‘লাল সন্ত্রাস’ চান ছাত্র ইউনিয়ন নেতা, মধ্যরাতে উত্তাল ঢাবি

ঢাবি প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৮ জানুয়ারি ২০২৫, ০৭:৫৭
‘লাল সন্ত্রাসই একমাত্র উপায় বা পথ’ বলে নিজের ফেসবুক ওয়ালে পোস্ট করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি মেঘমল্লার বসু। একই সাথে ইঙ্গিত দিয়েছেন সশস্ত্র যুদ্ধের। এদিকে লাল সন্ত্রাস ও সহিংসতার হুমকি দেওয়ার প্রতিবাদে মধ্যরাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ সমাবেশ করে। এসময় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।
শনিবার (১৮ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলপাড়া থেকে কয়েকশ শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ স্থান প্রদক্ষিণ করে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এক সমাবেশে মিলিত হয়।
এসময় শিক্ষার্থীরা- ‘লাল সন্ত্রাসের গদিতে, আগুন জ্বালো একসাথে’; ‘অ্যাকশন অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’; ‘লাল সন্ত্রাসের/শাহবাগীদের/গাজাখোরদের বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট অ্যাকশান’; ‘লাল সন্ত্রাসের চামড়া, তুলে নেব আমরা’; ‘লাল সন্ত্রাসের ঠিকানা, এ ক্যাম্পাসে হবে না’; ‘উদ্যানের গাজাখোর, উদ্যানে ফিরে যা’; ‘মেঘমল্লারের দুই গালে, জুতা মারো তালে তালে’; ‘হৈ হৈ রৈ রৈ মেঘমল্লার গেলি কই’; ‘জঙ্গি বসুর ঠিকানা এ ক্যাম্পাসে হবে না’- ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।
সমাবেশ শেষে শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল লাইব্রেরি এলাকায় সিরাজ সিকদারের গ্রাফিতিতে জুতা নিক্ষেপ করেন এবং গ্রাফিতি মুছে ফেলেন।
শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের টাইমলাইনে ইংরেজিতে দেওয়া এক পোস্টে ঢাবি ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মেঘমল্লার বসু বলেন, একমাত্র বিকল্প লাল সন্ত্রাস। প্রান্তিক মানুষের স্বার্থে প্রতিরক্ষামূলক সহিংসতা। আমরা জাগরণ ও মিছিল করি যার সহিংস হওয়ার ক্ষমতা নেই। তা দ্বারা আপনি কখনই আপনার কমরেডদের রক্ষা করতে পারবেন না। মানুষ আপনাকে পছন্দ করবেন ঠিকই, কিন্তু কেউ অনুপ্রাণিত হবে না। কারোরই আর ‘মুক্তমনা’ পার্টির দরকার নেই। শহীদদের কেউ পরোয়া করে না। ফ্যাসীবাদ তখনই ভালো যখন সে মৃত।
তিনি ডানপন্থাকে ইঙ্গিত করে আরও বলেন, এই ডানপন্থীদের পাগলামিতে আপনাকে সার্বভৌমত্বের নামে হত্যা করা হবে এবং আপনার চরিত্রকে হত্যা করা হবে। মুক্তমনা এবং 'কেন্দ্রবাদী' যারা তাদের হৃদয় তারা ডানপন্থার কাছে বিক্রি করেছে। তারা দাবি করবে এটি একটি সাংস্কৃতিক যুদ্ধ এবং উভয় পক্ষই কতটা খারাপ। আপনাদের খুব কম বন্ধুই আছে। এমনকি একজনকেও হারানোর সামর্থ্য আপনাদের আর নাই। আর মানুষ ভেড়ার মতো। আপনি কি আজীবন মেষপালক হতে ইচ্ছুক?
গুপ্তরাজনীতীর দিকে ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, প্রকাশ্য বিক্ষোভ করা বন্ধ করুন। প্রকাশ্যে কমিটি দেয়া বন্ধ করুন। আমরা সতর্ক না হলে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাব। দাঁত ও নখর বেরিয়ে আসছে। এভাবেই আপনার পথকে আপনি ব্যাঙ্গ বিদ্রুপ থেকে বাঁচাতে পারবেন। আসুন এটিকে আমাদের গুপ্ত বন্ধুদের কাছে নিয়ে যাই। আমাদের সাথেই থাকুন।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মুসাদ্দিক আলী ইবনে মুহাম্মদ বলেন, এরা ৮০ ও ৯০ এর দশকের মতো আবারও সন্ত্রাসবাদ কায়েম করতে চায়, তারা ডাকসুকে এভাবেই ভন্ডুল করেছিল ৯০ এর দশকে। আজ ওই সন্ত্রাসীরা আবারও সন্ত্রাসবাদের ঘোষণা দিচ্ছে। এই সন্ত্রাসীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করতেই হবে। যখনই দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয় খেয়াল করলে দেখবেন তার পেছনে এই লাল সন্ত্রাসীদের হাত রয়েছে। তারা যুগ যুগ ধরে লাল সন্ত্রাসের ঘোষণা দিয়েছে এবং দিবালোকে মানুষকে হত্যা করেছে। তারা সেই লাল সন্ত্রাসকে পুনরায় কায়েম করতে চায়। এখন ডাকসু নির্বাচল হলে ২টা ভোটও পাবে না, তাই আজকে তারা এমন সন্ত্রাস কায়েমের চেষ্টা করছে। যার ফলশ্রুতিতে তারা সেন্ট্রাল লাইব্রেরির পাশের দেয়ালে শিরাজ সিকদারের গ্রাফিতি এঁকেছে। কেউ যদি এমন সন্ত্রাসের চেষ্টা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের বিষদাঁত ভেঙে ফেলবে।
ঢাবি শিক্ষার্থী এবি জুবায়ের বলেন, ঢাবি ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি দেখলাম সরাসরি লাল সন্ত্রাসের হুমকি দিয়েছেন। এই বক্তব্য জঙ্গিবাদকে উস্কে দেয়। বিক্ষোভ থেকে বলতে চাই এটি সার্বভৌমত্ত্বের উপর আঘাত। তাদেরকে অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে। এনসিটিবির ঘটনার পর একটা গ্রুপ অপরাধীদের বাঁচানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। সেদিন যাদের মদদে হামলা হয়েছে তারাই আজকে লাল সন্ত্রাসের ঘোষণা দিয়েছে। আজকে লাল সন্ত্রাসের ঘোষণা প্রকাশ্যে জঙ্গিবাদের ঘোষণা। যারা লাল সন্ত্রাসের ঘোষণা দিয়ে দেশ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি খারাপ করতে চাচ্ছে তাদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করতে হবে।
সূর্যসেন হলের শিক্ষার্থী আজিজুল হক বলেন, এই সংগঠন আওয়ামী লীগের বি টিম হিসাবে কাজ করেছে। ছাত্রলীগ ছাত্রদল ও শিবিকে দমন করেছে কিন্তু এদেরকে জায়গা দিয়েছে। নতুন এই বাংলাদেশে বলতে চাই নতুন করে কাউকে ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠতে দেওয়া হবে না।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক মাহিন সরকার বলেন, আমরা যখন ক্যাম্পাসে এসেছি সন্ত্রাসীরা একমাত্র এসব বামদের জায়গা করে দিয়েছে। জুলাইয়ের মতো একটি বিপ্লবের পর এখনো দেখছি তারা আওয়ামী ন্যারেটিভকে শক্তিশালী করতে চায়। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে উদ্যানের গেট বন্ধের পর তারা মব করেছে। প্রক্টরের সাথে বাজে ব্যাবহার করেছে। স্বাধীনতা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ে প্রতিটি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে লাল সন্ত্রাসের হাত ছিল। এদেরকে অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে নিশ্চিহ্ন করে দিতে হবে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লাল সন্ত্রাসী মেঘমল্লার বসুকে গ্রেপ্তার করতে হবে৷
ওএফ