Logo

আবহাওয়া

বন্যায় ৫১ মৃত্যু, ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখ

Icon

হাসান রাজীব

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ২১:৩৮

বন্যায় ৫১ মৃত্যু, ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখ

# সাত জেলা বন্যাকবলিত

# সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম

# টানা বর্ষণে স্থবির ঢাকা,ভোগান্তি

# কক্সবাজারে সর্বোচ্চ প্রাণহানি

# পানিবন্দী ২ লাখ ৬৮ হাজার পরিবার

# ১১৩১টি কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন ৪৪৪৫৭ জন

# বন্যাকবলিত ১১ জেলায় বিজিবি মোতায়েন

# সাত জেলায় বরাদ্দ ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা

# ত্রাণসামগ্রী বিতরণ চলছে

# আরও ৫ দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস

দেশের বিভিন্ন এলাকায় টানা অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের কারণে সাত জেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন মানুষ। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবার। এ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ৫১ জন এবং আহত হয়েছেন ৩৯ জন। বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম, এরপর কক্সবাজার, বান্দরবান, খাগড়াছড়িসহ অন্যান্য জেলা। এছাড়া টানা বর্ষণে স্থবির হয়ে পড়ে ঢাকা। জলজট-যানজটে হয় চরম ভোগান্তি।

রোববার দুপুরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ পরিস্থিতি প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বন্যাকবলিত সাত জেলা হলো—চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ। এসব জেলার ৫৮টি উপজেলা, ৩৮৬টি ইউনিয়ন এবং ১১টি পৌরসভা প্লাবিত হয়েছে। দুর্গত মানুষের জন্য ১ হাজার ১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন ৪৪ হাজার ৪৫৭ জন। 

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম। জেলার ১৬টি উপজেলার ১৫২টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় বন্যার প্রভাব পড়েছে। পানিবন্দী হয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫০০ পরিবার এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৫ লাখ ৯৫ হাজার। জেলায় ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ১২ জন। ৬১৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে বর্তমানে ২১ হাজার ৯০০ মানুষ অবস্থান করছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে চাল, নগদ অর্থ, শুকনো ও রান্না করা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।

কক্সবাজারে ১০টি উপজেলার ৭০টি ইউনিয়ন ও চারটি পৌরসভা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানিবন্দী ৩৯ হাজার ৫০৬ পরিবার। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৫৮ হাজার ২৭। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দা ও রোহিঙ্গা মিলে মোট ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে; যার মধ্যে ১৩ জন রোহিঙ্গা। আহত হয়েছেন ২৪ জন, তাঁদের মধ্যেও পাঁচজন রোহিঙ্গা। এ ছাড়া একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। জেলার ২৭টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১ হাজার ৫৮০ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

বান্দরবানে সাতটি উপজেলার ৩৪টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে পানিবন্দী হয়েছে ১২ হাজার ৫০০ পরিবার এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৮৩ হাজার ৫০০। সেখানে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন দুজন। ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন ৬ হাজার ২৫০ জন। রাঙামাটিতে নয়টি উপজেলার ৪৩টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা বন্যাকবলিত হয়েছে। পানিবন্দী ১ হাজার ৪৪টি পরিবার। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৩ হাজার ৫২৪। সেখানে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। ৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ হাজার ৬৩৭ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

খাগড়াছড়ির নয়টি উপজেলার ৩৩টি ইউনিয়ন ও তিনটি পৌরসভা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানিবন্দী হয়েছে ১ হাজার ৭৩টি পরিবার এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৩৪ হাজার ৪১৭। সেখানে একজন আহত হয়েছেন। জেলার ১৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২ হাজার ৮৮৩ জন আশ্রয় নিয়েছেন। মৌলভীবাজারের পাঁচটি উপজেলার ৩১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দী হয়েছে ৭ হাজার ৩০৮ পরিবার। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ২৬ হাজার ৫৪৪। সেখানে একজনের মৃত্যু হয়েছে। জেলার ২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২ হাজার ১৭২ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

হবিগঞ্জের তিনটি উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন বন্যাকবলিত হয়েছে। পানিবন্দী হয়েছে ৬ হাজার ৪৪৪ পরিবার। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ২৮ হাজার ১৪০। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, দুটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হলেও সেখানে এখনো কেউ আশ্রয় নেননি।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ৭ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত সাতটি ক্ষতিগ্রস্ত জেলার জন্য ২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা নগদ এবং ৩ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দেশের ৬৪ জেলার জন্য মানবিক সহায়তা হিসেবে মোট ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং ৮ হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে উদ্ধার, আশ্রয় ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজন অনুযায়ী আরও ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হবে।

টানা বর্ষণে স্থবির ঢাকা: টানা ভারী বর্ষণে গতকাল ভোর থেকেই কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে রাজধানী ঢাকা। নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে হাঁটু থেকে কোথাও কোথাও কোমরসমান পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীরা তীব্র যানজট, গণপরিবহনের সঙ্কট এবং দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে পাড়ি দেওয়ার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

গতকাল ভোর থেকে শুরু হওয়া মুষলধারে বৃষ্টিতে মিরপুর, শেওড়াপাড়া, আগারগাঁও, মোহাম্মদপুর, ফার্মগেট, মালিবাগ, বাড্ডা, যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, শান্তিনগর, গুলিস্তান, মতিঝিল, পল্টন, কাকরাইল, পুরান ঢাকা, ধানমন্ডি, কালশী, হাতিরঝিল, গুলশান লেকপাড়, বারিধারা, কাঁলাচাঁদপুর, মেরুল বাড্ডা, ডিআইটি প্রজেক্ট, খামারবাড়ি, তেজগাঁও, শনির আখড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কে পানি জমে যান চলাচল ব্যাহত হয়। কোথাও কোথাও খোঁড়াখুঁড়ির কারণে রাস্তার একাংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। মতিঝিলের আরামবাগে নটর ডেম কলেজের সামনের সড়ক ও ধানমণ্ডির ২৭ নং সড়ক যেন সমুদ্রে পরিণত হয়েছে।

কক্সবাজারে সর্বোচ্চ প্রাণহানি: মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে কক্সবাজারে। জেলাটিতে ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৫ জন স্থানীয় বাসিন্দা এবং ১৩ জন রোহিঙ্গা। আহত হয়েছেন ২৪ জন। এরমধ্যে ১৯ জন স্থানীয় এবং পাঁচ জন রোহিঙ্গা। নিখোঁজ রয়েছেন আরও একজন।

চট্টগ্রামে ১৩ জনের মৃত্যু এবং ১২ জন আহত হয়েছেন। বান্দরবানে ছয় জন নিহত ও দুই জন আহত হয়েছেন। রাঙামাটিতে তিন জন এবং মৌলভীবাজারে একজনের মৃত্যু হয়েছে। খাগড়াছড়িতে একজন আহত হওয়ার তথ্য দেওয়া হলেও কোনও প্রাণহানির কথা জানানো হয়নি। হবিগঞ্জেও হতাহতের তথ্য নেই।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চট্টগ্রামে পাঁচ লাখ ৯৫ হাজার মানুষ এবং এক লাখ ৪৭ হাজার ৫০০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কক্সবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা এক লাখ ৫৮ হাজার ২৭ এবং পানিবন্দি পরিবারের সংখ্যা ৩৯ হাজার ৫০৬টি। খাগড়াছড়িতে ৩৪ হাজার ৪১৭ জন, হবিগঞ্জে ২৮ হাজার ১৪০ জন, মৌলভীবাজারে ২৬ হাজার ৫৪৪ জন, বান্দরবানে আট হাজার ৩৫০ জন এবং রাঙামাটিতে তিন হাজার ৫২৪ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

আশ্রয়কেন্দ্রে ৪৪ হাজারের বেশি মানুষ: বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিতে সাত জেলায় মোট এক হাজার ১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে ৪৪ হাজার ৪৫৭ জন আশ্রয় নিয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ৬১৮টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে চট্টগ্রামে। এসব কেন্দ্রে ২১ হাজার ৯০০ জন আশ্রয় নিয়েছেন। বান্দরবানের ২২০টি কেন্দ্রে ছয় হাজার ২৫০ জন, রাঙামাটির ৫০টি কেন্দ্রে তিন হাজার ৬৩৭ জন এবং খাগড়াছড়ির ১৫০টি কেন্দ্রে দুই হাজার ৮৮৩ জন আশ্রয় নিয়েছেন। এ ছাড়া মৌলভীবাজারের ২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে দুই হাজার ১৭২ জন এবং কক্সবাজারের ২৭টি কেন্দ্রে এক হাজার ৫৮০ জন আশ্রয় নিয়েছেন। হবিগঞ্জে দুটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হলেও সেখানে আশ্রিত মানুষের সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি।

বিজিবি মোতায়েন ১১ জেলায়: টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল, বন্যা ও ভূমিধসে সৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলায় দেশের ১১টি জেলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের উদ্ধার, নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা, ত্রাণসামগ্রী বিতরণ, জরুরি চিকিৎসাসেবা, ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষায় বিজিবি সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে।

গতকাল বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, বান্দরবান, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, ফেনী, সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও জামালপুর জেলায় মোট ৯০টি পয়েন্টে বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক উদ্ধার ও মানবিক সহায়তাও নিশ্চিত করা হচ্ছে।

বান্দরবানের বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা থেকে এখন পর্যন্ত ১১৬ জন পর্যটকসহ ১২২টি পরিবারের ৬ শতাধিক মানুষকে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে এবং ৪৮ জনকে জরুরি চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে।

সাত জেলায় বরাদ্দ ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ৭ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত বন্যাকবলিত সাত জেলার জন্য মোট এক কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং তিন হাজার ২৫০ মেট্রিক টন চাল ছাড় করা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের জন্য সর্বোচ্চ ৬৫ লাখ টাকা ও এক হাজার ২০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কক্সবাজারের জন্য ৩০ লাখ টাকা ও ৪৫০ মেট্রিক টন চাল, রাঙামাটির জন্য ২৫ লাখ টাকা ও ৫০০ মেট্রিক টন চাল এবং খাগড়াছড়ির জন্য ২০ লাখ টাকা ও ৪০০ মেট্রিক টন চাল ছাড় করা হয়েছে।

বান্দরবানের জন্য ২০ লাখ টাকা ও ৪০০ মেট্রিক টন চাল, মৌলভীবাজারের জন্য ১০ লাখ টাকা ও ২০০ মেট্রিক টন চাল এবং হবিগঞ্জের জন্য ৫ লাখ টাকা ও ১০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে দেশের ৬৪ জেলার জন্য সাধারণ ও দুর্যোগকালীন সহায়তা হিসেবে মোট চার কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং আট হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন চাল ছাড় করেছে মন্ত্রণালয়। বন্যাকবলিত সাত জেলার বাইরে অন্য ৫৭ জেলার জন্য জেলাপ্রতি পাঁচ লাখ টাকা এবং ১০০ মেট্রিক টন চালের সাধারণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

ত্রাণসামগ্রী বিতরণ চলছে: মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চট্টগ্রামে ইতোমধ্যে ৭১০ মেট্রিক টন চাল, ৬০ লাখ টাকা, ৩৯ হাজার ২৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ১৫ হাজার ১০০ প্যাকেট রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। বান্দরবানে ৬৮ মেট্রিক টন চাল, দুই লাখ ৪০ হাজার টাকা, ২৩৫ প্যাকেট শিশুখাদ্য এবং দুই হাজার ৯৫৩ প্যাকেট রান্না করা ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা সেখানে আরও এক হাজার ৮৪৫ প্যাকেট শুকনো খাবার দিয়েছে।

মৌলভীবাজারে এক হাজার ৭৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার, ১১০ মেট্রিক টন চাল ও পাঁচ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। হবিগঞ্জে ১০ মেট্রিক টন চাল, এক লাখ ২০ হাজার টাকা এবং এক হাজার ৪১৭ প্যাকেট শুকনো ও অন্যান্য খাবার বিতরণের তথ্য জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

আরও ৫ দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস: মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আগামী পাঁচ দিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ সময়ে দমকা হাওয়ার সঙ্গে বজ্রসহ বৃষ্টির পাশাপাশি কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে। গতকাল সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়, মৌসুমি বায়ুর অক্ষ ভারতের পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি অংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত প্রসারিত। বর্তমানে বাংলাদেশের ওপর মৌসুমি বায়ু সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে এটি মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।

গতকাল রোববার রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। সোমবার রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় এবং চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের অনেক স্থানে বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে অতি ভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে।

মঙ্গলবার রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের অনেক জায়গায় এবং দেশের অন্যান্য বিভাগের কিছু এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে। এদিন রংপুর ও রাজশাহীর কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। বুধবার দেশের সব বিভাগেই বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে। এদিন তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। বৃহস্পতিবার খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক এলাকায় এবং দেশের অন্যান্য বিভাগের কিছু জায়গায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের এসব বিভাগে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। এদিন দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।


বাংলাদেশের খবর/এইচআর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন