Logo

রাজনীতি

গণভোটের রায়ে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট খারিজ হয়ে গেছে

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:০৮

গণভোটের রায়ে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট খারিজ হয়ে গেছে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, দুর্নীতি দমন কমিশন ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগসহ প্রত্যেকটি সাংবিধানিক পথই হলো সংস্কারের মূল কাঠামো। এগুলো সংস্কার করা না হলে রাষ্ট্র আবারও ফ্যাসিবাদের দিকে ধাবিত হবে। কিন্তু আপনারা সেখানে ‘না’ বলেছেন। অথচ জনগণকে শুভঙ্করের ফাঁকি দিয়ে বলছেন-আমরা মেনে নেব।

তিনি আরও বলেন, ৫ কোটি মানুষ সরাসরি ভোট দিয়ে আপনাদের সেই ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (ভিন্নমত) খারিজ করে দিয়েছে। জনগণের সেই সামনে আপনাদের ওই আপত্তির কোনো কার্যকারিতা নেই।

শনিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত জাতীয় সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

গোলাম পরওয়ার বলেন, গণভোটের ব্যালটে যে চারটি প্রশ্ন সেখানেও নোট অব ডিসেন্ট নেই। তার অর্থ হলো গণভোটের পুরা রায় আপনাকে মানতে হবে। তাই জুলাই আহত শহীদরা আজকে চোখের পানি ফেলে দেড় বছর পর কেন আপনি প্রধানমন্ত্রী আপনার কাছে আবেদন জানাবে? বিলম্ব না করে পার্লামেন্ট চলমান আছে। এই পার্লামেন্টে আপনি সংবিধান সংস্কারের পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করার সুযোগ আছে। 

তিনি বলেন, আপনি ডাকুন, শপথ গ্রহণ করুন এবং গণভোটের ফলাফল অনুযায়ী সংস্কারের প্রস্তাবকে মেনে নিয়ে সংবিধানের তফসিল অন্তর্ভুক্ত করুন। তাহলেই শহীদদের রক্ত এই আকাঙ্ক্ষা আত্মদান তখন সফল হবে। তা না হলে আবার যদি রক্ত আন্দোলনের দিকে শহীদদের ঠেলে দেন, জাতির কাছে আপনাদের নির্মম পরিণতি বরণ করতে হবে। 

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ৫ আগস্টের বিপ্লব থেকে আপনাদের শিক্ষা নিতে হবে। আমি আজকের এই ময়দানে উপস্থিত সবাইকে আহ্বান জানাবো ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ সমাবেশ মিছিল, সেমিনার গোল টেবিল দীর্ঘ কর্মসূচি শুরু হয়েছে, জাতীয় সংসদে আমাদের নেতারা লড়াই করবেন। রাজপথেও লড়াই চলবে। জুলাইয়ে রক্তের এই মূল্য না পাওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে।

এর আগে, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কার এবং জুলাই সনদকে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধাদের নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় সমাবেশ হয়। গতকাল সকাল ১০টায় সারাদেশের জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য এবং জুলাইযোদ্ধাদের নিয়ে এই জাতীয় সমাবেশ শুরু হয়।

ক্বারী এনায়েত উল্লাহ সাইফির পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সমাবেশ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। কোরআন তেলয়াওয়াতের অনুবাদ করেন শরীফ বায়জীদ মাহমুদ। ইসলামী সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী মশিউর রহমান। সমাবেশের উদ্বোধনীতে বক্তব্য দেন জুলাইযোদ্ধা কামরুল হাসান। তিনি বলেন, কোনো প্রকার দাড়ি, কমা সেমিকোলন পরিবর্তন ছাড়াই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। যদি তা না করা হয়, তাহলে আবার সংসদ ঘেরাও করা হবে।

সমাবেশ পরিচালনা করছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। সমাবেশে উপস্থিত আছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, এ টি এম আজহারুল ইসলামসহ ১১ দলের শীর্ষ নেতারা।

এর আগে, শুক্রবার রাতে এক বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রাষ্ট্র সংস্কার করার জন্য এদেশের শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজার হাজার মানুষ চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হয়েছেন, রক্ত দিয়েছেন, আহত হয়েছেন ও পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। একই সঙ্গে জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশবাসী তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী গত ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোটে ‘হ্যাঁ’-তে প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছে। কিন্তু একই দিনে সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করলেও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে টালবাহানা শুরু করেছে, যা জুলাইযোদ্ধাদের প্রতি অসম্মান, অবহেলা এবং শহীদের রক্ত ও গোটা জাতির সঙ্গে বেইমানি।

গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, গণপ্রত্যাশার বিপরীতে গিয়ে ফ্যাসিবাদী কায়দায় অতীতে কোনো সরকার টিকে থাকতে পারেনি, করুণ পরিণতি বরণ করতে হয়েছে। আমি বর্তমান সরকারকে অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে জনপ্রত্যাশার আলোকে জুলাই শহীদদের রক্ত এবং আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের ত্যাগকে সম্মান জানিয়ে অতিদ্রুত গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আহ্বান জানাচ্ছি।


বাংলাদেশের খবর/এইচআর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন