বিশ্বকাপে নতুন বিতর্ক
ট্রাম্পকে শান্তি পুরস্কার দিয়ে সমালোচনার মুখে ফিফা
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:৫১
জিয়ান্নি ইনফান্তিনো
ফুটবল বিশ্বকাপের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে। আগামী ১১ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় বসতে যাচ্ছে ফুটবলের এই মহাযজ্ঞ। কিন্তু মাঠের লড়াই শুরুর আগেই মাঠের বাইরের রাজনীতি ফুটবল বিশ্বকে উত্তপ্ত করে তুলেছে।
ফিফার নবপ্রবর্তিত 'শান্তি পুরস্কার' মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। গত বছরের ৫ ডিসেম্বর বিশ্বকাপের ড্র চলাকালীন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন।
সমালোচকদের মতে, ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে
নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার যে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে আসছেন, ফিফার এই পুরস্কার ছিল
তারই একটি 'সান্ত্বনা পুরস্কার'।
নরওয়েজিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট
লিসে ক্লাভনেস ফিফার এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি ফিফাকে এই পুরস্কার
প্রথা পুরোপুরি বাতিলের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “শান্তি পুরস্কার
দেওয়ার কাজ নোবেল ইনস্টিটিউটের মতো স্বাধীন সংস্থার ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত। ফিফার ম্যান্ডেটে
বা কাজের পরিধিতে এ ধরনের পুরস্কার দেওয়ার কোনো জায়গা নেই। ফুটবল ফেডারেশন ও ফিফার
উচিত রাষ্ট্রনেতাদের থেকে একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখা। ফিফার কাছে এই ধরনের স্পর্শকাতর
রাজনৈতিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো অভিজ্ঞ জুরি বা নিরপেক্ষ মানদণ্ড নেই।”
অস্ট্রেলিয়ান ফুটবলার জ্যাকসন আরভিন ফিফার
এই সিদ্ধান্তকে মানবাধিকার সনদের প্রতি একটি ‘উপহাস’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি রয়টার্সকে বলেন,
“এ ধরনের সিদ্ধান্ত ফুটবলকে একটি ইতিবাচক শক্তি হিসেবে বিশ্বজুড়ে
প্রতিষ্ঠিত করার লড়াইকে পিছিয়ে দেয়। ফিফা নিজেই নিজের মানবাধিকার নীতিমালাকে উপহাসের
বস্তুতে পরিণত করেছে।”
উল্লেখ্য, ট্রাম্পকে এই শান্তি পুরস্কার
দেওয়ার এক মাস পরেই যুক্তরাষ্ট্র ভেনিজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালায় এবং গত ২৮ ফেব্রুয়ারি
ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানে বিমান হামলা শুরু করে। যুদ্ধের আবহে একজন রাষ্ট্রনেতাকে
‘শান্তি পুরস্কার’
দেওয়া ফিফার দ্বিমুখী আচরণকেই প্রকাশ করছে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা।
মানবাধিকার সংস্থা ‘ফেয়ারস্কয়ার’ অভিযোগ করেছে যে, ইনফান্তিনো
এবং ফিফা রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার যে নৈতিক নির্দেশনা রয়েছে, তা লঙ্ঘন করেছে। নরওয়েজিয়ান
ফুটবল ফেডারেশন এই অভিযোগের ভিত্তিতে ফিফার ওপর পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
এদিকে, হিউম্যান রাইটস গ্রুপগুলো মনে করিয়ে
দিয়েছে যে, ২০২৬ বিশ্বকাপের আয়োজক শহরগুলোতে অন্তর্ভুক্তি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং
বৈষম্যবিরোধী পরিবেশ নিশ্চিত করার যে প্রতিশ্রুতি ফিফা দিয়েছিল, ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন
নীতি ও গণ-ডিপোর্টেশন অভিযানের কারণে তা হুমকির মুখে পড়তে পারে।
এই ব্যাপক বিতর্কের মুখে আল জাজিরার পক্ষ
থেকে মন্তব্য চাওয়া হলেও ফিফার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বিশ্বকাপের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থার এমন রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব
শুধু মাঠের পরিবেশ নয়, বরং ফুটবলের বিশ্বজনীন আবেদনকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

