শেষ ওভারের ট্র্যাজেডি
তিন রানের হারে ‘হোয়াইটওয়াশ’ বাংলাদেশের মেয়েরা
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০২ মে ২০২৬, ২১:১৩
আশা জাগিয়েও লক্ষ্যভ্রষ্ট নিগার বাহিনী; চামারি আতাপাত্তুর অলরাউন্ড নৈপুণ্যে টি-টোয়েন্টি সিরিজ ৩-০ ব্যবধানে ঘরে তুলল শ্রীলঙ্কা। সিলেটের আকাশে বৃষ্টির মেঘ জমেছিল সকাল থেকেই। প্রকৃতির সেই মেঘ কাটলেও বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের ব্যাটিংয়ের মেঘ আর কাটল না।
বৃষ্টিবিঘ্নিত ৯ ওভারের রোমাঞ্চকর ম্যাচে
জয়ের খুব কাছে গিয়েও ৩ রানের আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে টাইগ্রেসদের। এই হারে তিন
ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে লঙ্কান মেয়েদের কাছে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার তেতো স্বাদ পেল নিগার
সুলতানার দল। ওয়ানডে সিরিজের পর টি-টোয়েন্টিতেও দাপট দেখিয়ে ২-১ এবং ৩-০ ব্যবধানে ট্রফি
নিয়ে মাঠ ছাড়ল সফরকারী শ্রীলঙ্কা।
শনিবার সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি
সময়মতো শুরু হতে পারেনি বৃষ্টির কারণে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমিয়ে আনা
হয় ৯ ওভারে। টস জিতে শ্রীলঙ্কাকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় বাংলাদেশ। শুরু থেকেই লঙ্কান ব্যাটাররা
ছিলেন মারমুখী। বিশেষ করে বাংলাদেশের পেসার মারুফা আক্তার ও ফারিহা তৃষ্ণার ওপর চড়াও
হন তারা। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে ফারিহা তৃষ্ণা ১৬ রান দিলে লঙ্কানদের আত্মবিশ্বাস বেড়ে
যায়। তৃতীয় ওভারে মারুফা আক্তারকে টানা চারটি চার মেরে স্কোরবোর্ড সচল রাখেন ইমেশা
দুলানি। মাত্র ৩ ওভারেই ৪৩ রান তুলে ফেলে সফরকারীরা।
বিপজ্জনক হয়ে ওঠা উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন
অফস্পিনার সুলতানা খাতুন। চতুর্থ ওভারে তিনি লঙ্কান শিবিরে জোড়া আঘাত হানেন। তবে এক
প্রান্ত আগলে রেখে তান্ডব চালান লঙ্কান অধিনায়ক ও ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার
চামারি আতাপাত্তু। ২৭ বলে ৪১ রানের টর্নেডো ইনিংস খেলেন তিনি, যেখানে ছিল ৩টি চার ও
২টি ছক্কার মার। শেষদিকে কাভিশা দিলহারি ৭ বলে ১৫ রান করলে লঙ্কানদের সংগ্রহ দাঁড়ায়
৬ উইকেটে ৮৭ রান।
বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল
ছিলেন সুলতানা খাতুন; তিনি মাত্র ৮ রান দিয়ে ৩টি উইকেট শিকার করেন। ৮৮ রানের লক্ষ্য
৯ ওভারে তাড়া করা আধুনিক টি-টোয়েন্টিতে অসম্ভব কিছু নয়। প্রথম ওভারে দিলারা আক্তার
দুটি চার মেরে ১২ রান তুললে জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে গ্যালারি।
কিন্তু দ্বিতীয় ওভারেই দিলারা (৮) বিদায়
নিলে ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় উইকেটে জুয়াইরিয়া ফেরদৌস ও সোবহানা মোস্তারি ২০
বলে ৩০ রানের জুটি গড়ে প্রতিরোধ গড়েন। ১১ বলে ১৫ রান করে জুয়াইরিয়া ফিরলে ক্রিজে
আসেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি।
সোবহানা মোস্তারি ১৫ বলে ২১ রান করে যখন
আউট হন, তখন বাংলাদেশের জয়ের জন্য শেষ ২০ বলে দরকার ছিল ৩২ রান। কিন্তু মিডল অর্ডারে
স্বর্ণা আক্তার ও রিতু মণি দ্রুত বিদায় নিলে সমীকরণ কঠিন হয়ে যায়। জয়ের জন্য শেষ ওভারে
বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ১৪ রান। বল হাতে তুলে নেন অভিজ্ঞ চামারি আতাপাত্তু। ক্রিজে
তখন ভরসা হয়ে টিকে ছিলেন অধিনায়ক নিগার। তবে প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে মিডউইকেটে
ক্যাচ দিয়ে বসেন তিনি (১৩)। গ্যালারিতে তখন পিনপতন নীরবতা। বাকি ৫ বলে ১৪ রানের কঠিন
সমীকরণে হাল ধরেন সুলতানা খাতুন। পরের দুই বলে দুটি ডাবলস নেওয়ার পর চতুর্থ বলে চার
মেরে ম্যাচটি বাংলাদেশের হাতের মুঠোয় নিয়ে আসেন তিনি। শেষ ২ বলে জয়ের জন্য দরকার ছিল
৬ রান। কিন্তু আতাপাত্তুর অভিজ্ঞতার কাছে হার মানতে হয় সুলতানাকে। পঞ্চম বলে তিনি মাত্র
১ রান নিতে সক্ষম হন। শেষ বলে ৫ রানের প্রয়োজনে শারমিন সুলতানা মাত্র ১ রান নিতে পারলে
৮৪ রানেই থামে বাংলাদেশের ইনিংস। ৩ রানের জয় নিয়ে উৎসবে মেতে ওঠে লঙ্কান মেয়েরা।
সিরিজের প্রতিটি ম্যাচেই হারের চিত্রনাট্য
ছিল প্রায় একই। প্রতিবারই বোলাররা লড়াই করার পুঁজি দিলেও ব্যাটারদের ব্যর্থতায় হারতে
হয়েছে। বিশেষ করে লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে মিডল অর্ডারের ধস বাংলাদেশের দুশ্চিন্তার বড়
কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওয়ানডে সিরিজে লড়াকু মানসিকতা দেখালেও টি-টোয়েন্টি সিরিজে নিগার
সুলতানার দল ছিল ছায়াসঙ্গী। পুরো সিরিজজুড়েই আলো ছড়িয়েছেন চামারি আতাপাত্তু। শেষ ম্যাচেও
৪১ রান ও ২ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন তিনি। একইসঙ্গে সিরিজ সেরার পুরস্কারটিও
বগলদাবা করেন এই লঙ্কান গ্রেট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
শ্রীলঙ্কা: ৮৭/৬ (৯ ওভার); আতাপাত্তু ৪১,
দুলানি ১৯; সুলতানা ৩/৮।
বাংলাদেশ: ৮৪/৬ (৯ ওভার); সোবহানা ২১,
জুয়াইরিয়া ১৫, নিগার ১৩; আতাপাত্তু ২/১৫।
ফল: শ্রীলঙ্কা ৩ রানে জয়ী।
সিরিজ: শ্রীলঙ্কা ৩-০ ব্যবধানে জয়ী।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

