লক্ষ্মীপুরে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইলিশ বিক্রি

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৫, ১৩:১০

অভয়াশ্রম সময়ে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে লক্ষ্মীপুর মজুচৌধুরীর হাট এলাকায় তিনটি স্থানে আড়ৎদাররা প্রকাশ্যে ইলিশ মাছ বিক্রি করছেন। মজুচৌধুরীর হাটের আড়ৎদারসহ তাদের সহকারীরা এ তিন স্থানে বাড়তি কমিশন পাওয়ার আশায় প্রকাশ্যে পাইকারিভাবে ইলিশ বিক্রি করতে দেখা গেছে।
বুধবার (২৬ মার্চ) সরেজমিন ঘুরে তিনটি স্থানে অস্থায়ী আড়ৎগুলোতে গিয়ে প্রকাশ্যে ইলিশ মাছ বিক্রির চিত্র দেখা যায়।
ইলিশ মাছ বিক্রির অস্থায়ী আড়ৎগুলো হচ্ছে, মজুচৌধুরীর হাটের কোস্টগার্ডের অফিসের ৫শ গজ পশ্চিমে ক্যাম্পের খাল, সুইচগেটের পশ্চিমে বেদেটেক এবং সুইচগেটের দক্ষিণে মাতাব্বর হাট।
এসব আড়ৎ মালিকেরা হলেন, আওয়ামী লীগ নেতা আলমগীর, বাবুল মেম্বার, ফিরোজ মেম্বার, মাঈন উদ্দীন প্রধান, যুবলীগের রাকিব হোসেন, বিএনপি নেতা মো. হুমায়ুন (মাছঘাট মালিক সমিতির সেক্রেটারি), মো. মিন্টু, স্বেচ্ছাসেবক দলের বাদশা ও আলী হোসেন। তারা তিন জায়গায় অস্থায়ী আড়ৎ দিয়ে পাইকারি ডাকে মাছ বিক্রি করেন।
জানা গেছে, বাড়তি কমিশন পাওয়ার আশায় আড়ৎদাররা দাদন বাবদ এককালীন টাকা নেওয়া জেলেদের নিষিদ্ধ সময়ে নদীতে মাছ ধরতে পাঠান। এতে দু’পক্ষই লাভবান হচ্ছে। বিনষ্ট হচ্ছে মৎস্য সম্পদ।
জেলেদের সূত্রে জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞার আগে আড়ৎ মালিকেরা ডাকে মাছ বিক্রিতে জেলেদের থেকে
কমিশন ৫ শতাংশ নিলেও নিষেধাজ্ঞা সময়ে ২০-২৫ শতাংশ হারে আদায় করছে। এতে জেলেদের সাথে গোপন চুক্তি থাকে প্রশাসনিক জটিলতা ম্যানেজ করা আড়ৎ মালিকদের দায়িত্ব।
আড়ৎ মালিকরা জানান, মাছঘাট মালিক সমিতির সভাপতি ও শাকচর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ওমর ফারুক পিরোনের নেতৃত্বে এসব আড়ৎ পরিচালিত হচ্ছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময়ে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। ইতিমধ্যে বহু জেলেকে জেল-জরিমানা করা হয়েছে। যারা মাছ বিক্রি করছে, অস্থায়ী আড়ৎ খুলছে, সেখানেও অভিযান চলবে।’
প্রসঙ্গত, ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে জাটকা ইলিশ রক্ষায় ১ মার্চ থেকে আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত মেঘনা নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
- মোস্তাফিজুর রহমান টিপু/এমজে