বাউফলে পালাগান করতে নিষেধ করায় ৩ জনকে কুপিয়ে জখম

বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০০:২১

পটুয়াখালীর বাউফলে পালাগান করতে নিষেধ করায় তিনজনকে কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (২ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার বাউফল সদর ইউনিয়নের কায়না গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়াতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে ।
আহতরা হলেন- বাউফল সদর ইউনিয়নের কায়না গ্রামের নাসির মৃধা(৪০) ,সোরহাব হাওলাদার(৬০) ও ইউসুফ মৃধা(৬০) ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদের দিন (৩১মার্চ) কায়না জামে মসজিদে ঈদের নামাজের আগে এলাকাবাসীরা পালাগান নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় পালাগান করতে নিষেধ করা হয় । কিন্তু নিষেধজ্ঞা উপেক্ষা করে চুন্নু ও তার লোকজন মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) পালাগানের আয়োজন করে। এতে এলাকার কিছু প্রবীণ ও যুবক আপত্তি জানিয়ে গান বন্ধ করতে বলেন।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বুধবার চুন্নুর নেতৃত্বে- দুলাল, লিটন, জসি মুন্সি, উজ্জ্বল হাওলাদার, আবু কালাম ও শ্রবণসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে নাসির, সোরহাব ও ইউনুস উপর অতর্কিত হামলা চালায়। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চিকিৎসক তাদের বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।
এ ঘটনার পরবর্তীতে গণমাধ্যমকর্মীরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে সেখানে বাউফল সদর ইউনিয়ন যুবদল নেতা ফরিদ গাজী ও তার সহযোগীরা সাংবাদিকদের ভিডিও করতে বাধা দেন। এ সময় গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন হুমকি ধমকি দেন তারা।
আহত নাসির মৃধার চাচা হানিফ মৃধা বলেন, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। মেম্বার মালেক ও চুন্নুর নেতৃত্বে এই গ্রুপটি আধিপত্য বিস্তারের জন্য এই হামলা চালিয়েছে। গতকাল সারারাত তারা গান বাজিয়েছে, এলাকার কিছু প্রবীণ ও যুবক বাধা দেওয়ায় আজ আমাদের ওপর হামলা করা হয়েছে।
বাউফল সদর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মালেক মেম্বার বলেন, আমি সারাদিন এলাকায় যাইনি। এই হামলার ঘটনার সাথে আমি জড়িত না। আমি এ ধরনের মারামারি ও অভদ্র রাজনীতি করি না। আমাকে পূর্বের শত্রুতার জেরে ফাঁসানো হচ্ছে। আমি জানতে পেরেছি মাহবুব আলম চুন্নু ও তার লোকজন এই হামলার সাথে জড়িত। আমি চাই তদন্ত করে প্রকৃত হামলাকারীদের বিচারের আওতায় আনা হোক।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মাহবুব আলম চুন্নুকে একাধিকবার একাধিকবার কল করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি ।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, হাসপাতালে ও ঘটনাস্থলে পুলিশ পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে ।
আরিফুল ইসলাম সাগর/ওএফ