রাজশাহীর বিভাগীয় স্টেডিয়ামে শনিবার ছিল অলিখিত ফাইনাল। শ্রীলঙ্কা নারী দলের বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের সমতা থাকায় শেষ ম্যাচটিই হয়ে দাঁড়িয়েছিল সিরিজ নির্ধারণী। তবে সেই 'ফাইনালে' হাসিমুখে মাঠ ছাড়তে পারেননি নিগার সুলতানা জ্যোতিরা। লঙ্কান মেয়েদের কাছে ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে হেরে ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ হাতছাড়া করল বাংলাদেশ। শুরুতে ব্যাট করে টাইগ্রেসরা ৮ উইকেটে ২১৩ রান তুললেও, সফরকারীরা ২১ বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায়।
২১৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শ্রীলঙ্কার
শুরুটা খুব একটা ভালো ছিল না। দলীয় ১৯ রানেই লঙ্কান অধিনায়ক ও পোস্টার গার্ল চামারি
আতাপাত্তুকে (১০) সাজঘরে ফেরান মারুফা আক্তার। তবে সেই ধাক্কা শ্রীলঙ্কাকে কাবু করতে
পারেনি। দ্বিতীয় উইকেটে ওপেনার হাসিনি পেরেরা ও ইমেশা দুলানি ১০৮ রানের এক বিশাল জুটি
গড়েন, যা জয়ের ভিত গড়ে দেয়। দুলানি ৫৬ রানে মারুফার বলে আউট হলেও হাসিনি পেরেরা এক
প্রান্ত আগলে রেখে সেঞ্চুরির দিকে এগোচ্ছিলেন। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে ব্যক্তিগত ৯৫ রানে
সোবহানা মোস্তারির বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে শতক বঞ্চিত হন তিনি। ১৩১ বলের এই ইনিংসে ছিল
১৩টি চার। শেষ দিকে হার্শিতা সামারাবিক্রমা ৪৪ রানে অপরাজিত থেকে দলের জয় নিশ্চিত করে
মাঠ ছাড়েন। বাংলাদেশের পক্ষে মারুফা আক্তার ২টি এবং সোবহানা মোস্তারি ১টি উইকেট শিকার
করেন।
এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়
বাংলাদেশ। কিন্তু বড় সংগ্রহ গড়ার পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায় টপ অর্ডারের মন্থর ব্যাটিং।
দুই ওপেনার ফারজানা হক (১১) ও শারমিন সুলতানা (১৭) খুব দ্রুত বিদায় নিলে দলের হাল ধরেন
শারমিন আক্তার ও অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। শারমিন ২৫ রান করে ফিরে গেলেও জ্যোতি
খেলেন ৯০ বলের এক ধৈর্যশীল ইনিংস। তবে তার ব্যাট থেকে আসা ৪০ রান ছিল অনেকটাই মন্থর,
যা দলের মিডল ওভারে রানরেটে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
বিশেষ করে জ্যোতি ও সোবহানার মধ্যকার ১০৪
বলের ৬৫ রানের জুটিটি ছিল বেশ ধীরগতির। তবে জ্যোতির বিদায়ের পর রানের গতি বাড়ান সোবহানা
মোস্তারি। ৮০ বলে ৭৪ রানের এক দারুণ ইনিংস খেলেন তিনি, যেখানে ছিল ৮টি চারের মার। মূলত
সোবহানার ব্যাটে চড়েই ২০০ রানের গণ্ডি পার করে বাংলাদেশ। শেষ দিকে রিতু মণি ১৬ বলে
২০ রানের একটি ক্যামিও ইনিংস উপহার দিলে টাইগ্রেসদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২১৩। শ্রীলঙ্কার
হয়ে সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট নেন কাভিশা দিলহারি।
এই সিরিজ হার বাংলাদেশের জন্য কিছুটা হতাশাজনক,
কারণ ২০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ৩ উইকেটের জয় পেয়েছিল স্বাগতিকরা।
কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে ৪ উইকেটে হেরে সমতায় ফেরে শ্রীলঙ্কা। আইসিসি ওমেন’স চ্যাম্পিয়নশিপের
অংশ হিসেবে এই সিরিজের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। শেষ দুই ম্যাচ জিতে শ্রীলঙ্কা গুরুত্বপূর্ণ
৪ পয়েন্ট তুলে নিয়েছে, যেখানে বাংলাদেশ ১ পয়েন্ট (প্রথম জয়ের জন্য) নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে
হচ্ছে। ওয়ানডে সিরিজের আক্ষেপ ভুলে এখন টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য
টাইগ্রেসদের। সিলেটে অনুষ্ঠিত হবে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। আগামী ২৮ এপ্রিল
সিরিজের প্রথম ম্যাচ, ৩০ এপ্রিল দ্বিতীয় এবং ২ মে শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত
হবে।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

