এইসব অপরাধের সঠিক তদন্ত না হওয়া ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না হওয়ায় অপরাধীরা আস্কারা পাচ্ছে। একটি উপকারী শিক্ষা আয়োজনকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে, কলঙ্কিত করছে। 

একথাও সত্য যে, দায়িত্বশীল উলামায়ে কেরাম ও  কওমি অঙ্গনের গ্রহণযোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলো এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়ায় দ্বীনি এই শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে আস্থার সংকট তৈরি হচ্ছে, অভিভাবকগণ বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়ছে; যারা মুক্ত হস্তে দান করে এই সকল মাদ্রাসা পরিচালনায় ভূমিকা রাখেন সেই ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের স্রোতে গা ভাসিয়ে এই প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করার আওয়াজও উঠছে। আমি মনে করি- মহিলা মাদ্রাসাগুলো নিয়ন্ত্রিত হওয়া প্রয়োজন। শিক্ষার মান, পর্দা ব্যবস্থা, পাঠদান পদ্ধতি, পরিচালনা ও অভ্যন্তরিণ ব্যবস্থা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা সর্বোপরি অভিজ্ঞ আলেমদের সরাসরি তত্ত্বাবধানকে বাধ্যতামূলক করার মাধ্যমে জবাবদিহি নিশ্চিত করা। সেই সাথে সবাইকে মনে রাখতে হবে- টুপি দাড়িওয়ালা লোকরা কেমনে এসব কাজ করে? দেখুন, আল্লাহ তা’আলা এবং নবীজি (সা.) কেবল উপদেশ দেননি, কেবল তাকওয়ার ওয়াজই করেননি, বরং শাস্তির ব্যবস্থাও রেখেছেন। যেমন চুরি করলে হাত কাটা যাবে, জিনা করলে মৃত্যুদণ্ড। আখেরাতের ভয়ের পাশাপাশি দরকার দুনিয়ার শাস্তি এবং ভয়। যেসব মহিলা মাদ্রাসার কমিটি নেই, তদারকি ও তদন্ত নেই, পরিচালক ও শিক্ষকদের জবাবদিহি নেই, যেখানে পরিচালক প্রভাবশালী, সেসব মাদরাসায় এসব অপ্রীতিকর ঘটনা বেশি ঘটে। ছাত্রীদের সাথে যেমন ঘটে, তদ্রূপ শিক্ষিকাদের সাথেও ঘটে, এমনকি এটাই নাকি বেশি। মিউচুয়াল ঘটনাগুলো সামনে আসে না এবং জোরপূর্বক হলেও অনেক মানসম্মানের ভয়ে সামনে আনে না। কোনো ঘটনা অস্বাভাবিক হলে কিংবা মনোমালিন্য হলেই সামনে আসে। এমতাবস্থায় অন্য ধর্মীয় আলেমদের সাথে একমত হয়ে একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমিও কিছু প্রস্তাবের সাথে সহমত পোষণ করছি। যেমন- কেউ ইচ্ছা করলেই মহিলা মাদ্রাসা করতে পারবে না। কেউ আগ্রহী হলে শিক্ষাবোর্ডে আবেদন করবে, তারা তদন্ত পুলিশ-প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট এলাকার শিক্ষা কর্মকর্তার মতামতের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট নীতিমালার আলোকে অনুমতি পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করবে। অনুমোদন ছাড়া কেউ মহিলা মাদ্রাসা করতে পারবে না। ভাড়া প্রতিষ্ঠান হলেও কমিটি থাকতে হবে। আলেম সমাজ, শিক্ষিত সমাজ, দ্বীনদার এলাকাবাসী মিলে কমিটি হবে। শিক্ষাবোর্ডে মহিলা মাদ্রাসা অণুবিভাগ নামে স্ততন্ত্র বিভাগ থাকবে। তাদের কাছে অভিযোগ জমা দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট হোয়াটসঅ্যাপ/ইমু নম্বর থাকবে, যেন যে কেউ যে কোনো সময় অভিযোগ জানাতে পারে। শিক্ষাবোর্ড-এর পাশাপাশি স্থানীয় শিক্ষা কর্মকর্তাও দ্বারা তদারকি করা হবে, তারা নির্দিষ্ট নীতিমালা পালন করছে কি না? আবাসিক মহিলা মাদ্রাসা অনুমোদন দেয়া হবে না। প্রত্যেক শিক্ষক ও শিক্ষিকার নিবন্ধন নম্বর থাকবে। শিক্ষাবোর্ডের ওয়েবসাইটে তাদের সকল তথ্য থাকবে। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তিনি আর শিক্ষকতা করতে পারবেন না। বাংলাদেশের কোথাও না। মহিলা মাদ্রাসার কোনো পরিচালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সে আর জীবনে মাদ্রাসা পরিচালনা করতে পারবে না। অন্য কাজ করবে। এমন কঠোর নিয়ম করতে হবে। ধর্ষণ, ব্যভিচার, বলাৎকার ইত্যাদি ফৌজদারি অপরাধ হলে তাকে আইনের আওতায় এনে তিন মাসের মধ্যে ফাঁসির রায় কার্যকর করতে হবে।  

এত এত প্রস্তাবনার পরও আমি শঙ্কিত একজন নাগরিক হিসেবে; কারণ পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুসারে, গত এক বছরে দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলার সংখ্যা ২৫ শতাংশ বেড়েছে। এ সময়ে ধর্ষণের মামলা বেড়েছে ২৭ শতাংশের বেশি। গত বছর নারী নির্যাতনের যত মামলা হয়েছে, প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ধর্ষণের অভিযোগে। আর তার অধিকাংশই ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, ধর্মীয় পোষাক-আশাক ও পরিবেশে হচ্ছে বলেই গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে জানতে পারছি। সাম্প্রতিক সময়ে নিশ্চয়ই আপনারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খেয়াল করেছেন একজন নারী হেঁটে যাচ্ছিলেন, পেছন থেকে এসে একজন ধর্মীয় পোশাকধারী ব্যক্তি বোরকা আবৃত নারীটির বুকের স্পর্শকাতর স্থানে চাপ প্রয়োগ করে দৌড় দেয়। এমন একটা ভয়ংকর সময় থেকে জাতিকে মুক্ত করতে হলে সকল নারী-পুরুষের বেলায়-ই একটা বার্তা দিতে চাই তা হলো- নিজেদের লজ্জাস্থান ও চোখকে সংযত রাখুন। সেই সাথে পুলিশ-প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান বিচারের সংস্কৃতি চর্চা করুন। অপরাধী যেই হোক আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা করুন। তা হলে কিছুটা হলেও কমবে অপরাধ-ধর্ষণ-খুন-বলাৎকার। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ বাংলাদেশ শান্তিতে-সমৃদ্ধিতে এগিয়ে চলুক মা-বোন-ভাই সবাইকে সাথে নিয়ে নির্ভয়ে...

লেখক: সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ। 

বাংলাদেশের খবর/আরইউ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন