ব্রাহ্মণবাড়িয়া
জাতীয় দিবসে পুষ্পস্তবক অর্পণ না করে সমালোচনার মুখে পুলিশ সুপার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৫, ১৪:৩৮

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মো. এহতেশামুল হক টানা দুই জাতীয় দিবসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন না করায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন। একুশে ফেব্রুয়ারি ও স্বাধীনতা দিবসে তিনি উপস্থিত থাকলেও শহীদ মিনার ও স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেননি।
বুধবার (২৬ মার্চ) মহান স্বাধীনতা দিবসের প্রথম প্রহরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ফারুকী পার্কে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, রাজনৈতিক দল ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। তবে জেলা পুলিশের পক্ষে পুলিশ সুপার এহতেশামুল হক পুষ্পস্তবক অর্পণ না করে দূরে দাঁড়িয়ে কর্মসূচি প্রত্যক্ষ করেন। তার পরিবর্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোছাইন পুলিশের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
এর আগে ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসেও একই ঘটনা ঘটে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দিদারুল আলম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোছাইন শহীদ মিনারে ফুল দিলেও পুলিশ সুপার পুষ্পস্তবক অর্পণ থেকে বিরত থাকেন।
টানা দুই জাতীয় দিবসে পুলিশের সর্বোচ্চ স্থানীয় কর্মকর্তা হিসেবে পুষ্পস্তবক অর্পণ না করায় বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা একে ‘দুঃখজনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি আব্দুন নূর বলেন, ‘একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে তিনি আইন ও রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা মানতে বাধ্য। যদি ধর্মীয় কারণে তিনি শ্রদ্ধা নিবেদন না করে থাকেন, তাহলে তার চাকরিতে থাকা উচিত নয়। এটি রাষ্ট্রীয় আইনের প্রতি অবজ্ঞার প্রকাশ।’
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে পুলিশের দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তিদের জাতীয় দিবসের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন না করার বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সুপার মো. এহতেশামুল হক বলেন, ‘অফিসে আসেন, মোবাইলে বলা যাবে না। রোজার মাসের পরে আসেন, চা খেতে-খেতে বলা যাবে।’
চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আহসান হাবীব পলাশ বলেন, ‘ঐতিহ্যগতভাবে আমরা জাতীয় দিবসে শহীদ মিনার ও স্মৃতিসৌধে গিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে থাকি। এটি আমাদের নিয়মিত প্রথা।’
লিটন হোসাইন জিহাদ/এমজে