Logo

সারাদেশ

অভিযোগ দিতে যাওয়ার পথে তুলে নিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম

Icon

মাল্টিমিডিয়া করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশ: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৪, ২১:২৬

অভিযোগ দিতে যাওয়ার পথে তুলে নিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম

আদালতের আদেশ অমান্য করে মো. সোহাগ তালুকদার ও তার সহযোগীরা ধান কেটে নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় মামলার বাদী মো. সেলিম থানায় অভিযোগ দিতে যাওয়ার পথে আসামিরা তাকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করেছে।

সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) বিকেলে বরগুনার আমতলী সাংবাদিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন মামলার বাদী মো. সেলিম। 

প্রভাবশালী সন্ত্রাসীদের ভয়ে তিনি ও তার পরিবার পালিয়ে বেড়াচ্ছের। পুলিশ প্রশাসনে কাছে এদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মো. সেলিম বলেন, আমতলী উপজেলার আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের ঘোপখালী এলাকায় আমার ৯.২০ একর জমি মো. সোহাগ তালুকদার, এরশাদ তালুকদার, তোফাজ্জেল তালুকদার, জাহাঙ্গির তালুকদার, বাবুল হোসেন, বাছির তালুকদার ও ইউসুফ আকন জোরপূর্বক ভোগদখল করে আসছে।

তিনি আরও জানান, এই জমি নিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তিনি একটি মামলা দায়ের করেন। আদালতের বিচারক মুহাম্মদ আশরাফুল আলম মামলাটি আমলে নিয়ে ওই জমির ওপর বিবাদীদের প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। কিন্তু আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গত ১৭ ডিসেম্বর ওই বিরোধীয় জমির ধান কেটে নিয়ে যায়। তিনি বলেন, আমি হতদরিদ্র মানুষ ধান কাটতে বাঁধা দিতে পারিনি। 

সেলিম বলেন, গত ১৮ ডিসেম্বর আমি আমতলী থানায় অভিযোগ দিতে যাওয়ার পথে আমাকে বিবাদীরা ও তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী আব্দুল লতিফ গাজী, সুলতান আহমেদ, সেরাজ উদ্দিন গাজী ও আলতাফ মীর আমাকে তুলে নেয়। পরে তারা লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে আমার কোমড়ে গুরুতর জখম করেছে। পরে তারা আমাকে ফেলে রেখে চলে যায়। ওই সময় তারা এ বিষয় নিয়ে থানায় মামলা করলে আমাকে খুন ও পরিবারের নারী সদস্যদের ধর্ষণ ও অ্যাসিড মেরে জলসে দেয়ার হুমকি দিয়ে চলে যায়। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। ওই হাসপাতালে আমি চিকিৎসাধীন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাসীদের ভয়ে আমি পরিবারসহ পালিয়ে বেড়াচ্ছি। বাড়িতে যেতে পারছি না। থানায় অভিযোগ দেয়ার সাহস পাচ্ছি না। 

পুলিশ প্রশাসনে কাছে এদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন কহিনুর বেগম, মরিয়ম বেগম ও সীমা আক্তার।

এ বিষয়ে সোহাগ তালুকদার মারধরের কথা অস্বীকার করে বলেন, আমাদের জমির ধান আমরা কেটে নিয়েছি।

আমতলী থানার এএসআই হারাধন চন্দ্র বাইন বলেন, আদালতের আদেশ মতে উভয় পক্ষকে শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় নোটিশ দিয়েছি। কিন্তু বিবাদী পক্ষ আদালতের আদেশ অমান্য করে জমির ধান কেটে নিয়েছেন।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মনিরুজ্জামান খাঁন বলেন, আহত সেলিমকে যথাযথ চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। তার শরীরে বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুল ইসলাম আরিফ বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

কাওসার মাদবার/এমবি 

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর