শাকিরা
ফুটবল বিশ্বকাপ আর শাকিরা—এই দুটি নাম যেন একে অপরের পরিপূরক। ফুটবলপ্রেমীদের কাছে বিশ্বকাপের উন্মাদনা মানেই শাকিরার জাদুকরী কণ্ঠ আর নাচের ছন্দ। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও সেই চিরচেনা বিশ্বমঞ্চে ফিরছেন কলম্বিয়ান পপ সুপারস্টার শাকিরা।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে তিনি উন্মোচন করেছেন নতুন অফিসিয়াল গান ‘ডাই ডাই’ -এর টিজার, যা ইতোমধ্যেই নেট দুনিয়ায় তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। নিজের ভেরিফায়েড ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে এক মিনিটের একটি আকর্ষণীয় ভিডিও শেয়ার করে এই বড় ঘোষণা দেন ৪৯ বছর বয়সী এই তারকা।
ভিডিওর ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, “ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়াম থেকে, এই হলো ‘ডাই ডাই’, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের অফিসিয়াল গান।”
ভিডিওটিতে দেখা যায়, ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী
মারাকানা স্টেডিয়ামের সবুজ গালিচায় হলুদ জার্সি ও নীল শর্টস পরে হাতে ফুটবল নিয়ে দাঁড়িয়ে
আছেন শাকিরা। তাকে ঘিরে বিভিন্ন দেশের জাতীয় দলের জার্সির রঙে সজ্জিত একদল নৃত্যশিল্পী
পারফর্ম করছেন। আতশবাজির ঝলকানি আর ‘উই আর রেডি’ (আমরা প্রস্তুত) বার্তার মধ্য
দিয়ে শেষ হয় টিজারটি। ভিডিওতে ২০০৬, ২০১০ ও ২০১৪ বিশ্বকাপের অফিসিয়াল ম্যাচ বলের ফুটেজ
ব্যবহার করে পুরোনো স্মৃতিকেও উসকে দিয়েছেন তিনি।
শাকিরার এই নতুন গানে তার সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন
নাইজেরিয়ান আফ্রোবিটস তারকা ও গ্র্যামি বিজয়ী সংগীতশিল্পী বার্না বয়। টিজারের একটি
অংশে শাকিরাকে গাইতে শোনা যায়, “হেয়ার ইন দিস প্লেস, ইউ বিলং” (এই স্থানেই তোমার অধিকার), যার সাথে ভেসে
আসে একটি দরাজ পুরুষ কণ্ঠ। গানের অন্য একটি অংশে অনুপ্রেরণামূলক পঙক্তি শোনা যায়— “হোয়াট ব্রোক ইউ ওয়ান্স, মেইড ইউ স্ট্রং”
(যা তোমাকে একবার ভেঙেছিল, তাই তোমাকে শক্তিশালী করেছে)। পূর্ণাঙ্গ গানটি আগামী ১৪
মে বিশ্বজুড়ে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।
বিশ্বকাপের গানের সঙ্গে শাকিরার সম্পর্ক
প্রায় দুই দশকের। ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপে ‘হিপস ডোন্ট লাই’ গেয়ে তিনি প্রথম বিশ্বমঞ্চে
আলোড়ন তোলেন। তবে ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের ‘ওয়াকা ওয়াকা (দিস টাইম ফর আফ্রিকা)’ গানটি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা থিম
সং হিসেবে স্বীকৃত। এরপর ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে ‘লা লা লা’ গান দিয়েও দর্শকদের মাতিয়েছিলেন
তিনি।
ভক্তদের মতে, শাকিরা ছাড়া বিশ্বকাপের মিউজিক্যাল
আবহ যেন অপূর্ণ থেকে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন ভক্ত লিখেছেন, “বিশ্বকাপকে বাঁচাতে শেষ পর্যন্ত রানি ফিরে
এসেছেন।”
২০২৬ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে ফুটবলের ইতিহাসে
সবচেয়ে বড় আসর। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দেশ এই টুর্নামেন্টে অংশ নেবে। যৌথভাবে আয়োজক দেশ
হিসেবে থাকছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। টুর্নামেন্ট শুরু হবে ১১ জুন মেক্সিকো
সিটির ঐতিহাসিক অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে এবং ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ১৯ জুলাই নিউ জার্সির
মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। তবে শাকিরার গানটি নিয়ে কিছুটা আলোচনা-বিতর্কও রয়েছে। কারণ, ফিফার
সহযোগী প্রতিষ্ঠান কোকা-কোলা ইতিমধ্যেই একটি ভিন্ন থিম সং প্রকাশ করেছে। সেটি মূলত
ভ্যান হ্যালেনের বিখ্যাত গান ‘জাম্প’-এর একটি নতুন সংস্করণ, যেখানে অংশ নিয়েছেন জে বালভিন, ট্র্যাভিস
বার্কার ও স্টিভ ভাই। কিন্তু ভক্তদের হৃদস্পন্দন যে শাকিরার ‘ডাই ডাই’-এর দিকেই বেশি ঝুঁকছে, তা সামাজিক
মাধ্যমের প্রতিক্রিয়া দেখলেই স্পষ্ট হয়।
শাকিরার এই প্রত্যাবর্তনে ফুটবলার থেকে
শুরু করে সাধারণ সমর্থক—সবার মধ্যেই নতুন উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। পপ সংস্কৃতির সাথে
ফুটবলের এই সেতুবন্ধন ২০২৬ বিশ্বকাপকে আরও রঙিন করে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বয়সের
ছাপকে জয় করে ৪৯ বছর বয়সেও শাকিরার সেই চিরচেনা এনার্জি আর ‘ডাই ডাই’ গানের লয় প্রমাণ করে যে, মাঠের
লড়াই শুরুর আগেই সুরের লড়াইয়ে জয়ী হতে প্রস্তুত এই কলম্বিয়ান সুন্দরী। আগামী ১৪ মে
পুরো গানটি প্রকাশের পর এই উন্মাদনা কোথায় গিয়ে ঠেকে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

