Logo

ধর্ম

বরকত সিরিজ-৫

বরকতের চাবিসমূহ

Icon

উবাইদুল্লাহ তারানগরী

প্রকাশ: ০৬ মার্চ ২০২৬, ২৩:০১

৫. আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখা:

বিবাহ কিংবা জন্মগতসূত্রে আত্মীয়তার সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়। ইচ্ছা-অনিচ্ছায়, অবহেলায় কিংবা সামান্য স্বার্থে আমরা স্বজনদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখি না। বা রাখতে পারিনা। অথচ নিজের হায়াত, রিজিক, সম্পদ এবং সার্বিক সফলতার জন্য, বরকতের জন্য, আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখা কর্তব্য। এটি একটি পরীক্ষিত আমল। বিশেষভাবে রক্ত-সম্পর্কীয় আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা। এতে বরকত অর্জিত হয়। সম্পর্ক ছিন্ন করলে আল্লাহর রহমত ও বরকত থেকে এমনকি জান্নাত থেকেও বঞ্চিত হতে হয়। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আবু আওফা (রা:) হতে বর্ণিত, রাসুল (সা:) বলেন,‘ কোন সম্প্রদায়ের মধ্যে আত্মীয় সম্পর্ক ছিন্নকারী থাকলে তাদের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হয় না।’ (আল আদাবুল মুফরাদ:৬৩)। পরকালেও রয়েছে কঠিন শাস্তির অসহ্যকর আয়োজন। হজরত আবু বাকরা (রা:) হতে বর্ণিত, রাসুল (সা:) বলেন, ‘আল্লাহ সেসব পাপীকে পার্থিব জগতেই তার পাপের ত্বরিৎ শাস্তি দেন, তা হলো আত্মীয় সম্পর্ক ছিন্নকারী ও বিদ্রোহীর পাপ এবং আখেরাতেও তার জন্য শাস্তি জমা রাখেন।’(আল আদাবুল মুফরাদ:৬৩)। 

আয়ু বৃদ্ধি পাক কে না চায়। রিজিকের প্রশস্তি কে না চায়। অথচ দুটোই বিদ্যমান আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখাতে। আমরা অনেকেই শুধু ছুটিতে স্বজনদের সঙ্গে অন্য সময় খবরই থাকে না।

হজরত আবু হুরায়রা (রা:) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুল (সা:) কে বলতে শুনেছি যে, ‘যে লোক তার রিজিক প্রশস্ত ও আয়ু বৃদ্ধি করতে চায়, সে যেন তার আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।’(বোখারি, হাদিস : ৫৫৫৯)

হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা:) হতে বর্ণিত, হজরত রাসুল (সা:) বলেন, ‘যে ব্যক্তি পছন্দ করে যে, তার রিজিক বেড়ে যাক এবং তার হায়াত দীর্ঘায়িত হোক, সে যেন আত্মীয়ের সাথে সদ্ব্যবহার করে।’ (বোখারি, হাদিস: ৮/৪৯৮৬)। 

জান্নাত থেকে বঞ্চিত হওয়ার কথাও উঠে এসেছে হাদিসে। হজরত মুহাম্মদ ইবনে মুতঈম (রা:) হতে বর্ণিত রাসুল (সা:) বলেন,‘আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ ( মুসলিম, হাদিস:৬২৮৯)

৬. সালাত কায়েম করা:

সালাত বরকত অর্জনের অন্যতম এক চাবি। গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। সুখে-দুঃখে বিপদে-আপদে সর্বাবস্থায় সালাত এক কার্যকরী আমল। চোখের শীতলতা। দিলের প্রশান্তি। কারণ, সালাতে সেজদার মাধ্যমেই বান্দা আল্লাহর একমাত্র নিকটবর্তী হতে পারে। সালাত বা নামাজের বরকত অসীম, যা মোমিনের পার্থিব ও পারলৌকিক জীবনে শান্তি, রিজিকে বরকত এবং গুনাহ মাফের নিশ্চয়তা দেয়। এটি মানসিক প্রশান্তি ও শারীরিক সুস্থতাও নিশ্চিত করে। ৪০ দিন জামাতে প্রথম তাকবিরের সাথে নামাজ পড়লে জাহান্নাম থেকে মুক্তি ও নেফাক থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া যায়। নিয়মিত নামাজে রিজিক বাড়ে ও জীবন সুশৃঙ্খল হয়। আল্লাহতায়ালা বলেন, তোমার পরিবারের লোকদেরকে নামাজের আদেশ দাও এবং নিজেও এর উপর অবিচল থাক। 

রাসুল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি গুরুত্বসহকারে নামাজ আদায় করবে আল্লাহতায়ালা তাকে পাঁচটি পুরস্কার দিয়ে সম্মানিত করবেন। 

এক. রুজি-রোজগার ও জীবনের সংকীর্ণতা হতে তাকে মুক্ত করবেন।

দুই. তার উপর থেকে কবরের আজাব উঠিয়ে নিবেন। 

তিন. আমলনামা ডান হাতে দিবেন।

চার. পুলসিরাত বিদ্যুৎগতিতে পার হয়ে যাবে।

পাঁচ. বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

কোরআন সুন্নাহয় পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের অনেক গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বেনামাজির বরকতহীনতা ও ভয়াবহ শাস্তির কথাও বর্ণিত হয়েছে। ফজর দিয়ে আমরা শুরু করব। অভিজ্ঞতায় দেখা যায় যারা ফজরের নামাজ গুরুত্ব দিয়ে নিয়মিত আদায় করে। তাদের সহজেই পাঁচ ওয়াক্ত পড়ার সৌভাগ্য হয়। ফজরের নামাজের বরকতও অতুলনীয়। মহানবী (সা.) বলেন, ফজরের দুই রাকাত নামাজ দুনিয়া এবং দুনিয়ার মধ্যে যা কিছু আছে, সব কিছু থেকে উত্তম। (সহিহ মুসলিম, হাদিস ৭২৫)

রাসুল (সা.)বলেন, “ঘুম থেকে নামাজ ভালো, বাড়ি থেকে মসজিদ ভালো, একা থেকে জামাত ভালো।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৬৭৮) 

লেখক: ইমাম ও খতিব, ছোট দেওড়া পূর্বপাড়া জামে মসজিদ জয়দেবপুর গাজীপুর সিটি।

বিকেপি/এমএম

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

ইসলাম ধর্ম রমজান

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর