মজিবুর রহমান মঞ্জু
চব্বিশ হলো একাত্তরের অর্জনকে পুনঃস্থাপন করার সংগ্রাম

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২৫, ১৪:৪১

আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, অনেকে বলেন যে একাত্তর এবং চব্বিশ কি এক? না, অবশ্যই এক না। একাত্তর ছিল স্বাধীনতার সংগ্রাম, আর চব্বিশ হচ্ছে আমাদের স্বাধীনতা ও স্বাধীনতার অর্জনকে পুনঃস্থাপন করার সংগ্রাম।
বুধবার (২৬ মার্চ) মহান স্বাধীনতা দিবসে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘কিন্তু অদ্ভুত একটা মিল আছে। সেটা হচ্ছে, এখানেও গণহত্যা হয়েছে এবং গণহত্যার প্রেক্ষিতে আপামর জনসাধারণ রাজপথে নেমে এসেছে। তারই ভিত্তিতে বাংলাদেশ নতুন করে জন্ম নিয়েছে এবং নতুন একটা প্রত্যাশার সামনে আমরা এসেছি। এখন বিরাট একটা চ্যালেঞ্জ ও প্রত্যাশার চাপ আমাদের সামনে আছে ‘
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের আপাতত যেই চ্যালেঞ্জটা সামনে আছে—দেশে শান্তিশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, তারপর আসছে একটা বিচারব্যবস্থা করা—যারা এই খুন, গুম করেছে তাদের বিচার করা। তৃতীয়ত, আমরা যেই সংস্কারের স্বপ্ন দেখেছি, সংস্কার করে রাষ্ট্রকে একটা নতুন জায়গায় নিয়ে যাওয়া। সবশেষে একটা সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের ব্যবস্থা করা।’
মঞ্জু বলেন, ‘আমরা মনে করি, এই চারটি কাজ যদি আমরা করতে পারি, তাহলে বাংলাদেশ একটা রাইট ডিরেকশনে দাঁড়াবে। আগামী দিনে আমরা আমাদের স্বাধীনতার স্বপ্ন, আমাদের চব্বিশের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারব।’
মুজিবুর রহমান মঞ্জু আরও বলেন, ‘নতুন করে একটা প্রত্যাশা, নতুন করে একটা শপথ নিই। আমাদের স্বাধীনতা দিবসটা আমাদের জন্য সেরকম। আমাদের দেশটা যখন জন্ম নিয়েছিল একটা শিশুর আকারে, তখন আমাদের যেই প্রত্যাশা ছিল, বড় হতে হতে অনেক প্রত্যাশার স্বপ্ন আমাদের মিস হয়েছে, অনেক স্বপ্ন আমরা না পাওয়ার বেদনায় ডুবে গেছি। এমনকি এই না পাওয়ার বেদনার অনেক জমতে জমতে আমরা নব্বইয়ে একটা গণঅভ্যুত্থান করেছিলাম।’
তিনি বলেন, ‘সর্বশেষ দীর্ঘ ১৫ থেকে ১৬ বছরের একটা অন্ধকার যুগ পেরিয়ে চব্বিশের ৫ আগস্ট আমরা আরেকটা নতুন প্রেক্ষাপট পেয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘সত্তরের নির্বাচন নিয়ে যেই ষড়যন্ত্র হয়েছিল, বিজয়ী হওয়ার পরও বাংলার মানুষকে ক্ষমতায় বসতে দেওয়া হয়নি এবং এরপর ২৫ মার্চ যেই গণহত্যা চালানো হয়েছে, তার একটা ব্যাকল্যাশ হয়েছে ২৬ মার্চ এবং ৯ মাসের দীর্ঘ একটা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ।’
- আরিফুল ইসলাম সাব্বির/এমজে