সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে কারা আলোচনায়
স্বেচ্ছাসেবক দলে আসছে নতুন নেতৃত্ব!
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬, ১৬:৩২
দলীয় কার্যক্রম গতিশীল রাখা এবং তৃণমূল পর্যায়ে তা আরও জোরদার করতে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর কমিটি পূর্ণগঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটির নেতৃত্বে কারা আসতে পারেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
দলের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, নতুন কমিটি গঠনের কাজ চলছে। কমিটির ‘সুপার ফাইভে’ কারা স্থান পেতে পারেন, সে বিষয়ে দলের হাইকমান্ড খোঁজখবর নিচ্ছেন। দলের শীর্ষ পর্যায়ের সিদ্ধান্তে দ্রুতই নতুন কমিটি চূড়ান্ত হতে পারে।
সংগঠনের নেতারা জানান, বর্তমান সভাপতি এস এম জিলানী এবং সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর সাংগঠনিক কার্যক্রমে তাদের সময় দেওয়ার বিষয়টি সীমিত হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি বর্তমান কমিটির মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে। এমন প্রেক্ষাপটে স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটি গঠনের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
নেতারা আরও জানান, সম্প্রতি বিএনপির চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী, সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান, সিনিয়র সহসভাপতি ইয়াছিন আলী এবং সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান। সেখানে কমিটি পূর্ণগঠনের বিষয়ে আলোচনা হয়। এবারও নতুন ও পুরোনো নেতাদের সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ কমিটি গঠন করা হতে পারে। যারা দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয় ছিলেন এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন, তারাই শীর্ষ পদে অগ্রাধিকার পেতে পারেন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
কমিটি পুনর্গঠন প্রসঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান বলেন, “সংগঠনের কমিটি পুনর্গঠন একটি চলমান প্রক্রিয়া। এ বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।”
শীর্ষ পদে আলোচনায় যারা
সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি ইয়াসীন আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান, সহসভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিন এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি জহির উদ্দিন তুহিন।
অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম হাওলাদার সেতু। এছাড়া স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী মোক্তার হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক, উত্তরের সভাপতি শেখ ফরিদ এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফয়েজুল্লাহ ফয়েজসহ আরও কয়েকজন নেতা আলোচনায় রয়েছেন।
এ ছাড়া ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের মধ্যেও একাধিক নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল। পাশাপাশি ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির কয়েকজন নেতার নামও আলোচনায় এসেছে।
স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক পদে জোর আলোচনায় থাকা বর্তমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম হাওলাদার সেতু বলেন, “বিগত ১৭ বছরে আওয়ামী ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে থেকে জুলুম-নির্যাতন সহ্য করে যারা দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাদের দিয়ে কমিটি গঠন করা হলে তারা তৃণমূলকে সংগঠিত করে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে পারবেন। আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবক বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান স্বেচ্ছাসেবক দলকে আগামী দিনের রাজনীতিতে রাজপথের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে গড়ে তুলবেন এবং যোগ্য ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করবেন বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।”

