Logo

সারাদেশ

দাম কম থাকায় আলু বিক্রি করতে পারছেন না চাষিরা

Icon

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৫ মার্চ ২০২৫, ১৭:৪৮

দাম কম থাকায় আলু বিক্রি করতে পারছেন না চাষিরা

ছবি : বাংলাদেশের খবর

বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় আলু চাষে এবারে ফলন ভালো হলেও চাষিরা ভয়াবহ লোকসানের মুখে পড়েছেন। গত বছর আলুর দাম বেশি থাকার কারণে কৃষকরা লাভের আশায় আলু চাষে আরও বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু এবারে খরচের তুলনায় আলুর দাম অনেক কম হওয়ায় চাষিরা ক্ষতির হিসাব গুনছেন।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, শেরপুরে এবার ২ হাজার ৭শ ৬৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রা ২ হাজার ৭শ হেক্টরের চেয়ে বেশি। কিন্তু ফলন ভালো হলেও চাষিদের মুখে হাসির পরিবর্তে চিন্তার ভাঁজ রয়েছে। 

কৃষকরা জানান, এবার আলুর উৎপাদন ভালো হলেও প্রতি বিঘা জমিতে গড়ে প্রায় ১০ হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ হয়েছে। সেই সঙ্গে দাম কম থাকার কারণে তারা তাঁদের উৎপাদিত আলু বিক্রি করতে পারছেন না।

শেরপুর উপজেলার মালিহাটা, বোডেরহাট, আয়রা, উচড়ং এবং কেল্লা এলাকার কৃষকরা জানান, অতিরিক্ত খরচের পরও বাজারে দাম না থাকায় তাদের অবস্থার অবনতি হয়েছে।

মোতালেব হোসেন, বোডেরহাট এলাকার একজন আলু চাষি জানান, তিনি ৪০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন। প্রতি বিঘা জমিতে গড়ে ৬৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তবে উৎপাদন ভালো হলেও বাজারে দাম কম থাকায় তিনি আলু স্টোরেজে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বর্তমানে প্রতি বিঘায় ৯০ থেকে ১২০ মন আলু উৎপাদিত হলেও তিনি দুঃখপ্রকাশ করে বলেন, ‘এবার লাভের পরিবর্তে লোকসান গুনতে হচ্ছে।’

শামিম ও শাফি দুই চাষি ২০০ বিঘারও বেশি জমিতে আলু চাষ করেছিলেন। তারা জানান, ঢাকায় বিক্রির জন্য চাষ করা আলুর ওপর প্রতি বিঘায় গড়ে ১৭ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে। ভালো ফলন হলেও বাজারে দাম কম। প্রতি কেজি আলু এখন বিক্রি হচ্ছে ১২ টাকায়।

কামাল হোসেন, অন্য এক আলু চাষী, ১০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন। লেট ব্রাইট ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে ঘন ঘন কিটনাশক প্রয়োগ করতে হয়েছে, যা খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে। "এবার বিঘা প্রতি ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে, আর এখন লোকসান গুনছি," বলেন তিনি।

শেরপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা জিএম মাসুদ জানান, কৃষকদের সচেতন করতে এবং তাদের ক্ষতির পরিমাণ কমানোর জন্য তারা নিয়মিত পরামর্শ প্রদান করছেন। তিনি বলেন, ‘এখনো পুরোপুরি আলু তোলা হয়নি। আলুর বাজার মূল্য কম থাকলেও যদি পরবর্তী সময়ে বাজারে চাহিদা বাড়ে, তবে দাম বাড়তে পারে।’

কৃষিবিদ ফারজানা আক্তার বলেন, ‘কৃষকরা যাতে ক্ষতির সম্মুখীন না হন সে জন্য সব সময় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এখনো আলু তোলা সম্পূর্ণ শুরু হয়নি। ফলনের বিষয় এখনই বলা যাচ্ছে না। বর্তমানে আলুর বাজার কম হলেও আলু তোলা পুরো দমে শুরু হলে কোন্ড স্টোরেজ ও দেশের বিভিন্ন জায়গায় যাবে, সে ক্ষেত্রে দাম বাড়তে পারে।’

এমজে

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর