ভারতে কোনও ধর্ম-বর্ণ বা গোত্রকে টার্গেট করে যেন কারও কোনও ক্ষতি করা না হয় সে বিষয়ে ভারত সরকারকে আহ্বান জানাবেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এমনকি বিশ্বের যেকোনো স্থানে ধর্ম, বর্ণ বা পরিচয়ের ভিত্তিতে নিরীহ মানুষের ওপর নির্যাতনের বিরোধিতা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সরকার যদি ভালো কাজের উদ্যোগ নেয়, তাহলে আমরা সহযোগিতা করব। কিন্তু দেশের কোনো ক্ষতি হলে আমরা নীরবে বসে থাকব না বলেও জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা।
জাপান সফর শেষে শনিবার সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এসব মন্তব্য করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকারের কোনো ভুল হলে তাদের তা ধরিয়ে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। সরকার যদি ভালো কাজের উদ্যোগ নেয় তাহলে আমরা সহযোগিতা করব। কিন্তু যদি দেশের ক্ষতি হয়, আমরা নীরবে বসে থাকব না। আমরা আওয়াজ তুলব, প্রতিবাদ করব, প্রয়োজনে আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুলব। এটাই হবে দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে আমাদের কাজ।
জাপান বাংলাদেশকে নিয়ে অনেক চিন্তা করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সংসদ বিগত সংসদের থেকে ব্যতিক্রম বলে তাদের কাছে মনে হচ্ছে। বিরোধী দল যেমন সরকারের সমালোচনা করছে তেমনই তাদের সহযোগিতাও করছে। এভাবে যদি সবাই দেশকে ভালোবাসে তাহলে জাপানও বাংলাদেশের প্রতি সোহার্দ্য আরও বাড়িয়ে দেবে।
জামায়াত আমির বলেন, আমাদের দেশে বিপুল সংখ্যক ক্যান্সারের রোগী আছে, বাংলাদেশে তাদের ভালো চিকিৎসার ব্যবস্থা আমরা করতে পারিনি।
আমাদের যে দুই একটি ডেডিকেটেড ক্যান্সার হাসপাতাল রয়েছে, সেগুলো যথেষ্ঠ স্কিল্ড না হওয়ায় সঠিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। যার ফলে অধিকাংশ রোগীকে অনেক কষ্ট শিকার করে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে হয়। আর যাদের বিদেশ যাওয়ার সামর্থ নেই, ধীরে ধীরে তারা মৃত্যুর দিকে ঢলে পড়ে। ফলে জাপানকে আমরা আহ্বান জানিয়েছি তারা যেন আমাদের দেশে একটি ক্যান্সার ইন্সটিটিউট ও হাসপাতাল গড়ে তোলে।
তিনি আরও বলেন, শুধু যদি হাসপাতাল হয় তাহলে আমদের দেশের মানুষেরা জানার সুযোগ পাবেনা। তবে যদি ইন্সটিটিউট হয় তাহলে উচ্চ শিক্ষার দরজা খুলে যাবে এবং স্কিল্ড হয়ে গড়ে উঠবে। জাপান এই বিষয়টিকে সক্রিয় বিবেচনায় নিয়েছে। আমরা আশা করছি এই বিষয়ে তারা (জাপান) ইতিবাচক ভাবেই আগাবেন।
জুলাই যোদ্ধাদের প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, থাইল্যান্ডে এখন জুলাই যোদ্ধাদের ৬৪ জন অবস্থান করছেন, আগে অনেক বেশি ছিলেন। তাদের মধ্যে কেউ এক বছর, কেউ দশ মাস, কেউ এগারো মাস সময়ব্যাপী তারা সেখানে অবস্থান করছেন। আমাদের নৈতিক দ্বায়বদ্ধতা, নাগরিক দায়িত্ব ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও মানবিকতার জায়গা থেকে তাদের দেখতে গিয়েছিলাম।
এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলেন এবং আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
বিরোধীদলীয় নেতা আহত জুলাই যোদ্ধাদের সাহস ও আত্মত্যাগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। পাশাপাশি তাদের দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে বিশেষ দোয়া করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গসহ পৃথিবীর যেকোনো জায়গায় নিরীহ মানবগোষ্ঠীর ওপর জুলুম করা হলে আমরা তার বিপক্ষে থাকবো। যে স্থানেই হোক, সবসময় মজলুমের পক্ষেই থাকবো আমরা।’
তিনি আরও বলেন, ‘কোনো ধর্ম-বর্ণ বা গোত্রকে লক্ষ্য করে যেন কারও ক্ষতি না করা হয়, সে বিষয়ে ভারত সরকারকে আহ্বান জানানো হবে।’
জাপান সফর প্রসঙ্গে জামায়াত আমির জানান, আট দিনের সফরে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাইস মিনিস্টারসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক আরও জোরদার করা, দক্ষতা উন্নয়ন, নগর অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ভূমিকম্প মোকাবিলা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বাংলাদেশের খবর/এইচআর

