
ছবি : সংগৃহীত
ভূত— ভয়াবহ একটি শব্দ। এটি শোনা মাত্রই আমাদের গা শিউরে উঠে। অনেকে কল্পনায়ও ভূতের নাম আনতে চান না। তবে শুনলে অবাক হবেন, এমন একটি শহর রয়েছে যেখানকার মানুষজন ভূত সেজেই পুরো শহর ঘুরে বেড়ান। চলুন জেনে নিই শহরটির পরিচিতি—
বিশ্বজুড়ে শিবভক্তদের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিবস হলো ‘মহা শিবরাত্রি’। ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দিবসটি বিশেষ আয়োজনে পালন হয়।
তবে বৈদ্যনাথধাম, তারকেশ্বর, বাঁকুড়া ও নদিয়ার মতো স্থানে শিবরাত্রি শুধুমাত্র পূজা-অর্চনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; একটি ব্যতিক্রমী কার্যক্রমের মাধ্যমে দিবসটি পালন করেন তারা।
বৈদ্যনাথধামের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ হলো ‘ভূত বারাতি’। স্থানীয়দের বিশ্বাস, এই রাতে ‘মহাদেব’ তার গণপরিষদ নিয়ে বের হন, আর সেই অনুসরণেই সাধারণ মানুষও ভূত সেজে শহরজুড়ে ঘুরে বেড়ান। শুধু পূজার্চনা নয়, তাদের এই আয়োজনকে ঘিরে থাকে নাচ, গান ও হাস্যরসের মিশ্রণ।
বাংলাদেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছেও বৈদ্যনাথধাম, তারকেশ্বর এবং কামারপুকুরের গুরুত্ব অনেক। শিবরাত্রির দিনে এখানে হাজারো ভক্ত জড়ো হন। ভোর থেকে শুরু হয় জল ঢালা, সংকীর্তন আর উপবাস পালন। কামারপুকুরের যুগী শিব মন্দিরের সঙ্গে শ্রীরামকৃষ্ণের ঐতিহ্য জড়িয়ে থাকায় সেখানে ভক্তদের উন্মাদনা আরও বেশি থাকে।
এ ছাড়া বাঁকুড়ার এক্তেশ্বর মন্দিরে পুণ্যার্থীদের এক দীর্ঘ সারি চোখে পড়ে শিবরাত্রির দিনে। নারীদের মধ্যে এই পূজার প্রতি আলাদা আকর্ষণ দেখা যায়। সন্ধ্যায় মন্দির সেজে ওঠে বিশেষ শৃঙ্গারে, আর তাতে যোগ হয় হাজারো ভক্তের ভালোবাসা।
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, এই রাতে শিবের উপাসনা করলে পাপমোচন হয়, মনের জড়তা দূর হয়। তাই অনেকেই উপবাস রেখে দিনটি পালন করেন।
এটিআর/