রাজশাহীতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে ৭ উইকেটের হারের কষ্ট যখন স্পর্শ করেছে টাইগ্রেস শিবিরকে, ঠিক তখনই লঙ্কানদের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ ও প্রতিপক্ষ ব্যাটারকে স্লেজিং করার দায়ে বড় শাস্তির ঘোষণা দিয়েছে আইসিসি। বাঁহাতি স্পিনার নাহিদা আক্তার এবং টপ অর্ডার ব্যাটার শারমিন সুলতানাকে তাদের ম্যাচ ফির ১০ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার পাশাপাশি তাদের প্রত্যেকের শৃঙ্খলা রেকর্ডে যোগ করা হয়েছে একটি করে ডিমেরিট পয়েন্ট।
গত বুধবার সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে লঙ্কান
ইনিংসের ১৭তম ওভারে ঘটে প্রথম ঘটনাটি। বাংলাদেশ তখন ম্যাচে ফেরার লড়াই করছিল। শ্রীলঙ্কার
শক্তিশালী ব্যাটার ও অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তুকে আউট করার পর আনন্দের আতিশয্যে বা স্লেজিংয়ের
উদ্দেশ্যে তাকে সাজঘরের পথ দেখিয়ে ইঙ্গিত করেন নাহিদা। আইসিসির আচরণবিধির ২.৫ ধারা
অনুযায়ী, কোনো ব্যাটার আউট হওয়ার পর এমন কোনো ভাষা বা অঙ্গভঙ্গি ব্যবহার করা যাবে না
যা অবমাননাকর বা প্রতিপক্ষকে উসকে দিতে পারে। নাহিদার এই ‘সেন্ড-অফ’ আইসিসির কাছে অশোভন মনে হওয়ায়
তাকে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের ব্যাটিং ইনিংসের ১৬তম ওভারে ঘটে দ্বিতীয় ঘটনাটি। লঙ্কান বোলারের বলে এলবিডব্লিউর সিদ্ধান্তের শিকার হন শারমিন সুলতানা। আম্পায়ারের আঙুল তোলার সাথে সাথে তিনি মাঠ ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান এবং ব্যাটে বল লেগেছে বোঝাতে নিজের ব্যাট উঁচিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। আইসিসির ২.৮ ধারা অনুসারে, আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের প্রতি কোনো ধরনের অসন্তোষ বা অসম্মান প্রদর্শন দণ্ডনীয় অপরাধ। শারমিন বেশ কিছুক্ষণ ক্রিজে দাঁড়িয়ে থেকে মাঠ ছাড়তে বিলম্ব করায় তার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনা হয়।
-69ecd564ec6d6.jpg)
আইসিসির ম্যাচ রেফারি প্যানেলের সদস্য
সুপ্রিয়া রানি দাস এই শাস্তির ঘোষণা দেন। নাহিদা ও শারমিন উভয়েই তাদের ভুল স্বীকার
করে নিয়েছেন এবং শাস্তির প্রস্তাব মেনে নিয়েছেন। ফলে কোনো আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন
পড়েনি। উল্লেখ্য যে, গত ২৪ মাসের মধ্যে এটিই এই দুই ক্রিকেটারের প্রথম আচরণবিধি লঙ্ঘনের
ঘটনা। নিয়ম অনুযায়ী, আগামী ২৪ মাসের মধ্যে চার বা তার বেশি ডিমেরিট পয়েন্ট জমা হলে
তা সাসপেনশন পয়েন্টে রূপান্তর হবে এবং তারা আন্তর্জাতিক ম্যাচ থেকে নিষিদ্ধ হতে পারেন।
ম্যাচটিতে মাঠের আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব
পালন করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার এলয়িস শেরিডান ও বাংলাদেশের রোকেয়া সুলতানা। তৃতীয় আম্পায়ার
ডলি রানি সরকার এবং চতুর্থ আম্পায়ার সাথিরা জাকির জেসির সমন্বিত রিপোর্টের ভিত্তিতেই
এই অভিযোগগুলো উত্থাপিত হয়।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

