দুঃখকষ্ট ভুলতে ভিডিও করি, ট্রোল করবেন না: তাইজুল ইসলাম
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৫:৫৫
ছবি: সংগৃহীত
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার প্রত্যন্ত এক চরাঞ্চলের যুবক তাইজুল ইসলাম তাজু (৩০)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে এ পরিচয়কে ছাপিয়ে বর্তমানে তিনি ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে অধিক পরিচিত। এই নামেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তার একটি পেজ রয়েছে।
এবারের মহান স্বাধীনতা দিবসে স্থানীয় একটি বাজারে জিলাপির দাম নিয়ে করা সেই পেজের একটি ভিডিও তাকে এনে দিয়েছে ব্যাপক পরিচিতি।
২৬ মার্চ উপজেলার নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে মোবাইল ফোনে ওই ভিডিও ধারণ করেন তাইজুল। এতে দেখা যায়, তাইজুল ইসলাম দোকানিকে জিজ্ঞাসা করছেন, জিলাপি কত দামে বিক্রি হচ্ছে, তা কি সরকারি দরের সঙ্গে মিলছে। সরল ও ভাঙা ভাঙা এ সংলাপই দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে। কয়েক দিনের মধ্যেই ভিডিওটির ভিউ হয়েছে প্রায় ৫৯ লাখ (মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ সকাল পর্যন্ত)।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার আগে ‘তাজু ভাই ২.০’ ফেসবুক পেজের অনুসারী ছিল প্রায় ছয় হাজার। এখন সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় তিন লাখে। কেউ তার ব্যতিক্রমী উপস্থাপনাকে নিখাদ বিনোদন হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ ব্যঙ্গবিদ্রূপও করছেন। তবে আলোচনা-সমালোচনায় থাকা মানুষটির জীবনবাস্তবতা ভিন্ন।
তাইজুলের বাড়ি নাগেশ্বরী উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত নারায়ণপুর ইউনিয়নের সরকারপাড়া গ্রামে। ছয় ভাই-বোনের সংসারে সবার বড় এবং একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তিনি। অভাব-অনটনের কারণে কখনো বিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ হয়নি।
সর্বশেষ রাজধানীতে রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন। এই কাজের ফাঁকে শখের বশে গ্রামে ফিরে মোবাইল ফোনে ধারণ করতেন নানা ভিডিও। তাইজুলের বক্তব্য, ‘আমার মা–বাবা অসুস্থ, দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবারের দুঃখকষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি কোনো সাংবাদিক না।’
তাইজুলের দাবি, ভিডিও করার পেছনে আরেকটি উদ্দেশ্যও আছে, সেটি হলো নিজ চরাঞ্চলের মানুষের কথা, দুঃখ-দুর্দশা ইত্যাদি তুলে ধরা। জেলা শহরের সাংবাদিকেরা তার এলাকায় তেমন যান না। তিনি চান, তার ভিডিওর মাধ্যমে বাইরের মানুষ এলাকাটির খবর জানুক।
নিজেকে ‘বোকাসোকা মানুষ’ উল্লেখ করে তাইজুল বলেন, ভুল হলে তিনি তা স্বীকার করতে প্রস্তুত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল বা ব্যঙ্গ তাকে খুব একটা কষ্ট দেয় না। বরং তার চাওয়া, চরের মানুষের কথা সবাই জানুক। চরের মানুষের উন্নয়ন হোক।
নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কবিরুল ইসলাম বলেন, তাইজুল কাজের পাশাপাশি বিনোদনমূলক ভিডিও তৈরি করেন। তার ভিডিওর আড়ালে এলাকার উন্নয়নবঞ্চনার কথাও উঠে আসে।
কবিরুল ইসলাম বলেন, ‘অনেকে নানা কিছু করে ভাইরাল হচ্ছেন। কিন্তু তাইজুল উন্নয়নবঞ্চিত এলাকার ভিডিও করে ভাইরাল হয়েছে, এটা আমাদের জন্য গর্বের।’
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

