বৈষম্যবিরোধীদের অভিযোগ
কুলাউড়া সরকারি কলেজে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগে অনিয়ম

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০২৫, ১১:৫০
-67d3c39945dd0.jpg)
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার প্রাচীন বিদ্যাপীঠ কুলাউড়া সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া অনুলিপি মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক ও কুলাউড়ার ইউএনও বরাবর দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগপত্রে জানানো হয়, কুলাউড়া সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আব্দুল হান্নান ২৪ জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন। ফলে অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ পদ শূন্য হয়ে পড়ে। তার মৃত্যুর পর ২৫ জানুয়ারি কলেজ পরিষদের সম্পাদক মোহাম্মদ মশিউর রহমান মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর পাঁচজন শিক্ষকের নামের একটি আবেদন প্রেরণ করেন।
এতে প্রথম নম্বরে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ আবুল কালাম এবং দ্বিতীয় নম্বরে মো. আব্দুল বাকির নাম উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে তানজিল খান, শামীম আহমদ ও ফারহাদ হোসেন স্বাক্ষরিত অভিযোগে বলা হয়, মোহাম্মদ আবুল কালাম বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সক্রিয় সদস্য এবং জ্যেষ্ঠতা নিয়ে নানা জটিলতা রয়েছে। এ ছাড়া তালিকার দ্বিতীয় ব্যক্তিটি বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সরাসরি জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তারা ৫ আগস্টের আন্দোলনের আগে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের হুমকি-ধামকি দিয়েছেন। এ ছাড়া কলেজে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করে এবং নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত।
তাদের আরও অভিযোগ, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই মোহাম্মদ আবুল কালামকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেয়। এর ফলে কলেজে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। যা সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
অভিযোগকারীরা মনে করেন, কুলাউড়া সরকারি কলেজের মতো একটি খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একজন সৎ ও নিরপেক্ষ ব্যক্তির নিয়োগ প্রয়োজন।
এ বিষয়ে কুলাউড়া সরকারি কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি ও কুলাউড়ার ইউএনও মো. মহি উদ্দিন জানান, তিনি একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। বিষয়টি তার এখতিয়ার বহির্ভূত হলেও, তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন।
মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মো. ইসরাইল হোসেন জানান, তিনি বিষয়টি জানেন না, তবে কুলাউড়ার ইউএনওর মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
- জিয়াউল হক জিয়া/এমজে