বিসিবির গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান খালেদ মাসুদ পাইলট
বাংলাদেশের ক্রিকেটে এক সময় মিরপুরের ‘মন্থর ও নিচু বাউন্সের’ উইকেট ছিল প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার প্রধান অস্ত্র। তবে সেই চেনা পথ থেকে পাকাপাকিভাবে সরে আসার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এখন থেকে দেশের প্রতিটি ভেন্যুতে ‘স্পোর্টিং উইকেট’ বা ঘাসযুক্ত ও বাউন্সি পিচ তৈরির ওপর জোর দিচ্ছে বোর্ড। শনিবার মিরপুর শেরে-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সংবাদমাধ্যমের সাথে আলাপকালে বিসিবির গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান খালেদ মাসুদ পাইলট এই নতুন পরিকল্পনার কথা জানান।
অস্ট্রেলীয় কিউরেটর টনি হেমিং এখন বাংলাদেশের
উইকেট সংস্কারের প্রধান কারিগর। তার কাজের প্রশংসা করে পাইলট বলেন, “টনি হেমিং একজন দক্ষ কিউরেটর। আমার কাছে
তাকে মাঠের বা পিচের একজন ‘ডাক্তার’ মনে হয়। রোগী যেমন ডাক্তারের ওপর ভরসা করে, আমরাও তার ওপর তেমন
ভরসা রাখছি। তাকে স্পষ্ট বলে দেওয়া হয়েছে যে, আমরা কোনো ধরনের ‘হোম অ্যাডভান্টেজ’ (সুবিধা) নিতে চাই না।”
পাইলট আরও যোগ করেন, “কয়েক বছর আগেও টসের মাধ্যমেই মিরপুরের
ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যেত। আমরা সেই শর্টকাট জয়ের রাস্তা পরিহার করছি। হয়তো
শর্টকাটে ম্যাচ জেতা যায়, কিন্তু লম্বা সময়ের জন্য এটি দেশের ক্রিকেটের জন্য ক্ষতিকর।”
সবশেষ পাকিস্তান সিরিজে মিরপুরের উইকেটে
ব্যাটার ও বোলার—উভয়ই সমান সুবিধা পেয়েছেন। সেই সিরিজে বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে
সিরিজ জয় করে, যেখানে তানজিদ হাসান তামিমের সেঞ্চুরি এবং তরুণ পেসার নাহিদ রানার ৫
উইকেটের মতো পারফরম্যান্স দেখা গেছে। আগামী ১৭ এপ্রিল থেকে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে
শুরু হতে যাওয়া হোম সিরিজেও একই ধরনের স্পোর্টিং উইকেট দেখা যাবে বলে নিশ্চিত করেছেন
পাইলট। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশ ৩টি ওয়ানডে ও ৩টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে।
শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক ভেন্যুই নয়, তৃণমূল
পর্যায়েও স্পোর্টিং উইকেটে খেলার অভ্যাস গড়তে বিসিবি একটি বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে।
আগামী জুনের মধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ১৩৭টি নতুন উইকেট তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ
করা হয়েছে। এই উইকেটগুলোর জন্য বিশেষ করে বগুড়া ও রাজশাহীর মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে,
যা পেস ও বাউন্স ধরে রাখতে সহায়ক।

