ছবি: সংগৃহীত
বাগেরহাটের রামপালের আহাদুর রহমান সাব্বির ও খুলনার কয়রা উপজেলার মারজিয়া আক্তার মিতুর বুধবার রাতে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। দুই পরিবারের মধ্যে বিরাজ করছিল আনন্দঘন ও উৎসবের পরিবেশ। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকাল ১১টায় বিয়ের গাড়িতে চড়ে কয়রা থেকে রওনা দেন দুই পরিবারের সদস্যরা। বিকেলে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টির মধ্যেই রামপালের বেলাইব্রিজ এলাকায় নৌবাহিনীর একটি বাস ও বিয়ের মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে।
এতে মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই কয়েকজন মারা যান। মুমূর্ষু অবস্থায় অন্যদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় শুধু বর আর কনেই নয়, মারা যান গাড়ি চালকসহ দুই পরিবারের ১৪ জন সদস্য।
নিহত দুই পরিবারের সদস্যরা হলেন— বর-এর বাবা বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাক, তার দুই ছেলে বর আহাদুর রহমান সাব্বির ও আব্দুল্লাহ, পুত্রবধূ পুতুল বেগম ও তার তিন সন্তান আলিফ, আরফা ও ইরাম, মেয়ে ঐশী বেগম, জামাই হোসাইন ও নাতি আল সামিউল ফাহিম, কনে মারজিয়া আক্তার মিতু, তার বোন লামিয়া, নানী আনোয়ারা বেগম, দাদি রাশিদা বেগম এবং গাড়িচালক নাঈম শেখ।
নিহত কনে মার্জিয়া আক্তার মিতুর মামা আবু তাহের বলেন, “কয়রা উপজেলার নাকশায় আজ দুপুরে তার ভাগনির বিয়ে হয়। মার্জিয়ার শ্বশুরবাড়ি মোংলার শেলাবুনিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয় বরযাত্রীদের মাইক্রোবাসটি। বিকেল ৪টার পর জানতে পেরেছি রামপালের কাছাকাছি দুর্ঘটনা ঘটে।”
কনে মার্জিয়া আক্তার মিতুর বাবা ছালাম মোড়ল বলেন, “মেয়ের বিয়ে হয়েছে বুধবার রাতে। আজ সকাল ১১টার দিকে বাড়ি থেকে রওনা দেয়। দুর্ঘটনায় আমার মা রাশিদা বেগম, শাশুড়ি আনোয়ারা বেগম, আমার মেয়ে মার্জিয়া আক্তার মিতু ও লামিয়া মারা যান।”
কাটাখালী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কে এম হাসানুজ্জামান জানান, “নৌবাহিনীর যাত্রীবাহী বাসটি খুলনার দিকে যাচ্ছিল। আর বিয়ের মাইক্রোবাসটি ছিল মোংলা অভিমুখে। পথিমধ্যে বেলাইব্রিজ এলাকায় দুটি যানবাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।”
রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুকান্ত কুমার পাল জানান, “দুর্ঘটনায় ৪ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। আমাদের এখানে ৪টি মরদেহ রয়েছে।”
রাত ৯টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মাসরুর আহসান বলেন, “এখন পর্যন্ত হাসপাতালে ৯ জনের মরদেহ এসেছে। পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়।”
গাড়িচালক নাঈমের এক বন্ধু বলেন, “বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ফলতিতা বাজার ক্রস করছিলাম। তখন ফোন আসে, রামপালে নাঈম অ্যাক্সিডেন্ট করেছে। পরবর্তীতে গ্রুপে জানাই। পরে জানতে পারি নৌবাহিনীর গাড়ির সঙ্গে নাঈমের গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছে। ঘটনা শুনে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসি। এসে দেখি, সে মারা গেছে।”
এএস/

