অটোতে ফেলে যাওয়া ১৮ ভরি স্বর্ণালংকার ফিরিয়ে দিলেন শিক্ষার্থী

মাল্টিমিডিয়া করেসপন্ডেন্ট, বগুড়া
প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ১৯:৪৬
-67f1343fa2bcf.jpg)
ছবি : বাংলাদেশের খবর
অটোরিকশায় ফেলে যাওয়া একটি কালো ব্যাগ। যাতে ছিল প্রায় ১৮ ভরি স্বর্ণালংকার ও ১৫ হাজার টাকা। তা মালিকের কাছে ফিরিয়ে দিলেন বগুড়া সরকারি শাহ সুলতান কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র খায়রুল ইসলাম। সংসারের অভাব মেটাতে লেখাপড়ার পাশাপাশি তিনি সিএনজি অটোরিকশা চালান। খায়রুল শহরতলির বেতগাড়ী এলাকায় বসবাস করেন।
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) রাতে বগুড়া সদর থানায় এসে স্বর্ণালংকার ও টাকাসহ ব্যাগটি মালিকের হাতে তুলে দেন তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দিন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২৯ মার্চ) পাবনার ফরিদপুর উপজেলার গোপালনগর গ্রামের স্বর্ণ ব্যবসায়ী শাহিন হোসেন ব্যবসায়িক কাজে বগুড়ায় আসেন। কেনা স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা একটি কালো ব্যাগে ভরে তিনি বিকেলে শহরের সাতমাথা এলাকা থেকে অটোরিকশায় ওঠেন। বনানী এলাকায় পৌঁছে নগরবাড়ীগামী একটি বাস দেখে তিনি দ্রুত রিকশা থেকে নেমে বাসে উঠে পড়েন। পরে শাজাহানপুর এলাকায় গিয়ে বুঝতে পারেন, কালো ব্যাগটি তার সঙ্গে নেই।
ইফতারের বিরতিতে শাহিন বুঝতে পারেন, সোনার গয়নাসহ ব্যাগটি তিনি অটোরিকশায় ফেলে এসেছেন। দিশেহারা হয়ে তিনি তৎক্ষণাৎ বাস থেকে নেমে পড়েন এবং শাহজাহানপুর ও বগুড়া সদর থানায় যোগাযোগ করেন।
অন্যদিকে, খায়রুল ইফতারের জন্য শহরতলির বেতগাড়ী এলাকার বাড়িতে চলে যান। ইফতারের পর রিকশার আসনের পেছনে একটি কালো ব্যাগ দেখতে পান। ব্যাগ খুলে কিছু কাপড়ের নিচে গয়না ও নগদ টাকা দেখতে পেয়ে অবাক হয়ে যান। এরপর আর তল্লাশি চালাতে সাহস পাননি।
খায়রুল বিষয়টি নিয়ে তার মায়ের সঙ্গে পরামর্শ করেন এবং নিজে থেকেই কয়েক দিন ধরে মালিকের খোঁজ করতে থাকেন। শেষে মালিকের খোঁজ না পেয়ে শুক্রবার বিকেলে পুলিশের শরণাপন্ন হন। পুলিশ ব্যাগে থাকা একটি কাগজে লেখা ফোন নম্বরের সূত্র ধরে মালিক শাহিনকে খুঁজে বের করে। পরে রাতে শাহিন থানায় এসে রসিদ যাচাই করে গয়না ও টাকা বুঝে নেন।
ব্যাগ ফিরে পেয়ে শাহিন বলেন, ‘আমি আগে স্বর্ণের দোকানে কর্মচারী ছিলাম। গ্রাহকদের আস্থায় কিছুদিন আগে নিজেই গোপালনগর বাজারে একটি দোকান দেই। গ্রাহকের অর্ডারে বগুড়া থেকে স্বর্ণ কিনে গয়না তৈরি করে সরবরাহ করি। ব্যাগে ২৬ লাখ টাকার গয়না ছিল। ফিরে না পেলে আমি নিঃস্ব হয়ে যেতাম।’
সদর থানার ওসি এস এম মঈনুদ্দিন বলেন, ‘খায়রুলের মতো শিক্ষার্থীরা সমাজের জন্য আশার আলো। সে শুধু সৎ নয়, দায়িত্বশীল ও মানবিকও। তার সততার জন্য আমি তাকে স্যালুট জানাই।’
জুয়েল হাসান/এআরএস