কবি আল মুজাহিদীর জানাজা দুপুরে, দাফন বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:১৪
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে আজ শনিবার (২০ জুন) বাদ জোহর কবি আল মুজাহিদীর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদের সেক্রেটারি ড. মনোয়ারুল ইসলাম এসব কথা জানিয়েছেন। দুপুর ১২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবেও তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
কবির ছেলে শাবিব আল মুজাহিদীর উদ্বৃতি দিয়ে তিনি জানান, গত বুধবার অসুস্থ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় একাধিকবার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়। রক্তে সংক্রমণ, কিডনি ও হৃদযন্ত্রের জটিলতাসহ নানা শারীরিক সমস্যায় তিনি ভুগছিলেন। সর্বশেষ শুক্রবার দুপুরে আবারও কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হলে চিকিৎসকরা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও তা সম্ভব হয়নি।
কবির মেয়ে মারিয়ামা জাবীন আল মুজাহিদী জানান, তার বাবা প্রায় দুই বছর থেকে বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। তার হার্টে দুবার রিং পরানো হয়েছিল। গত বছর জুলাই মাসে চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হন। এরপর তার কিডনিতেও সমস্যা দেখা দেয়।
তিনি আরও জানান, গত ২৩ এপ্রিল তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে ২৬ মে হাসপাতাল থেকে উত্তরার ১০ সেক্টরের নিজ বাসভবনে আনা হয়। পরে আবার অসুস্থ হলে ৪ জুন তাকে উত্তরার ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ সময় চিকিৎসক জানিয়েছিলেন তার কিডনি, হৃদযন্ত্রসহ একাধিক অঙ্গের কার্যকারিতা কমে গেছে। এ অবস্থার আরও অবনতি হলে গত ১৫ জুন তাকে পুনরায় ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরদিন থেকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল।
শুক্রবার বেলা ১টা ৪০ মিনিটে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
১৯৪৩ সালের ১ জানুয়ারি টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর উপজেলার নারুচি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আল মুজাহিদী। তার বাবা আবদুল হালিম জামালী ছিলেন নাট্যকার ও সংগঠক এবং মা সাখিনা খান ছিলেন গীতিকার ও সমাজকর্মী। আল মুজাহিদী ছিলেন একধারে কবি, গবেষক ও সম্পাদক ছিলেন। গত শতকের ষাটের দশকের বাংলা কবিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর হিসেবে বিবেচিত ছিলেন তিনি।
তিনি দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১২ সালে সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন যায়যায় দিন পত্রিকায়। সবশেষ তার সম্পাদনায় প্রকাশিত হতো ষান্মাষিক সাহিত্যপত্র ‘নতুন এক মাত্রা’। তার ২০টির বেশি কাব্যগ্রন্থসহ প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা অর্ধশতাধিক। কবিতার পাশাপাশি উপন্যাস, ছোটগল্প, শিশুতোষ গ্রন্থও লিখেছেন তিনি।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অবদানের জন্য ২০০৩ সালে কবিকে একুশে পদকে ভূষিত করে সরকার। এছাড়া ‘জীবনানন্দ দাশ একাডেমি পুরস্কার’, ‘কবি জসীমউদ্দীন একাডেমি পুরস্কার’, ‘মাইকেল মধুসূদন একাডেমি পুরস্কার’, ‘শেরে বাংলা সংসদ পুরস্কার’ ও ‘জয়বাংলা সাহিত্য পুরস্কার’ পেয়েছেন তিনি।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

