মোরেলগঞ্জে ডায়রিয়ার ভয়াবহ প্রকোপ, স্যালাইন-বিশুদ্ধ পানির সংকট

সাইফুল ইসলাম কবির, মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট)
প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ২০:০৪
-67f138702a2ea.jpg)
ছবি : বাংলাদেশের খবর
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডায়রিয়ার প্রকোপ দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। ঈদুল ফিতরের পর গত ছয় দিনে শিশুসহ বৃদ্ধরা ব্যাপক হারে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। এ পর্যন্ত ১৬০ জন রোগী হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন।
হাসপাতালে কলেরা স্যালাইন ও খাবার স্যালাইনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। রোগীদের বাইরে থেকে স্যালাইন কিনে আনতে হচ্ছে। গোটা হাসপাতালে বিশুদ্ধ পানিরও তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে করে রোগীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় তীব্র গরম ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ১৬০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে বেশিরভাগই শিশু ও বৃদ্ধ।
বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের মধ্যে রয়েছেন ভাইজোড়া গ্রামের বজলু খান (৫৫), পশ্চিম সরালিয়া গ্রামের মোস্তফা শেখ (৭০), উত্তর সরালিয়ার শিশু আলফি (১০), বদনীভাঙ্গা গ্রামের লাইজু আক্তার (২৫), চুমকি আক্তার (১৬), আবদুল্লাহ (১৩ মাস), আবদুল আলিম (৪), ফাতেমা (৩), কহিনুর বেগম (৫০), ছালমা আক্তার (২২), ছবুর হাওলাদার (৪৩), নুরুন্নাহার বেগম (৫৩), জাহানারা বেগম (৪০), সাদিয়া (১৯), কহিনুর খাতুন (৪৫) সহ প্রায় ১৫০ জন। কিছু রোগী ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
চিকিৎসাধীন মোস্তফা শেখ, বজলু খান ও জাহানারা বেগমসহ একাধিক রোগী অভিযোগ করেন, ‘হাসপাতালে বিশুদ্ধ পানি নেই, সামান্য কিছু স্যালাইন দেওয়া হলেও বেশিরভাগ সময় বাইরে থেকে স্যালাইন কিনে আনতে হচ্ছে। ডাক্তাররাও বাইরে থেকে স্যালাইন আনতে বলছেন।’
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক ডা. নাদিরুজ্জামান আকাশ বলেন, ‘স্যালাইনের সংকট চলছে। আমরা হিমশিম খাচ্ছি। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না থাকায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। আমরা চাহিদা পাঠালেও অল্প সরবরাহ দেওয়া হয়। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে সংকট কেটে যাবে।’
স্থানীয় ফার্মেসিগুলোর মালিকরা জানিয়েছেন, অপসো, ওরিয়ন, লিবরা ও পপুলার নামক প্রতিষ্ঠানগুলো ইনজেক্টেবল স্যালাইন সরবরাহ করে। তবে গত তিন মাস ধরে তারা চাহিদা অনুযায়ী স্যালাইন দিচ্ছে না। ফলে ফার্মেসিগুলোতেও স্যালাইনের ঘাটতি চলছে।
মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘হাসপাতালে কলেরা স্যালাইনের পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই, এজন্য রোগীদের বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। এক মাস আগেই স্যালাইনের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। পানির সংকটের কারণ হিসেবে তিনি জানান, নতুন ভবনের নির্মাণকাজ চলায় তিনটি ফিল্টারের মধ্যে দুটি বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করতে পারেনি। একটি ফিল্টারের পানিও শেষ হয়ে গেছে। নতুন করে বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত পানি সংকট কাটবে না।’
এআরএস