
পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে পর্যটকদের ভিড়ে মুখর হবে সাগরকন্যা কুয়াকাটা। পুরো রমজানজুড়ে পর্যটকশূন্য থাকলেও ঈদ উপলক্ষে কুয়াকাটায় পর্যটকদের ঢল নামবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে হোটেল-মোটেলগুলোর ৬০ শতাংশ কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও পৌর কর্তৃপক্ষ নানামুখী প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। এরই মাঝে স্থানীয় স্টেকহোল্ডার, জনপ্রতিনিধি, ট্যুরিস্ট পুলিশ ও ১৬টি পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ঈদকে কেন্দ্র করে কুয়াকাটার আবাসিক হোটেল-মোটেলগুলো নতুন সাজে সেজেছে। পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে রাখাইন মহিলা মার্কেট, ঝিনুক মার্কেট, বার্মিজ আচার, কাঁকড়া ফ্রাইসহ নানা সুস্বাদু খাবারের দোকান। পর্যটকদের ছবি তোলার জন্যও ক্যামেরাম্যানরা প্রস্তুত।
এ ছাড়া দর্শনার্থীদের যাতায়াত সুবিধার জন্য মোটরসাইকেল ও অটোরিকশাচালকরা প্রস্তুত রয়েছেন। সমুদ্রপথে বিভিন্ন দ্বীপ ও বনাঞ্চল ভ্রমণের জন্যও পর্যটকদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ট্যুরিস্ট বোট, স্পিডবোট এবং ওয়াটার বাইক।
কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইব্রাহিম ওয়াহিদ বলেন, ঈদে লম্বা ছুটি থাকায় পর্যটকদের চাপ থাকবে। ইতোমধ্যে ৫০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে। আমরা পর্যটকদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে প্রস্তুত।
ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক)-এর সেক্রেটারি জেনারেল জহিরুল ইসলাম জানান, রমজান মাসজুড়ে কুয়াকাটা ছিল প্রায় পর্যটকশূন্য। সেই সুযোগে হোটেল-মোটেলগুলোকে নতুনভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে। এবার ঈদের ছুটিতে লাখো পর্যটকের আগমন ঘটতে পারে।
হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোতালেব শরিফ বলেন, আমরা আশাবাদী, ঈদের ছুটিতে কুয়াকাটায় বিপুলসংখ্যক পর্যটক আসবেন। এতে কুয়াকাটা তার পুরনো চেহারা ফিরে পাবে, ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি ফুটবে। ইতোমধ্যে হোটেল-মোটেলের ৬০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের ইনচার্জ শাখাওয়াত হোসেন তপু জানান, ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কুয়াকাটার বিভিন্ন স্পটে ট্যুরিস্ট পুলিশের টিম মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে মনিটরিং চালানো হবে।
এটিআর/