খেলতে প্রস্তুত তবে
বিশ্বকাপে ইরানের বদলে ইতালিকে চান ট্রাম্পের দূত
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ২১:১৯
আসন্ন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ইরানকে বাদ দিয়ে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইতালিকে অন্তর্ভুক্ত করার এক বিতর্কিত প্রস্তাব ঘিরে ফুটবল ও কূটনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত পাওলো জাম্পোল্লি ফিফার কাছে এই অদ্ভুত অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও এই প্রস্তাবের মাঝেও ফিফা এবং ইরান—উভয় পক্ষই টুর্নামেন্টে ইরানের অংশগ্রহণের বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে
বলা হয়েছে, পাওলো জাম্পোল্লি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের
কাছে প্রস্তাব দিয়েছেন যেন বাছাইপর্বে বাদ পড়া ইতালিকে ইরানের স্থলাভিষিক্ত করা হয়।
এই প্রস্তাবের পেছনে দুটি রাজনৈতিক কারণ দেখছেন বিশ্লেষকরা। প্রথমত, ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের
দীর্ঘদিনের বৈরিতা। দ্বিতীয়ত, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে ট্রাম্পের
বর্তমান শীতল সম্পর্ক জোড়া লাগানো।
উল্লেখ্য, ইরান যুদ্ধ নিয়ে পোপের সমালোচনা
করায় ট্রাম্প পোপের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করেছিলেন, যা ক্যাথলিক প্রধান
দেশ ইতালির প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষুব্ধ করে। ইতালীয় বংশোদ্ভূত জাম্পোল্লি মনে করছেন, ইতালিকে
বিশ্বকাপে সুযোগ করে দিলে মেলোনির সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন সহজ হবে।
এমন রাজনৈতিক প্রস্তাবের মুখেও ফিফা সভাপতি
জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ক্রীড়া চেতনাকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন,
মাঠের পারফরম্যান্সই বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের একমাত্র ভিত্তি। ইনফান্তিনো বলেন, ইরান মাঠে
খেলে যোগ্যতা অর্জন করেছে, তারা তাদের দেশের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে। তারা খেলতে
চায় এবং তাদের খেলা উচিত। খেলাধুলাকে রাজনীতির বাইরে রাখা উচিত।
বাছাইপর্বে চমৎকার খেলে ইরান জায়গা করে
নিলেও ইতালি টানা দ্বিতীয়বারের মতো প্লে-অফে হেরে মূল আসর থেকে ছিটকে গেছে। ফলে রাজনৈতিক
কারণে ইতালিকে অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।
এদিকে সব সংশয় কাটিয়ে তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে
বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়েছে। ইরানের সরকারি মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি
জানিয়েছেন, জাতীয় দলের জন্য প্রয়োজনীয় সব সুযোগ-সুবিধা ও প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর
ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। ইরান শুরুতে ম্যাচগুলো মেক্সিকোতে সরিয়ে
নেওয়ার দাবি জানালেও ফিফা তা নাকচ করে দেয়। তবে ৮ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া ভঙ্গুর
যুদ্ধবিরতি এবং ইসলামাবাদে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা ইরানের অংশগ্রহণের পথকে প্রশস্ত করেছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও মার্চ মাসে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ইরানি দল বিশ্বকাপে স্বাগত,
যদিও নিরাপত্তা নিয়ে তাঁর কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে।
আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া এই আসরে
ফুটবল নাকি রাজনীতি—শেষ পর্যন্ত কার জয় হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তবে ফিফার অনড় অবস্থান
এবং ইরানের প্রস্তুতির খবর এটিই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, মাঠের লড়াইয়ে গালিচায় ফিরছে এশিয়ান
জায়ান্টরাই।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

