বিসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি রাজীব শুক্লা
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তামিম ইকবালকে অভিনন্দন জানিয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ক্রিকেট বোর্ড ‘বিসিসিআই’। বিসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি রাজীব শুক্লার এই শুভেচ্ছা বার্তাকে দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কের টানাপোড়েন মেটানোর একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার)
দেওয়া এক বার্তায় রাজীব শুক্লা লিখেছেন, “বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি হওয়ায়
তামিম ইকবালকে অভিনন্দন। একজন সাবেক ক্রিকেটার হিসেবে তার নেতৃত্ব দেশে ও বিদেশে ক্রিকেটের
সম্ভাবনাকে আরও উজ্জ্বল করবে।” তামিমের নিয়োগের পরপরই ভারতের পক্ষ থেকে এমন দ্রুত সাড়া
পাওয়াকে কূটনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।
নির্বাচনে অনিয়ম, ই-ভোটিংয়ে কারচুপি এবং
ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচিত আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন
কমিটি ভেঙে দেয় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। এরপর ১১ সদস্যের একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন
করা হয়, যার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পান দেশসেরা ওপেনার তামিম ইকবাল। আগামী তিন মাস
বিসিবির কার্যক্রম পরিচালনা এবং একটি স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজনই হবে এই কমিটির মূল লক্ষ্য।
গত এক বছরে ভারত ও বাংলাদেশের ক্রিকেটীয়
সম্পর্কের গ্রাফ ছিল নিম্নমুখী। আইপিএলে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়া এবং এর প্রতিক্রিয়ায়
ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশের অস্বীকৃতি জানানোর ঘটনায় দুই
বোর্ডের মধ্যে শীতল সম্পর্ক তৈরি হয়। বাংলাদেশ তাদের বিশ্বকাপ ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায়
সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানালে আইসিসি তা নাকচ করে দেয়, যার ফলে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করা
থেকেও বঞ্চিত হয় বাংলাদেশ। ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর যুব ও ক্রীড়া
প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ভারতের সঙ্গে ক্রিকেটীয় সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের আভাস দিয়েছিলেন।
আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বোর্ড সেই প্রক্রিয়া শুরু করলেও মুস্তাফিজ ও বিশ্বকাপ ইস্যুতে
সৃষ্ট তিক্ততা রয়েই গিয়েছিল। তবে তামিম ইকবালের মতো একজন আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত ব্যক্তিত্ব
বিসিবির শীর্ষ পদে আসায় বিসিসিআই তাদের অবস্থানে নমনীয়তা দেখাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, রাজীব শুক্লার
এই অভিনন্দন বার্তা কেবল সৌজন্যতা নয়, বরং আসন্ন দ্বিপাক্ষিক সিরিজগুলো মাঠে গড়ানোর
ক্ষেত্রে এক ধরনের ইতিবাচক সবুজ সংকেত। তামিমের হাত ধরে বিসিবি ও বিসিসিআইয়ের মধ্যকার
এই ‘বরফ’ কত দ্রুত
গলে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

