Logo

সারাদেশ

বর্তমান পোশাকে পুলিশ সদস্যরা সন্তুষ্ট নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Icon

রাজশাহী ব্যুরো

প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৯:১৩

বর্তমান পোশাকে পুলিশ সদস্যরা সন্তুষ্ট নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বর্তমান (নতুন) পোশাকে পুলিশ বাহিনী সন্তুষ্ট নয়, সুতরাং যাতে আগের ঐতিহ্যমণ্ডিত যেকোনো একটি পোশাক যাতে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী পায় সেজন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। 

শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে রাজশাহীতে পুলিশ একাডেমি সারদায় ৪৩তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের এক বছর মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে সারদার প্যারেড গ্রাউন্ডে এই অনুষ্ঠানে অভিবাদন গ্রহণ ও প্যারেড পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। এরপর শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার ক্যাডেটদের কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও পুরস্কার প্রদান করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের একটি প্রত্যাশা আছে, আবেদন আছে। সর্বস্তরের পুলিশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে যেটা অনুধাবন করেছি তা হলো বর্তমানের যে পোশাক, এই পোশাকে পুলিশ সদস্যরা সন্তুষ্ট নয়। সুতরাং ঐতিহ্য মন্ডিত যেকোনো একটি পোশাক পুলিশ বাহিনী পায় সেজন্য সরকারের সর্বোচ্চ মহলে আলোচনা করে একটি সিদ্ধান্ত দেব ইনশাআল্লাহ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে পুলিশ কোন বিশেষ দল বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী নয় বরং জনগণের বন্ধু। আমাদের নির্বাচনি ইশতেহারে ঘোষণা করেছি জননিরাপত্তা নিশ্চিত এবং পুলিশ বাহিনীকে দলীয় প্রভাব মুক্ত করে একটি আধুনিক সেবাধর্মী ও মানবিক সংস্থা রূপান্তর করাই মূল লক্ষ্য। সেজন্য পুলিশ বাহিনীর মনোভাব প্রতিষ্ঠাসহ একটি দক্ষ ও আধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার ইতোমধ্যে জনবল বৃদ্ধিসহ নানা উদ্যোগ নিয়েছে। 

মন্ত্রী বলেন, দেশ বর্তমানে একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই রূপান্তরকালে পুলিশের দায়িত্ব আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। এজন্য বাহিনীর সদস্যদের সততা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। পাশাপাশি তাদের আচরণ হতে হবে মানবিক এবং আইনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাশীল। চেইন অব কমান্ড, শৃঙ্খলা, আনুগত্য ও সমন্বিত নেতৃত্ব একটি বাহিনীর মূল শক্তি। আইনের চোখে সবাই সমান- সে রাজনৈতিক কর্মী হোক বা সাধারণ কৃষক।

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশের ভূমিকা অগ্রগণ্য বর্ণনা করে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার পুলিশকে কোনো বিশেষ দল বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে নয় বরং একটি আধুনিক, সেবাধর্মী ও মানবিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। এ লক্ষ্য অর্জনে জনবল বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন উদ্যোগ এরই মধ্যে নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী পুলিশ সংস্কার কমিশন গঠনের কাজ চলছে, যার প্রধান লক্ষ্য হবে পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা।

বক্তব্যের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধের শহীদ, স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী, মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক জিয়াউর রহমান এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

এর আগে তিনি শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের অভিবাদন গ্রহণ ও প্যারেড পরিদর্শন করেন। পরে প্রশিক্ষণে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে কৃতিত্ব অর্জনকারীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।

২০২৫ সালের ১ মার্চ শুরু হওয়া এই প্রশিক্ষণে মোট ৮০ জন কর্মকর্তা অংশ নেন। এর মধ্যে ৭২ জন সফলভাবে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। উত্তীর্ণদের মধ্যে নারী ক্যাডার ছয়জন এবং পুরুষ ক্যাডার ৬৬ জন।

অনুষ্ঠানে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল অ্যাডিশনাল আইজিপি জিএম আজিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, পুলিশ সদস্যদের বছরে পাঁচ সেট পোশাক দেওয়া হয় সরকারিভাবে। প্রায় ২১ বছর পর অন্তর্বর্তী সরকারে সময় পোশাকে পরিবর্তন আনা হয়। এর আগে ২০০৪ সালে পোশাক পরিবর্তন করা হয়েছিল।

অন্তর্বর্তী সরকার এসে পুলিশ, র‌্যাব ও অঙ্গীভূত আনসারের পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। গত জানুয়ারিতে এই তিন বাহিনীর জন্য নতুন পোশাক ঠিক করা হয়েছিল। তখন সমালোচনা হলে র‌্যাব ও অঙ্গীভূত আনসারের পোশাকে আর পরিবর্তন আনা হয়নি।

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন