সিলেটে ‘সম্মিলিত কওমি ফোরাম’র সদস্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৯:১৫

সিলেটে ‘সম্মিলিত কওমি ফোরাম’-এর সদস্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত। আকাবির-আসলাফের কর্মপদ্ধতি অনুসরণ করে কওমি মাদরাসার স্বকীয়তা, ঐতিহ্য ও চেতনা রক্ষার লক্ষ্যে গঠিত এ সংগঠনের উদ্যোগে সিলেট মহানগরের বন্দরবাজার এলাকার একটি অভিজাত হোটেলে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সোমবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে সম্মেলনের সূচনা হয়। ফোরামের আহ্বায়ক মাওলানা আহমদ কবীর খলীল-এর সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব মাওলানা মিনহাজুর রাহমান ওলি ও যুগ্মসচিব মাওলানা আখতার আহমদ-এর পরিচালনায় সম্মেলনে বক্তব্য দেন, গহরপুর মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন আহমদ রাজু, কাজিরবাজার মাদরাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওলানা শাহ মমশাদ আহমদ, অ্যাডভোকেট মাওলানা মাহমুদুল হাসান, মাওলানা নুমানুল হক চৌধুরী, মাওলানা ইয়াহিয়া খান, মুফতি জিয়াউর রহমান, মাওলানা আহমদ সগীর, মাওলানা জামালুদ্দিন, মুফতি আব্দুল জলিল ফরিদী, মুফতি ইলিয়াস আহমদ ও মাওলানা আশরাফ উদ্দিন চৌধুরী।
এছাড়া বিভাগের নবীন-প্রবীণ আলেম-শিক্ষার্থীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কওমি ফোরামের সদস্যরা সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
এসময় বক্তারা কওমি মাদরাসার ঐতিহ্য, লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন। তারা বলেন, কওমি মাদরাসা হলো ঈমান, ইসলাম এবং দেশ ও জাতি রক্ষার অতন্দ্র প্রহরী তৈরির কারখানা। দারুল উলুম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে উপমহাদেশে এই চিন্তা-চেতনার পথ সৃষ্টি হয়েছিল। কওমি বলতে মূলত দারুল উলুম দেওবন্দের আদর্শে পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং তার চিন্তা-চেতনায় বিশ্বাসী ব্যক্তি ও সমাজকে বোঝানো হয়। এই চিন্তা-চেতনার মূল ভিত্তি হলো খালিস তাওহিদ, ইত্তেবায়ে সুন্নাত, তাআল্লুক মাআল্লাহ এবং এ’লায়ে কালিমাতিল্লাহ।
বক্তারা বলেন, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে কওমি শিক্ষাব্যবস্থা দ্বীনের সঠিক চর্চা, সংরক্ষণ ও প্রচারের দায়িত্ব পালন করছে। এটি কেবল ধর্মীয় শিক্ষার ক্ষেত্রেই নয়, বরং নৈতিকতা, আদর্শ ও সমাজ গঠনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তারা কওমি শিক্ষার ওপর নেমে আসা সংকট নিয়েও আলোচনা করেন। বক্তারা বলেন, একটি মহল কওমি শিক্ষার ভিত্তি দুর্বল করার জন্য ষড়যন্ত্র করছে। কওমি মাদরাসাগুলোকে নেতৃত্বশূন্য করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে কিছু গোষ্ঠী। আকাবির-মুরুব্বিদের প্রভাব ও অভিভাবকত্ব নস্যাৎ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এসব ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে এবং কওমি ঐতিহ্য ও স্বকীয়তা বজায় রাখতে হবে।
সম্মেলনে কওমি শিক্ষার প্রসার, স্বকীয়তা রক্ষা, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং সামাজিক ও ধর্মীয় দিকনির্দেশনা নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
রেজাউল হক ডালিম/এটিআর