স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ : মামলার ৬ দিন পর ঝোপ থেকে বাদীর মরদেহ উদ্ধার

বরগুনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৫, ১৩:২৬

ছবি : বাংলাদেশের খবর
বরগুনায় নিজ বাড়ির পেছনের ঝোপ থেকে মন্টু চন্দ্র দাস (৩৭) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১২ মার্চ) রাত সোয়া ১টার দিকে বরগুনা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কালিবাড়ী এলাকার নিজ বাড়ির পেছনের ঝোপ থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক সুরতহালে এটি হত্যাকাণ্ড বলে মনে করছে পুলিশ।
নিহত মন্টু চন্দ্র দাস একই এলাকার জয়েশ্বর চন্দ্র দাসের ছেলে। তিনি বরগুনা মুরগি বাজারের এক দোকানের কর্মচারী ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, রাত গভীর হলেও মন্টু বাড়ি না ফেরায় স্বজনরা তাকে খুঁজতে বের হন। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে ঝোপের ভেতরে মোবাইলের রিংটোন শুনে তারা মন্টুর মরদেহ দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতের স্বজনদের দাবি, কিছুদিন আগে মন্টুর সপ্তম শ্রেণির পড়ুয়া মেয়ে স্থানীয় বখাটেদের দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়। এ ঘটনায় গত ৫ মার্চ বরগুনা সদর থানায় মামলা দায়ের করেন মন্টু। ওই দিনই প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ এবং পরে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়। এরপর থেকেই মন্টু ও তার পরিবার হুমকির মুখে ছিলেন। ১২ মার্চ মামলার শুনানির দিন ছিল।
নিহতের স্ত্রী শিখা রানী দাস বলেন, রাতে আমাকে কল দিয়ে বলেছিল, আসতে দেরি হবে। কিন্তু রাত গভীর হলেও সে বাসায় ফেরেনি। ফোনে বারবার কল দিলে ঝোপের মধ্যে রিংটোন বাজতে শুনি। আমার স্বামীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।
বরগুনা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আমিনুল ইসলাম স্বপন বলেন, মন্টুর সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের পরিচয়। তিনি খুব ভালো মানুষ ছিল। তার সঙ্গে কারও কোনো শত্রুতা ছিল না। আমি এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের ফাঁসি চাই।
বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান বলেন, খবর পেয়ে আমি ও সদর সার্কেল স্যার ঘটনাস্থলে যাই। প্রাথমিক সুরতহালে এটি হত্যাকাণ্ড বলেই মনে হয়েছে। নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর দাবি, মামলার জেরে মন্টুকে হত্যা করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নাইম/এমবি