Logo

সারাদেশ

অ্যাসিডদ্বগ্ধ মিলির মৃত্যু, শেষ হলো ১০ মাসের অসহনীয় যন্ত্রণা

Icon

চাঁদপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪, ১৩:৪৬

অ্যাসিডদ্বগ্ধ মিলির মৃত্যু, শেষ হলো ১০ মাসের অসহনীয় যন্ত্রণা

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় অ্যাসিডে দগ্ধ হওয়ার ১০ মাস ৫ দিন পর গৃহবধূ মিলি আক্তার (২০) মারা গেছেন। 

সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) বিকেলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সন্ধ্যায় মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হক বিষয়টি তথ্য নিশ্চিত করেন।

মিলি আক্তার মতলব উত্তরের ইসলামাবাদ ইউনিয়নের পশ্চিম সুজাতপুর গ্রামের আয়ুব আলীর মেয়ে। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে তার ওপর অ্যাসিড নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। ওই সময় তিনি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি সন্তান জন্ম দিয়েছিলেন।

মামলার অভিযোগপত্র ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মিলিকে পাশের মমরুজকান্দি গ্রামের সফিকুল ইসলাম ওরফে মানিক প্রায়ই উত্যক্ত করতেন। পরে মিলির অন্যত্র বিয়ে হয়ে গেলে সফিকুল ক্ষিপ্ত হন। বিয়ের পর স্বামী বিদেশ থাকায় মিলি বাবার বাড়িতে থাকতেন। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টায় সফিকুল ইসলাম তার আরেক বন্ধু জাহিদকে সঙ্গে নিয়ে মিলিকে অ্যাসিড নিক্ষেপ করেন। এতে মিলির মুখ, বুক, পিঠ ও হাত ঝলসে যায়। এ সময় মিলির মা রাশেদা বেগমেরও (৫৫) হাত ও ঊরু ঝলসে যায়।

পরে তাদের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে মিলিকে ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে মিলিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এনে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। ১০ মাস ৫ দিন পর সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

ওই সময় এ ঘটনায় মিলির বাবা আইয়ুব আলী বাদী হয়ে সফিকুল ইসলাম ও জাহিদকে আসামি করে মতলব উত্তর থানায় মামলা করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মিজানুর রহমান বলেন, অ্যাসিড নিক্ষেপের ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী সফিকুল ইসলাম ও তার সহযোগী জাহিদকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। পরে দুজনই চাঁদপুরের ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দেন। মামলার অভিযোগপত্রও আদালতে দাখিল করা হয়েছে।

মিলির বাবা আইয়ুব আলী বলেন, আমার মেয়েটাকে বাঁচানো গেল না। আমাদের সবাইকে ফাঁকি দিয়ে সে পরপারে চলে গেল। তাকে বাঁচানোর জন্য অনেক চেষ্টা করেছিলাম। অনেক টাকাও খরচ করেছি। কোনো লাভ হলো না। মেয়েকে হারিয়ে আমি এখন সর্বস্বান্ত। আমার সব শেষ হয়ে গেল। যারা তারে অ্যাসিড মারছে তাদের ফাঁসি চাই।

আলআমিন ভূঁইয়া/এমজে/ওএফ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর