অ্যালিসন ফেলিক্স
অ্যাথলেটিক্স ইতিহাসের সবচেয়ে সুশোভিত নারী অ্যাথলেট অ্যালিসন ফেলিক্স অবসর ভেঙে পুনরায় ট্র্যাকে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। ৪০ বছর বয়সী এই মার্কিন তারকা ২০২৮ সালে নিজের জন্মশহর লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠেয় অলিম্পিক গেমসে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন।
‘টাইম’ ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে
তিনি তার এই সাহসী সিদ্ধান্তের কথা জানান। ২০২২ সালে অ্যাথলেটিক্সকে বিদায় জানানো ফেলিক্সের
ঝুলিতে রয়েছে রেকর্ড ১১টি অলিম্পিক মেডেল, যার মধ্যে ৭টিই স্বর্ণ।
টাইমের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, “আমাদের অনেকেরই বলা হয় বড় বা সাহসী কিছু
না করতে। এই বয়সে হয়তো আমার ঘরে থেকে সন্তানদের দেখাশোনা করার কথা। কিন্তু আমি ভাবলাম—
কেন নয়? চলুন ধারণাটা বদলে দিই। চলুন লক্ষ্য অর্জনে ঝাঁপিয়ে পড়ি।”
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অনেক অর্জন থাকলেও ঘরের
মাঠে অলিম্পিকে অংশ নেওয়ার সুযোগ ফেলিক্সের কখনোই হয়নি। লস অ্যাঞ্জেলেসের স্থানীয় বাসিন্দা
হিসেবে ২০২৮ সালের আসরটি তার জন্য সেই স্বপ্ন পূরণের শেষ সুযোগ। তিনি বলেন, “যখন আমি প্রতিযোগিতায় অংশ নিতাম, আয়োজক
দেশের অ্যাথলেটদের জন্য গ্যালারির যে গর্জন শুনতাম, তা সবসময় আমাকে অনুপ্রাণিত করত।
আমি নিজেও একবার সেই অভিজ্ঞতার সাক্ষী হতে চাই।”
ফেলিক্স কেবল একজন অ্যাথলেটই নন, তিনি
ক্রীড়াঙ্গনে মায়েদের অধিকার আদায়ের অন্যতম বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। প্রথম সন্তানের জন্মের
পর স্পন্সরশিপ নিয়ে নাইকির সাথে বিবাদ এবং পরবর্তীতে নিজের ব্র্যান্ড ‘সেইশ’ প্রতিষ্ঠা করে তিনি বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত
হন। দুই সন্তানের জননী ফেলিক্স জানান, টম ব্র্যাডি, লেব্রন জেমস এবং লিন্ডসে ভনের মতো
তারকাদের দেখে তিনি অনুপ্রাণিত হয়েছেন, যারা ৪০ বছর বয়সেও সর্বোচ্চ পর্যায়ে পারফর্ম
করছেন।
২০২৮ অলিম্পিকে জায়গা করে নেওয়া ফেলিক্সের
জন্য সহজ হবে না। এজন্য তাকে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক ট্রায়াল সিস্টেমে
নিজেকে প্রমাণ করতে হবে। তবে নিজের ফেরার বিষয়ে তিনি বলেন, “যদি আমি অন্তত চেষ্টা না করি, তবে নিজের
ওপরই রাগ হবে। ফলাফল যাই হোক, আমি আমার সন্তানদের নিয়ে সেখানে থাকব এবং সবাইকে উৎসাহিত
করব।”
যদি ফেলিক্স শেষ পর্যন্ত কোয়ালিফাই করতে
পারেন, তবে এটি হবে তার ষষ্ঠ অলিম্পিক আসর। বয়সকে জয় করে ট্র্যাকে ফেরার এই ঘোষণা বিশ্বজুড়ে
অগণিত নারী ও অ্যাথলেটের জন্য এক নতুন দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

