Logo

সারাদেশ

মোবাইল কেড়ে নেওয়ায় ছুরিকাঘাতে বাবাকে হত্যা

Icon

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৩ মার্চ ২০২৫, ০৮:৩০

মোবাইল কেড়ে নেওয়ায় ছুরিকাঘাতে বাবাকে হত্যা

চুয়াডাঙ্গা পৌর শহরের পলাশপাড়ায় এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। মোবাইল ফোন নিয়ে বিরোধের জেরে নিজ বাবাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে তারই মাদ্রাসা পড়ুয়া ছেলে হাফেজ কেএএম রিফাত (১৭)। 

শনিবার (২২ মার্চ) রাত পৌনে ৮টার দিকে তারাবির নামাজরত অবস্থায় পেছন থেকে ছুরিকাঘাত করে রিফাত। এ সময় তার বাবার চিৎকারে স্থানীয়রা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে নেওয়ার কিছু সময়ের মধ্যে তার মৃত্যু হয়। পরে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

নিহত ওই ব্যক্তির নাম দোদুল হোসেন (৫৩)। তিনি চুয়াডাঙ্গার পলাশপাড়ার বাসিন্দা এবং একসময় ইতালি প্রবাসী ছিলেন। আর তার ছেলে রিফাত চুয়াডাঙ্গা রেলবাজার আলিয়া মাদ্রাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং একজন হাফেজ।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত রিফাতকে আটক করা হয়েছে। 

নিহত দোদুলের মেয়ে ও অভিযুক্ত রিফাতের বোন মোছা. ঋতু জানান, তার ভাই রিফাত মোবাইল আসক্ত হয়ে পড়েছিল। মোবাইলে কোনো গেম না খেললেও সবসময় মোবাইল নিয়ে বসে থাকতো। এ নিয়ে বাবা তাকে নিষেধ করতেন। শনিবার ফজরের নামাজের পর বাবা  রিফাতের মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেন। এতে রিফাত ক্ষুব্ধ হয়।

ঋতু বলেন, ‘রাতে আব্বু তারাবির নামাজ পড়ছিলেন। আম্মু ওজু করছিলেন। আমি পাশের রুমে ছিলাম। হঠাৎ আব্বুর চিৎকার শুনে ছুটে এসে দেখি, রিফাতের হাতে ধারালো ছুরি। সে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করছে, আব্বু ঠেকানোর চেষ্টা করছিলেন। আমি আর আম্মু কোনোরকম ওকে সরিয়ে দিই। এ সময় সে হাতে থাকা ছুরিটি মেঝের ওপর ছুড়ে ফেলে দেয়। ততক্ষণে চিৎকারে পাড়ার লোকজন বাড়িতে ছুটে আসে এবং আব্বুকে হাসপাতালে নিয়ে যায়, কিন্তু কিছুক্ষণ পরই তিনি মারা যান।’

পলাশপাড়ার স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহত দোদুলের বন্ধু হাফিজুর রহমান মুক্ত বলেন, ‘দোদুল আমার বন্ধু, সে শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিলেন। ছেলের মোবাইল আসক্তি নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন তিনি। ভাবতেও পারিনি এমন ঘটনা ঘটবে।’

নিহত দোদুলের অপর বন্ধু ইন্তাজ আলী বলেন, ‘দোদুল আমাদের পাড়ার সবার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতেন। তার ছেলেও ভালো ও ভদ্র ছিল। সে একজন হাফেজও। মাদ্রাসায় লেখাপড়া করে, কিন্তু রিফাত যে এমন কাণ্ড ঘটাবে, তা অকল্পনীয়। ছেলের হাতে বন্ধুকে খুন হতে হবে, তা কখনো ভাবতেও পারিনি।’

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. তারেক জুনায়েদ বলেন, ‘রাত ৮টা ১০ মিনিটের দিকে তাকে হাসপাতালে আনা হয়। তখন তিনি অচেতন ছিলেন। শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল, পিঠে গভীর ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করছি।’

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, ‘ছেলেটির মোবাইল আসক্তি ছিল, তাই বাবা তাকে ফোন ব্যবহার করতে নিষেধ করতেন। ঘটনার দিন ছেলের কাছ থেকে মোবাইল কেড়ে নেওয়ার পর ক্ষিপ্ত হয়ে সে রাতে নামাজরত অবস্থায় বাবাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার পরই রিফাতকে আটক করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।’

ফেরদৌস/বিএইচ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর