জনিক সিনার
টেনিস বিশ্বে এখন নতুন দ্বৈরথের নাম জনিক সিনার ও কার্লোস আলকারাজ। তবে সাম্প্রতিক ফর্ম আর পরিসংখ্যানে আলকারাজকে ছাড়িয়ে যাওয়ার আভাস দিচ্ছেন ২৪ বছর বয়সী ইতালিয়ান তারকা সিনার। ইন্ডিয়ান ওয়েলসের পর মায়ামি ওপেনের শিরোপা জিতে এক অনন্য ইতিহাস গড়লেন তিনি। প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এক সেটও না হেরে একই মৌসুমে ক্যালিফোর্নিয়া ও ফ্লোরিডার এই দুই হার্ড কোর্ট টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়ে 'সানশাইন ডাবল' পূর্ণ করলেন সিনার।
মায়ামি ওপেনের ফাইনালে চেক তারকা জিরি
লেহেকাকে ৬-৪, ৬-৪ সেটে সরাসরি উড়িয়ে দেন সিনার। বৃষ্টির কারণে ম্যাচ বিঘ্নিত হলেও
সিনারের মনঃসংযোগে কোনো চির ধরেনি। টুর্নামেন্টের ছয় ম্যাচে রেকর্ড ৭০টি এস মেরেছেন
তিনি, যা তার ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ। বিশেষ করে প্রথম সার্ভে ৯২% পয়েন্ট জেতার অবিশ্বাস্য
পরিসংখ্যান তাকে রজার ফেদেরারের মতো নির্ভুল সার্ভিসের উচ্চতায় নিয়ে গেছে। অনেকেই এখন
সিনারের এই বিধ্বংসী সার্ভিসকে তার 'সার্ভবট' যুগের সূচনা বলছেন। মায়ামিতে এই জয়ের
ফলে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের দ্বিতীয় স্থানে থাকা সিনার এবং শীর্ষস্থানে থাকা আলকারাজের
মধ্যে পয়েন্টের ব্যবধান কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১,১৯০-এ। আলকারাজ এই টুর্নামেন্টের তৃতীয়
রাউন্ডে বিদায় নেওয়ায় ব্যবধানটা আরও দ্রুত ঘুচে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সামনেই
ক্লে-কোর্ট মৌসুম, যেখানে এই দুই তারকার লড়াই আরও জমে উঠবে।
গত বছর এই সময়ে ডোপ টেস্টে ব্যর্থ হওয়ার
কারণে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়েছিলেন সিনার। সেই সময় তার কোনো র্যাঙ্কিং পয়েন্ট
ছিল না, যার ফলে আগামী মে মাসের ইতালিয়ান ওপেন পর্যন্ত তার কোনো পয়েন্ট হারানোর ভয়
নেই। অন্যদিকে, আলকারাজকে ফ্রেঞ্চ ওপেনের শিরোপা ধরে রাখার কঠিন চ্যালেঞ্জ নিতে হবে।
সিনার এখন নোভাক জোকোভিচ ও রাফায়েল নাদালের পর তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে টানা তিনটি মাস্টার্স
শিরোপা জেতার গৌরব অর্জন করেছেন। সাবেক উইম্বলডন চ্যাম্পিয়ন মারিয়ন বার্টোলির মতে,
"সিনারের এখন কোনো দুর্বলতা নেই।" অন্যদিকে, আলকারাজও পিছিয়ে থাকতে রাজি
নন। বর্তমানে ঘরের মাঠে ক্লে-কোর্টে অনুশীলন শুরু করে দিয়েছেন তিনি।
আসন্ন মন্টে কার্লো ও মাদ্রিদ মাস্টার্সে
সিনার যদি তার এই ফর্ম ধরে রাখতে পারেন, তবে রোলাঁ গারো (ফ্রেঞ্চ ওপেন) শুরুর আগেই
বিশ্ব টেনিসের এক নম্বর সিংহাসনটি তার দখলে চলে আসতে পারে।
বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

