‘মাদক সেবন করায়’ ৪ শিক্ষার্থীকে হলের বাইরে থাকার নির্দেশ

কুবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১০:৩৬

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) সুনীতি শান্তি হলের চার শিক্ষার্থীকে হলের বাইরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তারা হলের কক্ষে মাদক সেবন করেছেন। এ বিষয়ে হলের প্রায় ৫০ জন আবাসিক শিক্ষার্থী একটি লিখিত অভিযোগপত্র হল প্রাধ্যক্ষ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর জমা দেন।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সুনীতি শান্তি হলের পরিস্থিতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চার শিক্ষার্থীকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হলের বাইরে অবস্থান করার জন্য বলেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. মজিবুর রহমান মজুমদারের স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে এ নির্দেশনা নিশ্চিত করা হয়।
অভিযুক্ত চার শিক্ষার্থী হলেন, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের স্নাতকোত্তর ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রাবিনা ঐশী, লাবিবা ইসলাম, ফার্মাসি বিভাগের একই বর্ষের শিক্ষার্থী আতিফা লিয়া ও আইন বিভাগের শিক্ষার্থী মাইশা রহমান রোদিতা।
অভিযুক্ত আতিফা লিয়া বলেন, ‘প্রশাসন আমাদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে ৩টা থেকে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত মিটিং করে একদিনের জন্য হলের বাইরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমি আপাতত আমার বন্ধুর বাসায় আছি, কারণ নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হলে থাকা নিরাপদ মনে হচ্ছে না। আমি ডোপ টেস্ট করেছি। প্রশাসনকে রিপোর্ট দেব।’
রাবিনা ঐশী বলেন, ‘তদন্ত যতদিন চলবে, নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে আমাদের বাইরে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আপাতত আমি বাইরেই আছি।’
আইন বিভাগের শিক্ষার্থী মাইশা রহমান রোদিতা জানান, ‘তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমরা হলের বাইরে থাকার সিদ্ধান্তে রয়েছি।’
ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী লাবিবা ইসলামকে ফোন করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সুনীতি শান্তি হলের প্রাধ্যক্ষ ড. মোসা. শাহীনুর বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।
প্রসঙ্গত, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সুনীতি শান্তি হলের প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী ওই চারজনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগপত্র জমা দেন। যেখানে বলা হয়, ওই শিক্ষার্থীরা হলের কক্ষে মাদক সেবন করে সবার নিরাপত্তা এবং শিক্ষার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন।
এমজে