জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, বিএনপি জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার পদটি জামায়াতকে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে, তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তারা প্রস্তাব জমা দেয়নি।
রোববার (৮ মার্চ) সুনামগঞ্জ জেলা জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে শহরের একটি রেস্তোরাঁয় অনুষ্ঠিত “রমজানের তাৎপর্য” শীর্ষক আলোচনা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
জুবায়ের বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব পাইনি। আমরা স্পষ্ট করতে চাই, জুলাই সনদের আলোকে যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, তাতে দুই কক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্ট হবে। পার্লামেন্টের উচ্চ ও নিম্ন কক্ষে দুজন করে ডেপুটি স্পিকার থাকবেন এবং দুজনই বিরোধী দল পাবে।”
তিনি আরও বলেন, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখিত দুইজন ডেপুটি স্পিকার নিয়েও বিভ্রান্তি রয়েছে। জুবায়ের বলেন, “আমরা মিডিয়া সেলের দায়িত্বে থাকায় প্রতিদিনই ১৫-২০টি মিডিয়াকে ইন্টারভিউ দিতে হয়। কিন্তু প্রস্তাবটি আমরা এখনো পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারিনি। এটা কি জুলাই সনদের আলোকে নাকি বিএনপির ইশতেহারের আলোকে—সেটিই আমাদের জানতে হবে, তারপর সিদ্ধান্ত জানাবো।”
জনগণের প্রতি গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “জনগণকে নিয়ে তামাশার দিন শেষ। সামনের বাংলাদেশ একটি অর্থবহ নির্বাচনের মাধ্যমে যারা নির্বাচিত হয়েছে, তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। জাতীয় সংসদকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে হবে।”
গণভোট প্রসঙ্গে জুবায়ের বলেন, “গণভোট নিয়ে টালবাহানা শুরু হয়েছে। রাষ্ট্র ব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তনে গণভোট পাস হয়। গণভোটই সরকারকে আইনি ভিত্তি দিতে পারে। কিন্তু এটি হাইকোর্টে রিটে আটকা পড়েছে। জামায়াত দুটি শপথ নিয়েছে, সরকারি দল নেয়নি। গণভোট না মানা মানে জাতির সঙ্গে তামাশা করা।”
সভায় জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা তোফায়েল আহ্মেদ খাঁনের সভাপতিত্বে এবং সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট নুরুল আলমের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট শামস উদ্দিন, জেলা সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুল্লাহ, জেলা নায়েবে আমির মোমতাজুল হাসান আবেদ, খেলাফত মজলিসের সহসাধারণ সম্পাদক মাওলানা সাজাউর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আক্তার হোসেন, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, সমাজসেবক দেওয়ান গণিউল সালাদীন, জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ফারহান শাহরিয়ার ফাহিম প্রমুখ।

