Logo

খেলা

স্বর্ণার ফিফটির পরও শ্রীলঙ্কা কাছে বাংলাদেশর হার

Icon

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:৫৬

স্বর্ণার ফিফটির পরও শ্রীলঙ্কা কাছে বাংলাদেশর হার

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে উৎসবের আমেজ ছিল ম্যাচের শুরুতেই। বাংলাদেশের বাঁহাতি স্পিন জাদুকর নাহিদা আক্তারের জন্য দিনটি ছিল বিশেষ। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে শততম ম্যাচ খেলতে নামা এই ক্রিকেটারের হাতে ম্যাচ শুরুর আগে তুলে দেওয়া হয় বিশেষ স্মারক।

সতীর্থদের হাসিমুখ আর ক্যামেরার ফ্ল্যাশে দিনটি নাহিদার জন্য রাঙানোর সব আয়োজনই ছিল। কিন্তু মাঠের লড়াই শেষে সেই হাসি ম্লান হয়ে গেছে সতীর্থদের ব্যাটিং ব্যর্থতায়। নাহিদার মাইলফলকের ম্যাচে ২৫ রানের জয় নিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল সফরকারী শ্রীলঙ্কা।

সিলেটের মেঘাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। তবে লঙ্কান ব্যাটারদের ওপর খুব একটা প্রভাব বিস্তার করতে পারেননি স্বাগতিক বোলাররা। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৬১ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় শ্রীলঙ্কা। লঙ্কানদের হয়ে সর্বোচ্চ ৬১ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন হারশিতা সামারবিক্রমা। মাত্র ৩৫ বলের ইনিংসে তিনি ৫টি চার ও ২টি ছক্কা হাঁকান। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন দুলানি, যার ব্যাট থেকে আসে মূল্যবান ৫৫ রান।

বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সুলতানা খাতুন ৪ ওভারে ২৯ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। মাইলফলকের ম্যাচে নাহিদা আক্তার ৪ ওভারে ২৬ রান দিয়ে (৬.৫ ইকোনমি) পান ১টি উইকেট। অন্যদিকে মারুফা আক্তার ছিলেন কিছুটা খরুচে, ৪ ওভারে তিনি গুনেছেন ৩৭ রান।

১৬২ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ নারী দল নিজেদের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের নতুন রেকর্ড গড়ার হাতছানি পাচ্ছিল। এর আগে ২০২৩ সালে কলম্বোয় লঙ্কানদের বিপক্ষেই ১৪৬ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড ছিল টাইগ্রেসদের।

মঙ্গলবার শুরুটাও ছিল ইতিবাচক। দুই ওপেনার দিলারা আক্তার ও জুয়াইরিয়া ফেরদৌস মাত্র ২২ বলে ৩৯ রানের জুটি গড়েন। দিলারা ১৪ বলে ২৩ রান এবং জুয়াইরিয়া ১২ বলে ১৬ রান করে সাজঘরে ফিরলে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের টপ অর্ডার। ৫ রানের ব্যবধানে ৪ উইকেট হারিয়ে ৫.৩ ওভারে ৪৪ রানে পরিণত হয় স্বাগতিকরা। শারমিন আক্তার (১) ও অধিনায়ক জ্যোতি (০) আজ পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন।

বিপর্যয়ের মুখে হাল ধরেন স্বর্ণা আক্তার ও সোবহানা মোস্তারি। পঞ্চম উইকেটে তারা ৫০ বলে ৩৯ রানের একটি জুটি গড়েন। তবে ম্যাচে ফেরার জন্য যে রান রেটের প্রয়োজন ছিল, প্রচুর ডট বল খেলার কারণে তা নাগালের বাইরে চলে যায়। সোবহানা ২৬ বলে ১৬ রান করে আউট হলে জয়ের আশা প্রায় শেষ হয়ে যায়। তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান স্বর্ণা আক্তার। তিনি ৪৫ বলে ৬০ রানের একটি দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন, যা সাজানো ছিল ৪টি চার ও ২টি ছক্কায়। শেষ দিকে সুলতানা খাতুনের সঙ্গে স্বর্ণার ২৭ বলে ৩৯ রানের জুটি কেবল হারের ব্যবধানই কমাতে পেরেছে। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৩৬ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস। লঙ্কান বোলারদের মধ্যে অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু, মালকি মাদারা ও মিতালি অযোধ্যা প্রত্যেকেই ২টি করে উইকেট শিকার করেন।

নাহিদা আক্তারের শততম ম্যাচের মাইলফলকটি জয়ে রাঙাতে না পারার আক্ষেপ পোড়াবে পুরো দলকে। বিশেষ করে মাঝের ওভারগুলোতে ব্যাটারদের মন্থর গতি এবং প্রয়োজনীয় মুহূর্তে বাউন্ডারি মারতে না পারা বাংলাদেশের হারের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। তবে সিরিজের এখনো দুটি ম্যাচ বাকি। আগামী ৩০ এপ্রিল এবং ২ মে সিলেটেই অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের দ্বিতীয় ও তৃতীয় টি-টোয়েন্টি। সিরিজে টিকে থাকতে হলে পরের ম্যাচে ব্যাটিং ইউনিটের উন্নতি ও ডট বলের সংখ্যা কমানোর কোনো বিকল্প নেই জ্যোতির দলের সামনে।

বাংলাদেশের খবর/এম.আর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন