ফিফা বিশ্বকাপ
ভারত ও চীনে সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে অচলাবস্থা
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬, ১৯:৫৩
ফুটবল বিশ্বকাপের পরবর্তী আসর শুরু হতে বাকি আর মাত্র ৩৫ দিন। অথচ বিশ্বের দুই জনবহুল দেশ ভারত ও চীনে এখন পর্যন্ত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোনো সম্প্রচার চুক্তি সম্পন্ন হয়নি। ফিফার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুই দেশের সঙ্গেই আলোচনা চলছে, তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে এমন অনিশ্চয়তা ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
সাধারণত বিশ্বকাপের মতো মেগা ইভেন্টের
সম্প্রচার স্বত্ব বা মিডিয়া রাইটস’ কয়েক বছর বা অন্তত কয়েক মাস আগেই বিক্রি হয়ে যায়। কিন্তু
এবারের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। ফিফা রয়টার্সকে জানিয়েছে যে, তারা বিশ্বজুড়ে অন্তত ১৭৫টি
অঞ্চলে সম্প্রচার চুক্তি সম্পন্ন করেছে। কিন্তু ভারত ও চীনের ক্ষেত্রে আলোচনা এখনো
গোপনীয় পর্যায়ে রয়েছে।
আগামী ১১ জুন থেকে উত্তর আমেরিকায় (যুক্তরাষ্ট্র,
মেক্সিকো ও কানাডা) শুরু হতে যাচ্ছে ৪৮ দলের এই বিশাল টুর্নামেন্ট। হাতে মাত্র পাঁচ
সপ্তাহ সময় থাকলেও ভারত বা চীনে কোনো চ্যানেল বা ওটিটি প্ল্যাটফর্ম আনুষ্ঠানিকভাবে
খেলা দেখানোর ঘোষণা দেয়নি।
২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে ডিজিটাল এবং
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে বৈশ্বিক মোট দর্শক সময়ের প্রায় ৪৯.৮ শতাংশই ছিল চীন থেকে।
অন্যদিকে, ক্রিকেট পাগল দেশ হওয়া সত্ত্বেও ভারতে ফুটবল বিশ্বকাপের জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী।
বিশেষ করে কাতার বিশ্বকাপে ভারতে ডিজিটাল দর্শক সংখ্যা পূর্বের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছিল।
২০১৮ এবং ২০২২ বিশ্বকাপে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান সিসিটিভি অনেক আগেই
স্বত্ব নিশ্চিত করে প্রোমোশনাল প্রচারণা শুরু করেছিল। কিন্তু এবার এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক
ঘোষণা না আসায় দেশটির ফুটবল ভক্তদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্প্রচার স্বত্বের আকাশচুম্বী
দাম এবং বিজ্ঞাপনের বাজার নিয়ে দর কষাকষির কারণেই এই অচলাবস্থা। ভারতে রিলায়েন্সের
মালিকানাধীন ভায়াকম ১৮ (জাইও সিনেমা) বা ডিজনি স্টার-এর মতো বড় পক্ষগুলো চুক্তির দৌড়ে
থাকলেও ফিফার চড়া মূল্যের কাছে তারা এখনো সম্মতি দেয়নি বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া
উত্তর আমেরিকায় খেলা হওয়ায় ভারত ও চীনের সঙ্গে সময়ের বড় ব্যবধান (টাইম জোন ডিফারেন্স)
একটি বড় চ্যালেঞ্জ। অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ এশীয় দেশগুলোতে ভোরবেলা বা গভীর রাতে
অনুষ্ঠিত হবে, যা বিজ্ঞাপনদাতাদের জন্য কম আকর্ষণীয় হতে পারে। ফলে সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানগুলো
বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগের আগে মুনাফার হিসাব মেলাতে হিমশিম খাচ্ছে।
এক বিবৃতিতে ফিফা বলেছে, “চীন ও ভারতে ২০২৬
ফিফা বিশ্বকাপের মিডিয়া রাইটস বিক্রির বিষয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে। এই মুহূর্তে এই প্রক্রিয়ার
গোপনীয়তা রক্ষা করা জরুরি।” ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সম্প্রতি
বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেও এই দুই বিশাল বাজারে সম্প্রচার নিশ্চিত
করতে না পারা ফিফার জন্য বড় একটি বাণিজ্যিক ধাক্কা হতে পারে।
লজিস্টিক দিক থেকে বিবেচনা করলে, চুক্তির
পর সম্প্রচার অবকাঠামো তৈরি করা এবং বিজ্ঞাপনের স্লট বিক্রি করার জন্য পাঁচ সপ্তাহ
সময় অত্যন্ত নগণ্য। যদি দ্রুত সমাধান না আসে, তবে কোটি কোটি দর্শককে পাইরেটেড বা অবৈধ
স্ট্রিমিংয়ের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে, যা ফিফার জন্য বিশাল আর্থিক ক্ষতির কারণ হবে।
ভারত ও চীনের ফুটবল ভক্তরা এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। শেষ পর্যন্ত
যদি কোনো চুক্তি না হয়, তবে ইতিহাসের সবচেয়ে জনবহুল দুই দেশ ছাড়াই অনুষ্ঠিত হতে পারে
ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই মহোৎসব।
বাংলাদেশর খবর/ এম.আর

