Logo

রাজনীতি

দল পুনর্গঠনে জোর বিএনপির

Icon

এম. ইসলাম

প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৬, ১৬:৫৭

দল পুনর্গঠনে জোর বিএনপির

ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর সরকার গঠন করেছে বিএনপি। তবে শীর্ষ নেতারা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদ পাওয়ায় বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে ভাটা পড়েছে। দুই-তৃতীয়াংশ আসনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠনের পর বিএনপির সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ সরকার পরিচালনার পাশাপাশি দলকে গতিশীল রাখা। তবে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে মাঠের রাজনীতিতে বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে গতি কমেছে বলে মনে করছেন দলটির নেতাকর্মীরাও।

দলটির শীর্ষ নেতারা বলছেন, বিএনপির অধিকাংশ দায়িত্বশীল নেতা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং বড় অংশই মন্ত্রিসভা কিংবা প্রশাসনিক দায়িত্বে রয়েছেন। ফলে মাঠের রাজনীতিতে এক ধরনের নেতৃত্বশূন্যতা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক কর্মসূচির ঘাটতি এবং সাংগঠনিক নিষ্ক্রিয়তায় অনেক নেতাকর্মী কার্যত নিষ্প্রভ হয়ে পড়েছেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় দৈনিক বাংলাদেশের খবরকে বলেন, ‘নির্বাচনের পর বিএনপির কার্যক্রমের গতি কিছুটা কমেছে এটি স্বাভাবিক। কারণ, নতুন সরকার গঠনের পর দলের হাইকমান্ড সেদিকে ব্যস্ত ছিল। এ ছাড়া দলের লোক বেশির ভাগই সরকারে চলে গেছেন। দলের হাইকমান্ডের ভাবনায় বিষয়টি রয়েছে এবং দ্রুত সেদিকে নজর দেওয়া হবে।’ 

দল পুনর্গঠনে জোর: দলীয় হাইকমান্ড ইতোমধ্যে সাংগঠনিক পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খুব দ্রুতই এই প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে জানা গেছে। একাধিক সূত্র জানায়, বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শুরু করেছেন। এ ছাড়া মূল দলের প্রথমে জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। এরপর ধাপে ধাপে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি পুনর্গঠন করা হবে। 

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও  প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি গঠন করা সংগঠনের চলমান প্রক্রিয়া। জাতীয় কাউন্সিল হলে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতারা সামনে আসেন। দীর্ঘদিন হয়নি কাউন্সিল। এবার বড় আয়োজনে কাউন্সিল হবে।’ 

জানা গেছে, দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পর কাউন্সিল হওয়ার কথা থাকলেও সর্বশেষ কাউন্সিল হয়েছিল ২০১৬ সালে। প্রায় এক দশক পর এবার সপ্তম জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।

অঙ্গসংগঠনে মেয়াদোত্তীর্ণ নেতৃত্ব: বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর বেশির ভাগ কমিটিই দীর্ঘদিন ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এর ফলে সংগঠনগুলোর কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে এবং নতুন নেতৃত্বের দাবি জোরালো হয়েছে।

জাতীয়তাবাদী যুবদলের আংশিক কমিটি গঠিত হয় ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের আগে। আবদুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি এবং নুরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করা হলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি। এরই মধ্যে নুরুল ইসলাম নয়ন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী ও সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসানÑ দুজনই বর্তমানে সংসদ সদস্য। রাজীব আহসান প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে সংগঠনটির কার্যক্রমে নেতৃত্বের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

২০২৪ সালের মার্চে রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে সভাপতি ও নাছির উদ্দীন নাছিরকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করা হয়। তবে এই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ফেব্রুয়ারিতে। সাম্প্রতিক ছাত্রসংসদ নির্বাচনে ভরাডুবির পর সংগঠনটি পুনর্গঠনের দাবি আরও জোরালো হয়েছে।

২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে গঠিত কৃষক দলের কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে প্রায় দেড় বছর আগে। সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল বর্তমানে সংসদ সদস্য হওয়ায় সংগঠনে সক্রিয় নেতৃত্বের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

২০১৬ সালে আফরোজা আব্বাসকে সভাপতি ও সুলতানা আহমেদকে সাধারণ সম্পাদক করে গঠিত মহিলা দলের কমিটি এখনো বহাল রয়েছে। প্রায় এক দশক ধরে একই কমিটি দিয়ে চলছে সংগঠনটি।

২০১৪ সালের জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে গঠিত শ্রমিক দলের কমিটির মেয়াদ ২০১৬ সালেই শেষ হয়েছে। এরপর আর কোনো কাউন্সিল হয়নি।

২০১৩ সালের কাউন্সিলের মাধ্যমে গঠিত এই সংগঠনের কমিটি এক যুগের বেশি সময় ধরে বহাল রয়েছে। ২০১৯ সালে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হলেও ২০২৪ সালে তা বিলুপ্ত করা হয়। এরপর এখনো নতুন কমিটি গঠন হয়নি। ২০১৯ সালে গঠিত আহ্বায়ক কমিটির মেয়াদ ২০২২ সালে শেষ হয়েছে। এরপর নতুন কমিটি হয়নি। ২০২১ সালে গঠিত আহ্বায়ক কমিটি তিন বছরের মেয়াদ অতিক্রম করে এখন প্রায় পাঁচ বছর ধরে চলছে।

ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির বলেন, ‘অঙ্গসংগঠনগুলোর পুনর্গঠন শিগগিরই শুরু হবে বলে অনেকেই বলছেন। তবে,  চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তিনি যখন চাইবেন, তখনই কমিটি হবে।’

নেতৃত্বশূন্যতার প্রভাব ও সামনে চ্যালেঞ্জ: সংগঠনের অনেক শীর্ষ নেতা এমপি বা মন্ত্রী হওয়ায় অঙ্গসংগঠনগুলোতে কার্যকর নেতৃত্বের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এতে তৃণমূল পর্যায়ে হতাশা বাড়ছে। তৃণমূল নেতাদের ভাষায়, একসঙ্গে সরকার ও দল চালানো কিছুটা হলেও কঠিন। মাঠের রাজনীতি ধরে রাখতে সার্বক্ষণিক নেতৃত্ব দরকার।

দলীয় নেতারা মনে করছেন, সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো অপরিহার্য। তাই জাতীয় কাউন্সিল ও অঙ্গসংগঠন পুনর্গঠনের মাধ্যমে দলকে নতুনভাবে সাজানো এখন বিএনপির জন্য সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।

ক্ষমতায় আসার পর সৃষ্ট সাময়িক স্থবিরতা কাটিয়ে সংগঠনকে পুনরুজ্জীবিত করতে বড় ধরনের সাংগঠনিক রদবদলের পথে হাঁটছে বিএনপি এমন আলোচনা এখন সর্বত্র।

বাংলাদেশের খবর/আরইউ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন