Logo

খেলা

জন্মভূমি বনাম বেড়ে ওঠার দেশ: বেগোভিচের বিশেষ যুদ্ধ

Icon

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ মে ২০২৬, ২১:১৯

জন্মভূমি বনাম বেড়ে ওঠার দেশ: বেগোভিচের বিশেষ যুদ্ধ

আসমির বেগোভিচ

আসন্ন ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বসনিয়া-হার্জেগোভিনা এবং স্বাগতিক কানাডা। সাধারণ দর্শকদের কাছে এটি কেবল একটি গ্রুপ পর্বের ম্যাচ হলেও, অভিজ্ঞ গোলরক্ষক আসমির বেগোভিচের কাছে এর গুরুত্ব অনেক গভীরে। সম্প্রতি ফিফাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৩৮ বছর বয়সী এই তারকা জানিয়েছেন, এই ম্যাচটি তার শেকড় এবং ফুটবলার হয়ে ওঠার ইতিহাসের এক অনন্য মিলনমেলা।

বেগোভিচের জন্ম বসনিয়ায় হলেও তার বেড়ে ওঠা কানাডার এডমন্টনে। বসনিয়া যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে মাত্র ৪ বছর বয়সে তার পরিবার প্রথমে জার্মানিতে এবং পরে কানাডায় পাড়ি জমায়। ফিফাকে তিনি বলেন, "এটি আমার জন্মভূমি এবং আমার বেড়ে ওঠার দেশের লড়াই। আমার শেকড় আর ইতিহাসের কথা চিন্তা করলে এটি নিঃসন্দেহে একটি বিশেষ ম্যাচ। তবে আমাকে জিজ্ঞেস করবেন না আমি কার জয় চাই! আমি চাই সেরা দলই জিতুক।"

কানাডার হয়ে বয়সভিত্তিক পর্যায়ে খেলেছেন বেগোভিচ। এমনকি ২০০৭ সালে ঘরের মাঠে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপেও তিনি কানাডার গোলপোস্ট সামলেছেন। তবে ২০০৯ সালে যখন জন্মভূমি বসনিয়া-হার্জেগোভিনার হয়ে খেলার সুযোগ আসে, তখন তিনি ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় সিদ্ধান্তটি নেন। এরপর দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে তিনি বসনিয়ার অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ক্লাব ক্যারিয়ারে চেলসি, স্টোক সিটি ও এভারটনের মতো বড় ক্লাবে খেলা এই গোলরক্ষক বর্তমানে লিস্টার সিটির হয়ে খেলছেন। বেগোভিচের ক্যারিয়ারের শ্রেষ্ঠ মুহূর্ত ছিল ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপ।

বসনিয়ার স্বাধীন দেশ হিসেবে প্রথম বিশ্বকাপে খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি বলেন, "ব্রাজিলে আমাদের প্রথম ম্যাচ ছিল মারাকানা স্টেডিয়ামে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার বিপক্ষে। এর চেয়ে চমৎকার আর কিছু হতে পারে না।" ম্যাচের আগের রাতের স্মৃতি রোমন্থন করে তিনি জানান, মারাকানার সবুজ ঘাসে পরিবার আর বন্ধুদের নিয়ে কাটানো সেই মুহূর্তগুলো তার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সঞ্চয়।

এবারের বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে প্লে-অফে ইতালিকে হারিয়েছে বসনিয়া। দলের এই আমূল পরিবর্তনের কৃতিত্ব তিনি দিয়েছেন কোচ সার্জেই বারবারেজকে। বেগোভিচ মনে করেন, বারবারেজ খুব দ্রুত দেশের ফুটবলে ইতিবাচক পরিবর্তনের ছোঁয়া এনেছেন। এবারের গ্রুপ পর্বে সুইজারল্যান্ডকে ফেভারিট মানলেও, বসনিয়ার নকআউট পর্বে যাওয়ার ভালো সম্ভাবনা দেখছেন তিনি। কানাডায় এখন খুব বেশি যাওয়া না হলেও এডমন্টনের বন্ধুদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন বেগোভিচ। ২০২৬ বিশ্বকাপের ম্যাচটি টরন্টো স্টেডিয়ামে বসে দেখার পরিকল্পনা আছে তার। বর্তমান প্রজন্মের ফুটবলারদের উদ্দেশ্যে তার পরামর্শ হলো—বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচটি না হারা খুব জরুরি। বসনিয়া ও কানাডার এই যুদ্ধ কেবল মাঠের লড়াই নয়, বরং আসমির বেগোভিচের মতো অনেক অভিবাসী মানুষের জীবনসংগ্রাম ও সাফল্যের এক জীবন্ত গল্প হয়ে থাকবে ২০২৬-এর এই আসরে।

বাংলাদেশের খবর/এম.আর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন