বেক্সিমকোর ১৪ কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ, ৯ মার্চ থেকে পাওনা পরিশোধ শুরু

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৫:২৯

গাজীপুরের সারাব এলাকায় অবস্থিত বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেলস বিভাগের ১৪টি কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ৩ মার্চ শুক্রবার থেকে এসব কারখানার সব শ্রমিককে ছাঁটাই করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বেক্সিমকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, কাজের অভাবে গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর এবং চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে কারখানাগুলিতে লে-অফ ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে কাজের সংস্থান না হওয়ায় আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এসব কারখানার শ্রমিকদের স্থায়ীভাবে ছাঁটাই করা হবে এবং কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ছাঁটাইকৃত শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের আইন অনুযায়ী সব পাওনা পরিশোধ করা হবে। আগামী ৯ মার্চ থেকে পর্যায়ক্রমে প্রদান করা হবে পাওনা।
এছাড়া বেক্সিমকোর একাধিক কারখানায় শ্রমিকদের মাসিক বেতন ৬০ কোটি টাকা এবং কর্মকর্তাদের বেতন ১৫ কোটি টাকা হলেও বেতন পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণ প্রদান করে বেতন পরিশোধের ব্যবস্থা করে।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশ সুপার এ কে এম জহিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, বর্তমানে শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছেন এবং কারখানা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সম্প্রতি, হাইকোর্টে একটি রিট শুনানিতে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বেক্সিমকোর ৭৮টি প্রতিষ্ঠানের মোট দায় ৫০ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকা খেলাপি হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতির কারণে প্রতিষ্ঠানটির নতুন ঋণ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
এছাড়া, ১৫ ডিসেম্বর শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা পরিষদের এক সভায় বেক্সিমকোর কারখানাগুলোর শ্রম ও ব্যবসায়িক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। এরপরই ১৬টি কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অর্ডার না থাকা এবং ব্যাংকে ঋণ খেলাপি থাকার কারণে এসব কারখানার কার্যক্রম চালানো সম্ভব হচ্ছে না। বন্ধ হওয়া কারখানাগুলো পুনরায় চালু করার কোনো পরিকল্পনা নেই।
দেলোয়ার হোসেন/এমজে