দখলদারদের ‘সুবিধা’ দিতে পৌরসভার খাল খনন বন্ধ

লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২ মার্চ ২০২৫, ১৯:৫৪

ভোলার লালমোহনে খাল খননে অনিয়ম ও দায়সারা কাজের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী ও দখলদারদের সুবিধা দিতে লালমোহন পৌরসভার একটি নির্দিষ্ট অংশে খাল খননের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কোথাও নিয়ম অনুযায়ী খাল কাটা হলেও কোথাও প্রভাবশালীদের চাপে ঠিকমতো কাজ করা হচ্ছে না। সবচেয়ে বেশি অনিয়ম দেখা গেছে লালমোহন পৌরসভার প্রায় ১.৫ কিলোমিটার এলাকায়। লালমোহন হাসপাতাল থেকে খাদ্যগুদাম পর্যন্ত খাল খননের কাজ শুরু করা হলেও তা বন্ধ রাখা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রভাবশালী ও অবৈধ দখলদাররা খালের উপর ঘরবাড়ি নির্মাণ করে রেখেছেন। এদের সুবিধা দিতে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। একটি চক্র দখলদারদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা নিয়ে ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে কাজ বন্ধ রেখেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে স্থানীয় জনগণের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, ‘হাসপাতালের আগে আমাদের ঘরবাড়ি উচ্ছেদ করে খাল খনন করা হয়েছে। কিন্তু পৌরসভার ভিতরে হাসপাতাল থেকে খাদ্যগুদাম পর্যন্ত প্রভাবশালীদের দখলে থাকা খাল নিয়ম অনুযায়ী খনন করা হচ্ছে না। এখানে খাল কাটা শুরু হলে দখলকারীরা নিজেদের ঘরবাড়ি ভাঙা শুরু করে। কিন্তু হঠাৎ করেই কোনো কারণ ছাড়াই কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, খালের পাড়ের দখলকৃত ঘরবাড়ি আংশিক ভাঙা হয়েছে। তবে এখন আর নতুন করে ভাঙা হচ্ছে না। অনেকেই আংশিক ভাঙা অংশ রাতের আঁধারে পুনরায় মেরামত করে নিচ্ছেন। গোপন সূত্রে জানা গেছে, প্রভাবশালী একটি মহল দখলদারদের সাথে অবৈধ লেনদেন করে তাদের ঘরবাড়ি না ভাঙার ব্যাপারে তদবির করছেন।
লালমোহন পানি উন্নয়ন উপ-বিভাগ (বাপাউবো) সূত্রে জানা যায়, লালমোহনে মোট ১৯ কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। এর মধ্যে ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের চরমোল্লাজী গ্রাম থেকে লালমোহন লঞ্চঘাট পর্যন্ত খাল খননের কাজ চলছে। খালের প্রস্থ কোথাও ৬০ ফুট এবং কোথাও ৩৫ ফুট কাটার কথা থাকলেও লালমোহন পৌরসভার হাসপাতাল থেকে লঞ্চঘাট পর্যন্ত ৬০ ফুট প্রস্থে খাল কাটার কথা রয়েছে।
খাল খননের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স তাজুল ইসলাম। প্রকল্পের মোট বরাদ্দ ১৮ কোটি ৯৯ লাখ ৭৫ হাজার ৪৬০ টাকা। খনন কাজ শুরু হয় জানুয়ারি ২০২৪ সালে এবং শেষ হওয়ার কথা এপ্রিল ২০২৫ সালে।
লালমোহন পানি উন্নয়ন উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘পৌরসভার ওই এলাকায় রাফ কাটিং করা হয়েছে। এরপর ফাইনাল কাটিং করা হবে। অবৈধ কোনো স্থাপনা থাকলে তা উচ্ছেদ করা হবে।’
লালমোহন পৌরসভার হাসপাতাল থেকে খাদ্যগুদাম পর্যন্ত খাল খনন বন্ধ রাখার বিষয়ে কর্তব্যরত এসও প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘খাল খনন শুরু হলে খাল পাড়ের বাসিন্দারা তাদের রেকর্ডকৃত জমি দাবি করে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাময়িকভাবে খনন বন্ধ রাখতে বলেছেন। তিনি কাগজপত্র দেখে সিদ্ধান্ত দেবেন। তাই এখানে কাজ বন্ধ রেখে অন্য জায়গায় কাজ চলছে। মোট কাজের ৭০ শতাংশ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।’
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার কার্তিক বাবু বলেন, ‘মাটি নরমের কারণে ওই জায়গায় খাল খনন বন্ধ রয়েছে। আমরা অন্য জায়গায় কাজ করছি। এখানকার মাটি শুকালে আবার কাটা হবে।’
লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহ আজিজ বলেন, ‘খাল খনন বন্ধের বিষয়ে আমাকে অফিসিয়ালি কিছু জানানো হয়নি। আমি খাল খনন বন্ধের বিষয়ে কাউকে কিছু বলিনি। খাল কাটার বিষয়ে কিছু অভিযোগ পেয়েছি, সেগুলো বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডে ফরওয়ার্ড করে দিয়েছি। দ্রুত বর্ষার আগেই খাল খনন করা উচিত বলে আমি মনে করি।’
- এস মেজবাহ/এমজে