ঘোড়ায় চড়ে হজে যাচ্ছেন স্পেনের ৩ বন্ধু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৫:৩৮

পবিত্র হজ পালন করবেন স্প্যানিশ তিন বন্ধু। এ লক্ষ্যে ঘোড়ায় চড়ে স্পেন থেকে মক্কা মুকাররমার দিকে যাত্রা শুরু করেছেন তারা। এরই মধ্যে পৌঁছে গেছেন তুরস্কের ঐতিহাসিক নগরী ইস্তাম্বুলে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সফর শুরুর দীর্ঘ ১০৫ দিন পর ইস্তাম্বুলে পৌঁছলেন ঘোড়সওয়ার তিন বন্ধু। শহরটিতে প্রবেশের পর এখানকার ‘সাবাহুদ্দীন জাঈম ইউনিভার্সিটি’ একটি অনুষ্ঠানে তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায়।
স্প্যানিশ তিন বন্ধু হলেন- আবদুল্লাহ হার্নান্দেজ, আবদুল কাদের হারকাসি এবং তারিক রদ্রিগেজ। তাদের এরপরের লক্ষ্য ইতালি, স্লোভেনিয়া, ক্রোয়েশিয়া, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, মন্টিনিগ্রো, কসোভো, উত্তর মেসিডোনিয়া, বুলগেরিয়া, গ্রিস এবং তুরস্ক হয়ে সিরিয়ার মধ্য দিয়ে সৌদি আরবে পৌঁছানো।
পবিত্র এ সফরে ঘোড়ার পিঠে চড়ে স্পেন থেকে অন্তত ৮ হাজার কিলোমিটারের (৪৯৭০ মাইল) দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে তাদের মক্কা মুকাররমায় পৌঁছাতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তারা ৫০০ বছরের প্রাচীন আন্দালুসিয়ান মুসলিম ঐতিহ্যকেও পুনরুজ্জীবিত করছেন।
এ প্রসঙ্গে হার্নান্দেজ বলেন, আমি ২৪ বছর বয়সে প্রথম ইসলাম সম্পর্কে জানতে পারি। ভূগোল নিয়ে পড়াশোনা করার সময় আমি বাইবেল এবং পবিত্র কোরআন অধ্যয়ন করেছিলাম এবং আয়াতগুলোকে আমার কাছে বিশেষভাবে আকর্ষণীয় বলে মনে হয়েছিল।
তিনি উল্লেখ করেছেন, ভূগোল পরীক্ষা দেওয়ার আগে তিনি নিজেকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে— পরীক্ষায় পাস করলে তিনি মুসলমান হবেন। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী হার্নান্দেজ ইসলামে প্রবেশ করেন এবং তার পূর্বপুরুষদের মতোই ঘোড়ায় চড়ে মক্কায় হজে যাওয়ার শপথ নেন।
হার্নান্দেজ ব্যাখ্যা করেছেন, তার স্বপ্ন পূরণে হারকাসি এবং রদ্রিগেজও ঘোড়ার চড়ে তার সাথে রওনা হয়েছেন। আর স্পেনে বসবাসকারী নির্মাণকর্মী বোচাইব জাদিল গাড়িতে করে তাদের জন্য লজিস্টিক সহায়তা প্রদান করছেন।
স্প্যানিশ এই তিন হজযাত্রীর একজন হচ্ছেন— আবদুল কাদের হারকাসি। তিনি বলেছেন, হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করতে পেরে তারা খুশি। তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, তারা পবিত্র এই যাত্রার জন্য কয়েক বছর ধরে অর্থ সঞ্চয় করেছেন এবং প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।
নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও হারকাসি জোর দিয়ে বলেন, তাদের যাত্রাটিও দুঃসাহসিকতায় পূর্ণ ছিল। তার ভাষায়, ‘আমরা মজার মজার মুহূর্ত এবং অ্যাডভেঞ্চারে পূর্ণ সময় কাটিয়েছি। আমরা দেখেছি যে, আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন। আমরা হজ আদায় করার বিশুদ্ধ উদ্দেশ্য নিয়ে এই যাত্রা শুরু করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এখন এই যাত্রার অংশ হয়ে গেছি। আমরা বর্তমানে অর্ধেকটা পার করেছি এবং আশা করি, বাকি যাত্রা আরও সহজ হবে।’
স্প্যানিশ ওই তিন বন্ধুর দলটি বলেছে, তারা ইস্তাম্বুলে রমজান মাস কাটাতে চায় এবং সুলতান আহমেদ মসজিদ এবং আয়া সোফিয়া গ্র্যান্ড মসজিদের মতো গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থানগুলো দেখার ইচ্ছা পোষণ করেন।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি ও রাশিয়া টুডে
বিএইচ/