সাগরে একাধিক লঘুচাপের শঙ্কা
চলতি আগস্ট মাসে দেশজুড়ে স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বর্ষার মাঝপথে এসে বঙ্গোপসাগরে দুই থেকে তিনটি মৌসুমি লঘুচাপ বা নিম্নচাপের সৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম’ (বিডব্লিউওটি)।
শনিবার প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানায়, ভারতের উজান এলাকায় ভারী বৃষ্টির কারণে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, সিলেট ও ময়মনসিংহে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এছাড়া খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের নিচু এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে। তবে এ মাসে কোনো ঘূর্ণিঝড় বা তীব্র তাপপ্রবাহের আশঙ্কা নেই। যদিও বৃষ্টির বিরতিতে আর্দ্রতাজনিত ভ্যাপসা গরম অনুভূত হতে পারে।
আগস্টের প্রথম সপ্তাহে (১–৮ আগস্ট) রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে। উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। টানা বর্ষণে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিচু এলাকা প্লাবিত হতে পারে। তবে এ সময় সমুদ্র তুলনামূলক শান্ত থাকতে পারে।
দ্বিতীয় সপ্তাহে (৯–১৬ আগস্ট) খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও ঢাকা বিভাগে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় বঙ্গোপসাগরে একটি মৌসুমি লঘুচাপ বা নিম্নচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর উত্তাল হয়ে সমুদ্রবন্দরে সতর্ক সংকেত জারি করা হতে পারে। পার্বত্য চট্টগ্রামে ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহে (১৭–২৪ আগস্ট) দেশের বেশিরভাগ এলাকায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। সিলেট, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রংপুর বিভাগে ভারী বর্ষণের কারণে কয়েকটি নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে।
মাসের শেষ সপ্তাহে (২৫–৩১ আগস্ট) দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা বেশি থাকবে। খুলনা, বরিশাল, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রামে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হতে পারে। একই সঙ্গে বঙ্গোপসাগরে আরও একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিডব্লিউওটি আরও জানায়, আগস্টের ১৬ তারিখে সংঘটিত হতে যাওয়া পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ এবং ২৮ আগস্টের চন্দ্রগ্রহণ—দুটিই বাংলাদেশ থেকে দেখা যাবে না।
এদিকে, বন্যা পূর্বাভাস সংক্রান্ত সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, উজান থেকে নেমে আসা ভারী পাহাড়ি ঢল এবং দেশের ভেতরে টানা বৃষ্টির কারণে নদীর পানি বিপদসীমার কাছাকাছি চলে আসছে। সুরমা, কুশিয়ারা, তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে সংশ্লিষ্ট নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হয়ে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দেওয়ার চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। যমুনা ও মেঘনা নদী অববাহিকাতেও পানির সমতল স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
উত্তরাঞ্চলের সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় নদী তীরবর্তী এলাকার তথ্য জানিয়ে কর্মকর্তা আরও জানান, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রামসহ সংলগ্ন জেলাগুলোর চর অঞ্চল ও নিচু ভূমিতে পানি প্রবেশ করতে পারে। নদী অববাহিকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সবকটি পয়েন্টে পানি প্রবাহ সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে স্থানীয় জেলা প্রশাসনকে তথ্য সরবরাহ করছে ।
দুর্যোগ মোকাবিলা ও স্থানীয় সুরক্ষার তাগিদ দিয়ে আবহাওয়া ও বন্যা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে প্লাবিত এলাকার পরিসর আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। তারা বলেন, স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগাম প্রস্তুতি হিসেবে আশ্রয়কেন্দ্র ও ত্রাণ সহায়তার ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি। নদী ভাঙন ও ঢলপ্রবণ নিচু এলাকার বাসিন্দাদের প্রয়োজনে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
বাংলাদেশের খবর/এইচআর

